২-৩ মাসের মধ্যে ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে ফিরছে ওয়াটার বাস

ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আবারও ওয়াটার বাস চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে নতুন ব্যবস্থাপনায় এই সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকায় এবার নতুন পদ্ধতিতে ওয়াটার বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের আশা, বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে ঢাকার মানুষের যাতায়াতের একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে। পাশাপাশি রাজধানীর সড়কগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং যানজটও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


নতুন ব্যবস্থাপনায় চালু হবে ওয়াটার বাস

সংসদে নৌমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এবার আগের মতো ব্যবস্থাপনায় নয়, নতুন ব্যবস্থাপনায় এই সেবা পরিচালনা করা হবে।

আগে ওয়াটার বাস পরিচালনা করে বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই এবার নতুন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সরকার মনে করছে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ওয়াটার বাস পরিচালনা করা গেলে এটি নগরবাসীর জন্য একটি কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা হতে পারে।

ঢাকার সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। এ অবস্থায় নৌপথকে গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।


১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান

আগের ওয়াটার বাস সেবার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেছেন নৌমন্ত্রী।

তিনি জানান, আগের ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ওয়াটার বাস পরিচালনায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

এই বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে আগের ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে এবার নতুন পদ্ধতিতে সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, এবার এমনভাবে ওয়াটার বাস পরিচালনা করা, যাতে একদিকে মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হয়, অন্যদিকে সেবাটি আর্থিকভাবে টেকসই করা যায়।

নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবাটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে।


যানজট কমাতে ভূমিকা রাখবে নৌপথ

নৌমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত সহজ হবে।

একই সঙ্গে এটি সড়কের যানজট কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজধানীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করেন। সড়কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নৌপথ ব্যবহার বাড়ানো গেলে সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষ করে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে কাজে লাগিয়ে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়ানো গেলে নগরবাসীর সামনে আরেকটি যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি হবে।

এ কারণে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগকে শুধু একটি পরিবহন সেবা হিসেবে নয়, রাজধানীর যানজট কমানোর একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


নৌপথের নিরাপত্তায় দুই ইঞ্জিনের লঞ্চ

নদীপথে যাত্রী চলাচল নিরাপদ করতে এক ইঞ্জিনের পরিবর্তে দুই ইঞ্জিনের লঞ্চ পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নৌমন্ত্রী জানান, নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে লঞ্চ মালিকদের দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

একটি ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অন্য ইঞ্জিন ব্যবহার করে নৌযান নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ থাকে। এ কারণে দুই ইঞ্জিনের নৌযান ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযানের মান ও সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।


দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নেওয়া হয় ব্যবস্থা

নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে আবহাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঝড়, বৃষ্টি বা অন্য কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান নৌমন্ত্রী।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে নৌযান চলাচলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নৌযাত্রীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।


রুট ডিক্লারেশন ও সতর্কবার্তা

নৌপথে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী রুট ডিক্লারেশন করা হয়। একই সঙ্গে নৌ-সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।

টার্মিনালগুলোতে মাইকিং করেও যাত্রী ও নৌযান চালকদের সতর্ক করা হয়।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নৌযান চালক, মালিক ও যাত্রীদের সতর্ক করার পাশাপাশি নিয়ম না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা

নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী যাতে নৌযানে না ওঠেন, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে।

নৌমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নৌযানগুলো নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করছে কি না, তা নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে।

বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।


ফিটনেসবিহীন নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান

ফিটনেসবিহীন নৌযান নদীপথে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে অনিবন্ধিত নৌযানের চলাচলও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এ কারণে ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

অভিযানের মাধ্যমে নিয়মের বাইরে থাকা নৌযান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নৌযানের ফিটনেস ও নিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা কমানো এবং নৌপথে শৃঙ্খলা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নৌপথ সচল রাখতে চলছে ড্রেজিং

দেশের নৌপথ সচল রাখতে ব্যাপকভাবে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।

নৌমন্ত্রী সংসদে জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং করা হচ্ছে।

নদীর নাব্যতা কমে গেলে নৌযান চলাচলে সমস্যা হয়। অনেক জায়গায় নদী ভরাট হয়ে নৌপথ সংকুচিত হয়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর গভীরতা ও নৌপথের ব্যবহারযোগ্যতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।


নৌপথ সচল রাখতে বড় পরিসরে কাজ

নদীর নাব্যতা বজায় রাখা নৌপরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকলে বড় নৌযান চলাচল করতে পারে না। এতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হয়।

এ কারণে দেশের বিভিন্ন নদীতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং চলছে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।

নৌপথের ব্যবহার বাড়াতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন আরও কার্যকর করতে নাব্যতা রক্ষাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।


কর্ণফুলীতে ৬১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং

কর্ণফুলী নদীতেও বড় পরিসরে ড্রেজিং করা হয়েছে।

নৌমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে প্রায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়েছে।

এর ফলে সদরঘাট-বাকলিয়ার চর এলাকায় নদীর গভীরতা ৮ মিটারে উন্নীত হয়েছে।

নদীর গভীরতা বাড়ানোর ফলে ওই এলাকায় নৌযান চলাচলের সুযোগও বেড়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে ড্রেজিংয়ের এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


নদী দখল বন্ধেও নজরদারি

নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহের পাশাপাশি নদী দখলের বিষয়টিও নৌপরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নৌমন্ত্রী নদী দখল ও দূষণের বিষয়ে সংসদে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএর সরাসরি উচ্ছেদের আইনি ক্ষমতা নেই।

তবে নদী দখলকারীদের তালিকা তৈরি করার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অর্থাৎ নদী দখল শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তায় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালানো হয়।


নদী দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহায়তা

বিআইডব্লিউটিএ একা নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে পারে না বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

আইন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

প্রথমে দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এর মাধ্যমে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করার প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নদীকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দখল ও দূষণ—দুই বিষয়েই নজরদারি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ঢাকার চারপাশের নদীতে দূষণের ৪২৪ উৎস

রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়েও সংসদে তথ্য দিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের ৪২৪টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব উৎসের কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।

দূষণের উৎস চিহ্নিত করার পর তা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নদীর দূষণ কমাতে শুধু দূষণের উৎস শনাক্ত করাই নয়, সেগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। সরকার এ বিষয়েও কাজ করছে বলে সংসদে জানান নৌমন্ত্রী।


ঢাকার নদীকে পরিবহনে কাজে লাগানোর উদ্যোগ

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে যাত্রী পরিবহনে আরও বেশি ব্যবহার করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের।

এবার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ সেই পরিকল্পনাকেই এগিয়ে নেওয়ার একটি পদক্ষেপ।

রাজধানীর সড়কে প্রতিদিন যে বিপুল যানবাহন চলাচল করে, তার একটি অংশ নৌপথে নেওয়া গেলে সড়কের ওপর চাপ কমতে পারে।

নগরবাসীও যাতায়াতের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা পাবেন।

তবে আগের ব্যবস্থাপনায় বড় লোকসানের অভিজ্ঞতার কারণে এবার সেবাটিকে নতুন ব্যবস্থাপনায় চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


নিরাপদ নৌযান চলাচলে একাধিক পদক্ষেপ

নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে দুই ইঞ্জিনের লঞ্চ পরিচালনায় উৎসাহ দেওয়া, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, রুট ডিক্লারেশন, সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং টার্মিনালে মাইকিং।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযানও চলছে।

এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য নৌপথে দুর্ঘটনা কমানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


নৌপথের ভবিষ্যৎ ব্যবহারে গুরুত্ব

দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় নৌপথের গুরুত্ব বাড়াতে সরকার নাব্যতা রক্ষা, নিরাপত্তা এবং যাত্রী পরিবহনের ওপর জোর দিচ্ছে।

একদিকে নদী খননের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে।

ঢাকার ক্ষেত্রে বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে নগর পরিবহনে নৌপথের ব্যবহার নতুন করে বাড়তে পারে।

তবে এই সেবা সফল করতে নিয়মিত পরিচালনা, যাত্রী সুবিধা, নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


ওয়াটার বাস চালু হলে কী সুবিধা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াটার বাস চালু হলে ঢাকার মানুষের জন্য সড়কের বাইরে যাতায়াতের একটি সুযোগ তৈরি হবে।

সড়কে যানজটের কারণে যে সময় নষ্ট হয়, নৌপথ ব্যবহার করে তা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলে যানজট কমাতেও সহায়তা করতে পারে ওয়াটার বাস।

তবে এর জন্য নৌপথের নিরাপত্তা, সময়সূচি, যাত্রী ওঠানামার সুবিধা এবং নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

নতুন ব্যবস্থাপনায় সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেবা চালু করতে চায় বলে নৌমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।


আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

আগের ওয়াটার বাস ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা সরকারের নতুন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এবার তাই শুধু ওয়াটার বাস চালু করাই নয়, কীভাবে সেবাটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকার আশা করছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা—দুই দিকেই উন্নতি করা সম্ভব হবে।


নৌপথের সঙ্গে সড়কের চাপ কমানোর পরিকল্পনা

রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় সড়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন সড়ক ব্যবহার করায় যানজট তৈরি হয়।

এই চাপ কমাতে নৌপথকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে সড়কের বিকল্প হিসেবে নৌপথ ব্যবহার করতে পারবেন নগরবাসী।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই নতুন ব্যবস্থাপনায় এই সেবা চালু হতে পারে।


সামনে বড় লক্ষ্য—নিরাপদ ও কার্যকর নৌপরিবহন

নৌমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

একদিকে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখা হচ্ছে।

নৌযান দুর্ঘটনা কমাতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নদী দখল ও দূষণ নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।


দুই-তিন মাসের অপেক্ষা

সব মিলিয়ে ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আবার ওয়াটার বাস চালুর প্রস্তুতি চলছে।

নৌমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে নতুন ব্যবস্থাপনায় এই সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগের ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা লোকসানের অভিজ্ঞতা এবার সরকারের সামনে বড় শিক্ষা হিসেবে থাকছে।

তাই নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবাটি চালু করে যাত্রীদের জন্য সহজ ও বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় সরকার।

একই সঙ্গে সড়কের যানজট কমানো, নৌপথের ব্যবহার বাড়ানো এবং ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এর পাশাপাশি দেশের নৌপথ সচল রাখতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং চলছে। প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখার কথাও জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী।

নদী দখল ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নৌযানের নিরাপত্তা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted