কিউআর কোডে শনাক্ত হবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নির্ধারিত হবে রুট

ডেস্ক রিপোর্ট

সারাদেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইককে এবার একটি নিয়মের মধ্যে আনতে যাচ্ছে সরকার। এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট রুট ঠিক করে দেওয়া হবে। একই নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে যাতে একাধিক অটোরিকশা চালানো না যায়, সে জন্য প্রতিটি যানে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও কিউআর কোড যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকার বলছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই হঠাৎ করে এসব যান উচ্ছেদ না করে কর্মসংস্থান ঠিক রেখেই সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ে সংসদে নোটিশটি উত্থাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি বিধিমালা ও নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে অটোরিকশা খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত মানুষের কর্মসংস্থানও ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।


অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত হবে রুট

নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব যানকে ইচ্ছামতো সব সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশেষ করে মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে পারবে না।

এর ফলে একদিকে বড় সড়কগুলোতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় ও নির্ধারিত রুটে এসব যান চলাচলের সুযোগ থাকবে।

বর্তমানে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব যান নির্ধারিত কোনো নিয়ম ছাড়াই সড়কে চলাচল করছে।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেই অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করা হবে।


এক নিবন্ধনে ১০-২০টি গাড়ি নয়

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা খাতে দীর্ঘদিনের একটি অনিয়মের কথাও সংসদে তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, অতীতে দেখা গেছে, একটি অটোরিকশার জন্য একটি নিবন্ধন নেওয়ার পর সেই একই নম্বর ব্যবহার করে ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত গাড়ি চালানো হয়েছে।

এতে প্রকৃত গাড়ির সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নিবন্ধন ব্যবস্থায় জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়।

এই অনিয়ম বন্ধ করতেই প্রতিটি অটোরিকশাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রতিটি অটোরিকশাকে শনাক্ত করা হবে।

এর ফলে একটি নিবন্ধনের বিপরীতে একাধিক গাড়ি চালানো হচ্ছে কি না, তা সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে।


কিউআর কোডে থাকবে গাড়ির পরিচয়

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি নিবন্ধিত অটোরিকশার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল পরিচয় যুক্ত থাকবে।

কিউআর কোড স্ক্যান করলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে—এমন একটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর ফলে একই নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক গাড়ি চালানোর সুযোগ কমবে।

পাশাপাশি কোন গাড়ি বৈধ, কোনটি নিবন্ধিত এবং কোনটি নিয়মের বাইরে চলছে—তা শনাক্ত করাও সহজ হবে।

সরকার মনে করছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে অটোরিকশা খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


কর্মসংস্থানও থাকবে, নিরাপত্তাও বাড়বে

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই খাতের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যাতে হঠাৎ করে এসব মানুষের জীবিকা বন্ধ হয়ে যায়।

তাঁর বক্তব্য হলো, একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপদ করতে হবে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই খাতটিতে কর্মসংস্থান জড়িত, তাই আমরা কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে পরিবেশ ও সড়ক নিরাপদ রাখতে চাই।’

এ লক্ষ্যেই নতুন বিধিমালা ও নীতিমালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


ঢালাও উচ্ছেদ নয়

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুও একই ধরনের একটি অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এসব অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল। তাই এগুলোকে একসঙ্গে উচ্ছেদ বা ডাম্পিং না করে একটি কার্যকর নীতিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি অটোরিকশা খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন।

বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।


দেশে ৫০ থেকে ৮০ লাখ অটোরিকশা

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রেহানা আক্তার রানু বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে।

এত বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচলের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে।

অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জিংয়ের প্রয়োজনও বেড়েছে। কিন্তু বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

এ কারণে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ চার্জিংয়ের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


ঢাকায় হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট

সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার।

অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসব অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এভাবে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অবৈধ চার্জিং বন্ধ করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে বাড়বে নজরদারি

অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অটোরিকশা খাতকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

বৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জিং করা হচ্ছে কি না, কোথায় কতগুলো চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে এবং সেগুলো নিবন্ধিত কি না—এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারের নতুন উদ্যোগে অটোরিকশার নিবন্ধন, চলাচল ও চার্জিং ব্যবস্থাকে আরও নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।


সস্তা ব্যাটারি নিয়ে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আরেকটি বড় সমস্যা হলো এসব গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারি।

সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, এসব অটোরিকশায় ব্যবহৃত সস্তা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হলে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ব্যাটারি ব্যবহারের পর সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েও সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নতুন নীতিমালায় পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।


দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, এসব গাড়ির অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন। আবার অনেক গাড়িতে ব্রেকসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি থাকে।

অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৬ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ অটোরিকশা দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

এই পরিস্থিতিতে অটোরিকশা খাতকে পুরোপুরি বন্ধ না করে নিরাপদভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত

নতুন নীতিমালায় ব্যাটারির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অটোরিকশায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত থাকবে।

এর ফলে নিম্নমানের বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটারি ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকারের লক্ষ্য হলো, পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে অটোরিকশার ব্যবহার অব্যাহত রাখা।


এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও সংসদে এসেছে।

রেহানা আক্তার রানু সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ এবং এআইভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকার বিভিন্ন সিগন্যালে ইতোমধ্যে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


প্রযুক্তিতে বদলাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

রাজধানীর সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

এআইভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকার সিগন্যালগুলোতে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানোর পর এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

তাই ভবিষ্যতেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যুক্ত হলে সড়কে যান চলাচল আরও শৃঙ্খলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


একই সঙ্গে কয়েকটি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা

সরকারের নতুন নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে একাধিক সমস্যা একসঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, একই নিবন্ধনে একাধিক গাড়ি চালানো, অবৈধ চার্জিং, বিদ্যুৎ চুরি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পরিবেশের ক্ষতি।

একই সঙ্গে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রাখাও সরকারের লক্ষ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, অটোরিকশা খাতের কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রেখে পরিবেশ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


নিবন্ধন হবে আরও কার্যকর

নতুন ব্যবস্থায় অটোরিকশার নিবন্ধনকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একটি নিবন্ধন নিয়ে একাধিক গাড়ি চালানোর পুরোনো পদ্ধতি বন্ধ করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড ব্যবহার করা হবে।

এর ফলে প্রতিটি গাড়ির একটি আলাদা ডিজিটাল পরিচয় থাকবে।

কর্তৃপক্ষ চাইলে সহজেই গাড়িটির নিবন্ধন ও বৈধতা যাচাই করতে পারবে।

এতে নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জালিয়াতির সুযোগ কমবে বলে আশা করছে সরকার।


বড় সড়কে চলবে না অটোরিকশা

নতুন নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে এসব যান চলতে পারবে না।

এর ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

পাশাপাশি বড় সড়কে যানজট কমাতেও এ সিদ্ধান্ত ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে স্থানীয় ও নির্ধারিত রুটে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


লাখো মানুষের জীবিকার কথা বিবেচনায়

অটোরিকশা নিয়ে সরকারের অবস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান।

দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত।

কেউ অটোরিকশা চালান, কেউ মেরামতের কাজ করেন, কেউ ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। ফলে পুরো খাত বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হতে পারে।

এ কারণে সরকার অটোরিকশা উচ্ছেদ না করে নিয়মের মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো—যানবাহন থাকবে, মানুষের কর্মসংস্থানও থাকবে; একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা করা হবে।


সামনে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

নীতিমালা তৈরি করা হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।

কতগুলো অটোরিকশা নিবন্ধিত হবে, কোন রুটে চলবে, কীভাবে কিউআর কোড দেওয়া হবে এবং অবৈধ গাড়ি কীভাবে শনাক্ত করা হবে—এসব বিষয় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

একই সঙ্গে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা এবং বিদ্যুৎ চুরি রোধেও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন হবে।

অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং গাড়ির ব্রেক ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নিরাপদ রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে অটোরিকশা খাতকে আরও নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত করা সম্ভব হবে।


সরকারের লক্ষ্য কী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের মূল লক্ষ্য তিনটি—কর্মসংস্থান রক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সুরক্ষা।

এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই নতুন নীতিমালা করা হয়েছে।

অটোরিকশাকে পুরোপুরি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট রুটে চলার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিটি গাড়িকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শনাক্ত করা হবে। একই নিবন্ধন ব্যবহার করে একাধিক গাড়ি চালানোর সুযোগ বন্ধ করা হবে।

নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করতে নজরদারি বাড়ানো হবে।


শৃঙ্খলায় আসছে ব্যাটারিচালিত যান

সব মিলিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক খাতকে একটি নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট রুট থাকবে। মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রতিটি গাড়িকে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।

একই নিবন্ধন ব্যবহার করে একাধিক গাড়ি চালানোর সুযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের শর্তও থাকবে।

অন্যদিকে অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান যাতে হঠাৎ করে বন্ধ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, লক্ষ্য হলো—কর্মসংস্থান ঠিক রেখে পরিবেশ ও সড়ক নিরাপদ করা।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্ঘটনা, যানজট ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমস্যা কতটা কমানো সম্ভব হবে।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted