সাভারে বাড়ি ঘিরে সিটিটিসির অভিযান, উদ্ধার বোমা ও তৈরির সরঞ্জাম

একজনকে আটকের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান; নিচতলা থেকে মিলেছে আরও বোমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। অভিযানে সাভার মডেল থানার পুলিশ এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরাও রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে চলা এ অভিযানে বোমাসহ একজনকে আটকের পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে বোমা ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার ওই বাড়িতে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং তাঁদের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে। এরপর হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে বোমাসহ বিস্ফোরকজাতীয় কিছু দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের আবদুল জলিলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। তিনি জানান, সিটিটিসির একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে।

ওসি বলেন, প্রথমে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তাঁর কাছে বোমাসহ বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

অভিযানের নিরাপত্তার জন্য বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। বাড়ির আশপাশের এলাকাতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেখানে কাজ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ির ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে এরই মধ্যে বেশ কিছু বোমা এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্যাগ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা

ওসি সাইফুল আলম জানান, আটকের সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি পাইপবোমা পাওয়া যায়। এগুলো শক্তিশালী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে ওই ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবদুল জলিলের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একই ধরনের আরও বেশ কিছু বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে উদ্ধার করা বোমা ও সরঞ্জামের সঠিক সংখ্যা এবং এগুলোর ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অভিযান শেষ হওয়ার পর জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে থাকায় বাড়িটি ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষা ও নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও চলছে।

কয়েক দিন আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তি গত ১ আগস্ট ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে বাড়ির মালিকের পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তারিখে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

বাড়ির মালিক আবদুল জলিলের মেয়ে ইলমা সাংবাদিকদের বলেন, আব্বাস আলী নামের একজনসহ আরও একজন বাড়িটি ভাড়া নিতে এসেছিলেন। তাঁদের ২ আগস্ট বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। তাঁরা সম্ভবত ৩ আগস্ট রাত থেকে সেখানে থাকা শুরু করেন।

ইলমার ভাষ্য, বাসা নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, পাশের একটি স্কুলে শিশুদের পড়াবেন। এ কারণে পরিবার হিসেবে তাঁদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।

তাঁরা আরও বলেছিলেন, তাঁরা গাড়ি চালানোর কাজ করেন। বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যরা ভাড়াটিয়াদের পরিচয় সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছিলেন, তার ভিত্তিতেই বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।

ইলমা বলেন, বাসার ভেতরে এ ধরনের কোনো জিনিস রাখা হয়েছে, তা তাঁরা জানতেন না।

মালিকের পরিবারের দাবি, কিছুই জানতেন না

বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভাড়াটিয়ারা সাধারণ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁরা কী ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বাড়ির মালিকের পরিবার কিছুই জানত না।

সাধারণত বাসা ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়ার পরিচয় ও পেশা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হলেও ভাড়াটিয়া ঘরের ভেতরে কী রাখছেন, তা সব সময় বাড়ির মালিকের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। এ ঘটনাতেও তেমনটাই হয়েছে বলে দাবি করছেন মালিকের পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে, আটক ব্যক্তি এবং ওই বাড়িতে থাকা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বোমা ও বিস্ফোরকগুলোর কী সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেএমবির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

সিটিটিসির কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানের শুরু বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্য ছিল—ওই বাড়িতে জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং তাঁদের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং তাঁরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

অভিযান ও তদন্ত শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাড়িটি থেকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায়ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে এবং সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

আগেও সাভারে বোমা উদ্ধার

এর আগে গত ৩০ জুলাই সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদিদোকানের সামনে ফেলে যাওয়া একটি ভ্রমণব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

ওই ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি উদ্ধার করে। ব্যাগের ভেতর থাকা বস্তু পরীক্ষা করে বোমা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।

এর কয়েক দিন পর দক্ষিণ শ্যামপুরে একটি বাড়ি থেকে একাধিক বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।

তবে আশুলিয়ার ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ শ্যামপুরের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বাড়ির নিচতলায় মিলেছে সরঞ্জাম

পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ শ্যামপুরের বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে বোমা ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এসব সরঞ্জাম কীভাবে সেখানে আনা হয়েছিল এবং কত দিন ধরে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা তদন্তের বিষয়।

আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই কক্ষে অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে পুলিশের ধারণা, বাড়ির ভেতরে বিস্ফোরক রাখার বিষয়ে আটক ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

তবে তদন্তের এই পর্যায়ে পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

বাড়িটির অন্য কক্ষগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেখানে আরও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সতর্ক অবস্থানে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

বোমা উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাকে। কারণ উদ্ধার করা বস্তুগুলোর মধ্যে বিস্ফোরক থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে।

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা উদ্ধার করা বস্তু পরীক্ষা করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া বা নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পুলিশও বাড়ির চারপাশে অবস্থান নিয়েছে। অভিযানের কারণে বাড়ির আশপাশে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার করা বিস্ফোরক ও সরঞ্জামের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা কঠিন। অভিযান শেষ হলে তদন্তের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

পুলিশের তদন্তে এখন কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, আটক ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, বাড়িতে থাকা বোমাগুলো কে তৈরি করেছে বা কোথা থেকে আনা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বোমা তৈরির সরঞ্জামগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য নেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার সময় ভাড়াটিয়ারা যে পরিচয় দিয়েছিলেন, তা সঠিক কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

এ ছাড়া বাড়িতে তাঁরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং সম্প্রতি তাঁদের সঙ্গে আর কেউ দেখা করতে এসেছিল কি না, এসব তথ্যও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এলাকায় বাড়তি নজরদারি

ঘটনার পর দক্ষিণ শ্যামপুর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একটি বাড়ির ভেতর থেকে একাধিক বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অভিযান শেষ হলে মিলবে বিস্তারিত তথ্য

মঙ্গলবার রাতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চলছিল। সিটিটিসি, সাভার থানা-পুলিশ এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছিলেন।

একজনকে আটকের পর তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

বাড়ির মালিকের পরিবারের দাবি, তাঁরা ভাড়াটিয়াদের প্রকৃত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। ভাড়াটিয়ারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা নিয়েছিলেন এবং স্কুলে শিশুদের পড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন।

এখন পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, ওই বাড়িতে কেন বোমা ও বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত। একই সঙ্গে সম্প্রতি আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া বোমার সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

অভিযান শেষ হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের সংখ্যা, আটক ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর সহযোগী এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted