ডেস্ক রিপোর্ট
দেশের আট বিভাগে নির্মাণাধীন বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে আগামী অর্থবছরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি জানিয়েছেন, এসব হাসপাতালে শুধু ক্যানসারের চিকিৎসাই নয়, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসাসেবাও একসঙ্গে দেওয়া হবে। অর্থাৎ একই হাসপাতাল থেকে তিনটি জটিল রোগের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে সংসদে এ প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আট বিভাগে নির্মাণাধীন ১৫ তলাবিশিষ্ট এসব হাসপাতালে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের সমন্বিত এবং পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। এক ছাদের নিচে এসব সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার মানুষ, উপকৃত হবেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আট বিভাগে গড়ে উঠছে বিশেষায়িত হাসপাতাল
দেশের আটটি বিভাগকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব হাসপাতাল তৈরি হলে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমতে পারে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গুরুতর রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসেন। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু হলে নিজ নিজ বিভাগের কাছাকাছি এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এসব হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
এক হাসপাতালেই ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসা
নতুন হাসপাতালগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে এখানে একাধিক জটিল রোগের চিকিৎসা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৫ তলাবিশিষ্ট এসব বিভাগীয় হাসপাতালে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের সমন্বিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
অর্থাৎ রোগীকে একটি হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হবে না। একই প্রতিষ্ঠানের আওতায় বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ—তিনটিই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। এসব রোগের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে এই সুবিধা তৈরি হলে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।
১৫ তলা ভবনে হবে চিকিৎসার ব্যবস্থা
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে নির্মাণাধীন এসব হাসপাতালের প্রতিটির ভবন ১৫ তলাবিশিষ্ট।
বড় পরিসরের এসব ভবনে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও সহায়ক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
একই ছাদের নিচে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
এর ফলে রোগীদের বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা পেতে একাধিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।
হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়বে।
ঢাকার ওপর চিকিৎসার চাপ কমবে
দেশের উন্নত চিকিৎসার বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীদের ঢাকায় আসতে হয়।
বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসেন।
এতে রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ে। পাশাপাশি দূরবর্তী জেলা থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের জন্য বাড়তি খরচ করতে হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা চালু হলে এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
নিজ বিভাগের কাছাকাছি এলাকায় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে রোগী ও স্বজনদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন কমবে।
প্রান্তিক মানুষের জন্য বড় সুযোগ
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এসব হাসপাতাল চালু হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
দেশের প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থেকে দূরে থাকেন। দূরত্ব, যাতায়াতের সমস্যা ও চিকিৎসার খরচের কারণে অনেক সময় তাঁরা বড় হাসপাতালে যেতে পারেন না।
বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা চালু হলে এসব মানুষের জন্য চিকিৎসা নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।
বিশেষ করে যেসব রোগী নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য কাছাকাছি হাসপাতালে সেবা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যানসারের চিকিৎসা হবে হাতের নাগালে
ক্যানসার একটি জটিল রোগ। এর চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে অনেক রোগী ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরগুলোতে যান।
বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে রোগীরা নিজ নিজ বিভাগেই উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এতে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমবে।
রোগীর পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসাও থাকবে
এসব হাসপাতালে শুধু ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসাসেবাও একই সঙ্গে চালু করা হবে।
কিডনি ও হৃদরোগ দেশের মানুষের মধ্যে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এসব রোগের অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত সেবা থাকলে রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।
একই হাসপাতালের আওতায় ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসা থাকায় রোগীর জন্য সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাও তৈরি হবে।
‘এক ছাদের নিচে’ পূর্ণাঙ্গ সেবা
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সংসদে বলেন, এসব হাসপাতালে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের সমন্বিত এবং পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা ‘এক ছাদের নিচে’ দেওয়া হবে।
এই ব্যবস্থা চালু হলে রোগীকে চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যেতে হবে না।
একটি হাসপাতালের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়বে এবং রোগীদের সময়ও বাঁচবে।
বিশেষ করে জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বিত পরামর্শ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন হাসপাতালগুলোতে সেই সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগামী অর্থবছরের মধ্যে চালুর লক্ষ্য
সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই আট বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ হাসপাতালগুলোর নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসাসেবা চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল চালুর জন্য শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
সরকার এসব হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে চালু করতে চায়।
শুধু ভবন নয়, পূর্ণাঙ্গ সেবার লক্ষ্য
বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু নতুন ভবন তৈরি করা নয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা একই প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
ফলে হাসপাতালগুলো কার্যকরভাবে চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হবে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো।
রোগীদের সময় ও খরচ দুটোই কমতে পারে
বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা চালু হলে রোগীদের যাতায়াতের খরচ কমতে পারে।
বর্তমানে দূরবর্তী এলাকার একজন রোগীকে রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে গেলে শুধু চিকিৎসার খরচ নয়, যাতায়াত, থাকা ও খাবারের জন্যও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
সঙ্গে অনেক সময় পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যকে থাকতে হয়।
কাছাকাছি এলাকায় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে এসব বাড়তি ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া রোগীর সময়ও বাঁচবে। নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা অনেক সময় সহজলভ্য নয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে বড় হাসপাতাল তৈরি হলে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা নিজ বিভাগের মধ্যেই উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন।
এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ শহর ও গ্রামের মধ্যে আরও সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পথ তৈরি হবে।
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই হাসপাতালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের আশা
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, এসব হাসপাতাল চালু হলে দেশের প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কারণ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসা একই প্রতিষ্ঠানে পাওয়ার সুযোগ দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে আগে তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
নতুন হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ওপর রোগীদের নির্ভরতাও কমতে পারে।
সংসদে স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালগুলো নিয়ে প্রশ্ন করেন।
এর জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি সংসদে আট বিভাগীয় হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের স্বাস্থ্য খাতে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বিভাগীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি উঠে আসে।
জটিল রোগের চিকিৎসায় সমন্বিত ব্যবস্থা
ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো রোগের চিকিৎসায় একাধিক ধরনের বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
তাই আলাদা আলাদা জায়গায় চিকিৎসা নেওয়ার বদলে একই প্রতিষ্ঠানে এসব সেবার সমন্বয় রোগীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে এই সমন্বিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
একজন রোগীর একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে একই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এতে চিকিৎসা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ
দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যসেবা রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে বড় ও বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করা হলে স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।
রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।
একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসার পরিধি বাড়বে।
আটটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
চিকিৎসার পাশাপাশি স্বস্তি পাবে স্বজনরাও
জটিল রোগে আক্রান্ত একজন রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দীর্ঘ সময় যুক্ত থাকতে হয়।
দূরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলে পরিবারের ওপর এই বাড়তি চাপও কমতে পারে।
রোগীর কাছাকাছি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকলে পরিবারের সদস্যরা সহজে রোগীর পাশে থাকতে পারবেন।
বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
বাস্তবায়নেই নির্ভর করবে সাফল্য
হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী থাকতে হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরীক্ষার সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।
তবে সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এসব হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা।
হাসপাতালগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু করা গেলে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রত্যাশা
দেশের আট বিভাগে ক্যানসার হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
ক্যানসারের পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসাও একই হাসপাতালে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর ফলে রাজধানীতে রোগীর চাপ কমার পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
রোগীদের সময়, যাতায়াত ও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বাড়তি খরচও কিছুটা কমতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এসব হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা দিতে পারে।
নতুন আশার জায়গা বিভাগীয় হাসপাতাল
সব মিলিয়ে দেশের আট বিভাগে নির্মাণাধীন ১৫ তলা ক্যানসার হাসপাতালগুলোকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এসব হাসপাতালে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের সমন্বিত চিকিৎসাসেবা একসঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, হাসপাতালগুলো চালু হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
রাজধানী বা বড় শহরের বাইরে থেকেও মানুষ যদি জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা পেতে পারেন, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আগামী অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে আট বিভাগের মানুষের জন্য এটি হবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ। এখন এই হাসপাতালগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করে কার্যকরভাবে চিকিৎসাসেবা চালু করাই হবে সবচেয়ে বড় বিষয়।

