‘কেন আমার সঙ্গেই এমন হয়’—সন্তানকে অভিযোগ নয়, সমাধান ভাবতে শেখাবেন যেভাবে

 

বন্ধুর নতুন ফোন, পরীক্ষায় খারাপ ফল, অঙ্ক বুঝতে না পারা কিংবা খেলায় হেরে যাওয়া—ছোটদের জীবনে হতাশার কারণ কম নয়। এসব সময়ে সন্তানকে চুপ করিয়ে না দিয়ে কীভাবে ধীরে ধীরে সমস্যা থেকে সমাধানের দিকে তাকাতে শেখানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

‘কেন সব সময় আমার সঙ্গেই এমন হয়?’

ছোটদের মুখে এই কথাটি মা-বাবার কাছে খুব পরিচিত। বন্ধু নতুন ফোন পেয়েছে, কিন্তু নিজের ফোনটি পুরোনো। পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল হয়নি। যে অঙ্কটি নিজের কাছে খুব কঠিন মনে হচ্ছে, পাশের বন্ধুটি সেটি অনায়াসে করে ফেলছে। খেলতে গিয়ে দল হেরে গেছে। বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বৃষ্টি এসে সব ভেস্তে দিয়েছে।

শিশুর জীবনে এসব ঘটনা ছোট মনে হলেও তার কাছে তখন এগুলোই বড় সমস্যা। তাই সে মন খারাপ করতে পারে, রাগ করতে পারে, কাঁদতে পারে কিংবা বারবার অভিযোগ করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মা-বাবার প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সন্তান অভিযোগ করলে আমরা তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলি, ‘এটা নিয়ে মন খারাপ করার কী আছে?’ আবার কখনো বিরক্ত হয়ে বলি, ‘এত অভিযোগ করো কেন?’

কিন্তু এই দুইয়ের মাঝখানে আরও একটি কার্যকর পথ আছে।

সন্তানের সমস্যাকে অস্বীকার না করে প্রথমে তার কথা শুনতে হবে। এরপর তাকে এমন একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে, যা তাকে সমস্যার মধ্যে আটকে না রেখে সমাধানের কথা ভাবতে সাহায্য করবে।

প্রশ্নটি খুব সাধারণ—

‘ঠিক আছে, এখন তুমি কী করতে পারো?’

এই একটি প্রশ্ন শিশুকে ধীরে ধীরে বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে, সব পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও কোনো না কোনো পদক্ষেপ তার হাতে থাকতে পারে।

অভিযোগের বদলে সমাধানের চিন্তা

অনলাইনে প্রচলিত একটি গল্পে এমন একজন বাবার কথা বলা হয়, যাঁর তিন ছেলে বড় হয়ে সফল হয়েছিলেন। সন্তানদের সফলভাবে বড় করার রহস্য জানতে চাইলে তিনি নাকি বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁদের অভিযোগের পর অভিযোগ করতে দিতেন না।

সন্তান কোনো সমস্যার কথা বললে তিনি তর্ক করতেন না। সমস্যাটিকে ছোটও করতেন না। বরং একটি প্রশ্ন করতেন—

‘এখন তুমি কী করতে পারো?’

গল্পটির নির্ভরযোগ্য উৎস বা ওই পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। তাই এটিকে সত্য ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়ার চেয়ে এর ভেতরের parenting বা সন্তান পালনের ধারণাটিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

কারণ শিশুকে সব সমস্যার সমাধান করে দিলে সে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সমস্যা সামলানোর সুযোগ কম পেতে পারে। আবার তার কষ্টকে উপেক্ষা করলে সে মনে করতে পারে, মা-বাবা তার অনুভূতি বুঝতে চান না।

তাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হতে পারে—প্রথমে অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া, তারপর সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়া।

সব অভিযোগকে অভিযোগ ভাববেন না

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। সন্তান কোনো সমস্যার কথা বললেই সেটিকে ‘অভিযোগ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

ধরা যাক, সন্তান বলছে, ‘আমার বন্ধু আমাকে নিয়ে সব সময় হাসাহাসি করে।’

অথবা বলছে, ‘স্কুলে আমাকে একজন মেরেছে।’

কিংবা, ‘পড়ার এত চাপ যে আমি আর সামলাতে পারছি না।’

এসব কথাকে শুধু শিশুর ঘ্যানঘ্যানানি বা অভিযোগ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এর পেছনে বাস্তব সমস্যা থাকতে পারে।

সন্তান যদি স্কুলে নির্যাতনের কথা বলে, তাকে নিরাপত্তা দিতে হবে। কেউ নিয়মিত অপমান বা হয়রানি করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পড়াশোনার চাপ যদি তার মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলে, তাহলে কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

অর্থাৎ, শিশুর অভিযোগের ধরন বুঝতে হবে।

কোনো খেলায় হেরে গিয়ে মন খারাপ করা আর স্কুলে নিয়মিত bullying-এর শিকার হওয়া এক বিষয় নয়।

প্রথম ক্ষেত্রে শিশুকে হতাশা সামলাতে শেখানো দরকার। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রয়োজন বড়দের সক্রিয় হস্তক্ষেপ।

আগে শুনুন, পরে পরামর্শ দিন

সন্তান কোনো সমস্যার কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান বলে দেওয়া অনেক মা-বাবার স্বাভাবিক অভ্যাস।

‘এটা নিয়ে ভাববে না।’

‘আরেকটু ভালো করে পড়লেই হবে।’

‘পরের বার জিতবে।’

‘ওর সঙ্গে খেলবে না।’

এ ধরনের কথা ভালো উদ্দেশ্যে বলা হলেও শিশু সব সময় এতে স্বস্তি পায় না।

কারণ সে হয়তো তখন সমাধান নয়, প্রথমে চায় কেউ তার কষ্টটা বুঝুক।

তাই সন্তান বললে, ‘আজ পরীক্ষাটা খুব খারাপ হয়েছে’, মা-বাবা সঙ্গে সঙ্গে ‘কীভাবে পড়তে হবে’ নিয়ে বক্তৃতা না দিয়ে বলতে পারেন, ‘তোমার খারাপ লাগছে, বুঝতে পারছি।’

এরপর জিজ্ঞেস করা যায়, ‘তোমার কী মনে হয়, কোথায় সমস্যা হয়েছে?’

তারপর আসতে পারে আরও একটি প্রশ্ন—‘এখন আমরা কী করতে পারি?’

এভাবে শিশুকে নিজের সমস্যাটি নিয়ে ভাবার সুযোগ দেওয়া যায়।

অনুভূতিকে ছোট করবেন না

সন্তান কোনো ঘটনায় কষ্ট পেলে অনেক সময় বড়রা সেটিকে তুচ্ছ মনে করেন।

‘এতটুকু বিষয় নিয়ে কাঁদছ?’

‘এটা তো কোনো সমস্যাই না।’

‘আমাদের সময় এসব নিয়ে ভাবার সুযোগ ছিল না।’

এ ধরনের কথা শিশুকে শক্তিশালী করার বদলে উল্টো তার অনুভূতি প্রকাশের ইচ্ছা কমিয়ে দিতে পারে।

মনোবিজ্ঞানের গবেষণাতেও শিশুর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্ব উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হতাশাজনক পরিস্থিতিতে মা-বাবার কাছ থেকে আবেগের স্বীকৃতি পাওয়া ছোট শিশুদের কোনো কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, শিশু ব্যর্থ বা হতাশ হলে তাকে শুধু ‘মন খারাপ করার কিছু নেই’ বলার চেয়ে ‘বুঝতে পারছি, বিষয়টি তোমার জন্য কঠিন’ বলা বেশি সহায়ক হতে পারে।

কারণ অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে সমস্যাকে মেনে নেওয়া নয়। বরং শিশুকে বোঝানো—‘তোমার অনুভূতিটা আমি বুঝতে পারছি।’

এরপর তাকে সমস্যার সমাধানের পথে নেওয়া সহজ হয়।

‘এখন কী করতে পারো?’ কেন গুরুত্বপূর্ণ

‘এখন তুমি কী করতে পারো?’—এই প্রশ্নের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি শিশুর মনোযোগকে অভিযোগ থেকে সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যায়।

ধরা যাক, সন্তান বলল, ‘আমার বন্ধু নতুন ফোন পেয়েছে, কিন্তু আমাকে দেওয়া হয়নি।’

এ ক্ষেত্রে মা-বাবা বলতে পারেন, ‘তোমার খারাপ লাগছে, বুঝতে পারছি। কিন্তু এখন তুমি কী করতে পারো?’

শিশু হয়তো বলবে, ‘আমি পড়াশোনায় ভালো করলে ফোন কিনে দিতে বলব।’

অথবা, ‘আমি কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারি।’

এতে সে বুঝতে শুরু করে যে পরিস্থিতির সবকিছু তার হাতে না থাকলেও কিছু সিদ্ধান্ত তার হাতে আছে।

আবার পরীক্ষায় খারাপ ফল হলে প্রশ্ন হতে পারে, ‘কোথায় ভুল হয়েছে?’

এরপর, ‘পরের পরীক্ষার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?’

এভাবে ব্যর্থতাকে শেষ হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

সব সমস্যার সমাধান শিশুর হাতে নয়

তবে ‘এখন কী করতে পারো?’ প্রশ্নটি এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে শিশুর মনে হয় প্রতিটি সমস্যার দায় তার নিজের।

কিছু পরিস্থিতি সত্যিই শিশুর নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বৃষ্টি হলে সে আবহাওয়া পরিবর্তন করতে পারবে না। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে সে নিজের পছন্দের সবকিছু কিনতে পারবে না। স্কুলে কোনো অন্যায় হলে সেটি বন্ধ করার দায়িত্ব শুধু শিশুর নয়।

তাই প্রশ্নটির অর্থ হওয়া উচিত—‘এই পরিস্থিতিতে তোমার হাতে যে সামান্যটুকু আছে, সেটুকু কীভাবে কাজে লাগানো যায়?’

এটি শিশুকে বাস্তববাদী হতে শেখায়।

সে বুঝতে শেখে, সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো হবে না। কিন্তু প্রতিটি পরিস্থিতিতে কিছু না কিছু করার সুযোগ থাকতে পারে।

তুলনা থেকে বের করে আনুন

শিশুর অভিযোগের বড় একটি অংশ আসে অন্যের সঙ্গে তুলনা থেকে।

‘ও আমার চেয়ে ভালো।’

‘ওর কাছে সব আছে।’

‘ও এত ভালো নম্বর পায়।’

‘ও খেলায় সব সময় জেতে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এই তুলনা এখন আরও বেড়েছে। অন্যের জীবনের ভালো দিকগুলো চোখের সামনে বেশি দেখা যায়। ফলে শিশু নিজের জীবনকে পিছিয়ে পড়া মনে করতে পারে।

এ সময় ‘ওর সঙ্গে নিজের তুলনা করো না’ বললেই সব সময় কাজ হয় না।

বরং শিশুকে নিজের অগ্রগতি দেখতে শেখানো যেতে পারে।

যেমন, ‘গতবার তুমি পাঁচটা অঙ্ক করতে পেরেছিলে, এবার সাতটা পেরেছ।’

অথবা, ‘গতবার হেরে যাওয়ার পর তুমি খেলা ছেড়ে দিয়েছিলে, এবার শেষ পর্যন্ত খেলেছ।’

এভাবে ফলাফলের পাশাপাশি চেষ্টা ও উন্নতিকে গুরুত্ব দিলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে।

ভুলকে ব্যর্থতা নয়, শেখার সুযোগ করুন

পরীক্ষায় খারাপ ফল হলে অনেক মা-বাবা ভয় পেয়ে যান। কেউ রেগে যান, কেউ আবার অতিরিক্ত চাপ দেন।

কিন্তু শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে—কোথায় ভুল হয়েছে?

যদি সে অঙ্কে ভুল করে, তাহলে ভুলের কারণ খুঁজে দেখা যায়। সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়েছে কি না, প্রশ্ন বুঝতে ভুল হয়েছে কি না, নাকি অনুশীলনের অভাব ছিল—এসব নিয়ে কথা বলা যায়।

এরপর বলা যেতে পারে, ‘পরের বার কীভাবে একটু ভালো করা যায়?’

এতে শিশু বুঝতে পারে, একটি খারাপ ফল তার পুরো পরিচয় নয়।

একটি পরীক্ষায় খারাপ করা মানে সে ‘খারাপ ছাত্র’ নয়। একটি খেলায় হেরে যাওয়া মানে সে ‘খারাপ খেলোয়াড়’ নয়।

শিশুকে সব সময় উদ্ধার করবেন না

মা-বাবা সন্তানকে কষ্টে দেখতে চান না। তাই সন্তান কোনো সমস্যায় পড়লেই দ্রুত সমাধান করে দিতে চান।

কিন্তু সব সমস্যায় বড়রা এগিয়ে গেলে শিশুর নিজের সমস্যা সমাধানের সুযোগ কমে যায়।

ধরা যাক, দুই বন্ধুর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছে। শিশুটি বাড়িতে এসে অভিযোগ করল। মা-বাবা সঙ্গে সঙ্গে অন্য শিশুর মা-বাবাকে ফোন না করে আগে জানতে পারেন, ‘তুমি কীভাবে বিষয়টি মিটমাট করতে চাও?’

অবশ্য পরিস্থিতি গুরুতর হলে বড়দের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

কিন্তু ছোটখাটো সমস্যায় শিশুকে কিছুটা নিজে চেষ্টা করার সুযোগ দেওয়া তাকে ভবিষ্যতের বড় সমস্যা সামলানোর প্রস্তুতি দিতে পারে।

তবে কঠিন সমস্যায় পাশে থাকুন

শিশুকে স্বাধীন হতে শেখানোর অর্থ তাকে একা ছেড়ে দেওয়া নয়।

যদি সে নিয়মিত ভয় পায়, স্কুলে যেতে না চায়, কোনো ব্যক্তি তাকে হুমকি দেয়, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে মন খারাপ থাকে—তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে শুধু ‘এখন তুমি কী করতে পারো?’ প্রশ্ন করাই যথেষ্ট নয়।

প্রথমে শিশুর নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পেশাদারের সহায়তা নিতে হবে।

অর্থাৎ, সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুকে এটাও শেখাতে হবে—কখন নিজে চেষ্টা করতে হবে আর কখন বড়দের সাহায্য চাইতে হবে।

মা-বাবার ভাষাই বড় শিক্ষা

শিশু শুধু মা-বাবার কথা শোনে না, তাঁদের আচরণও দেখে শেখে।

মা-বাবা কোনো সমস্যায় পড়লে যদি সব সময় বলেন, ‘আমার জীবনটাই খারাপ’, ‘কিছুই ঠিক হবে না’, তাহলে শিশুও একই ধরনের চিন্তায় অভ্যস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে মা-বাবা যদি বলেন, ‘সমস্যাটা হয়েছে, দেখি কী করা যায়’, তাহলে শিশুও ধীরে ধীরে সেই ভাষা শিখতে পারে।

তাই শিশুকে সমস্যা সামলানোর শিক্ষা দিতে হলে মা-বাবাকেও নিজেদের কথাবার্তায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

কয়েকটি সহজ প্রশ্ন কাজে লাগতে পারে

সন্তান কোনো সমস্যার কথা বললে পরিস্থিতি অনুযায়ী কয়েকটি প্রশ্ন করা যেতে পারে—

‘কী ঘটেছে, আমাকে একটু বলবে?’

‘এতে তোমার কেমন লাগছে?’

‘তোমার কাছে সবচেয়ে কঠিন বিষয় কোনটা?’

‘এর কোন অংশটা তোমার নিয়ন্ত্রণে আছে?’

‘এখন তুমি কী করতে পারো?’

‘তুমি চাইলে আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’

‘পরের বার কীভাবে একটু ভালো করা যায়?’

এই প্রশ্নগুলো শিশুকে শুধু উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেয় না, নিজের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগও দেয়।

লক্ষ্য অভিযোগ বন্ধ করা নয়

শিশু অভিযোগ করবে—এটাই স্বাভাবিক। ছোটদের জীবনে হতাশা, রাগ, ঈর্ষা, ভয় ও ব্যর্থতা থাকবে।

তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত সন্তান যেন কখনো অভিযোগ না করে—এমন নয়।

বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত, অভিযোগ করার পর সে যেন সমস্যাটিকে অন্যভাবে দেখতে শেখে।

প্রথমে সে বলতে পারে, ‘কেন আমার সঙ্গেই এমন হয়?’

ধীরে ধীরে তার প্রশ্ন যেন হয়, ‘এখন আমি কী করতে পারি?’

এই পরিবর্তন এক দিনে হবে না। শিশুর বয়স, স্বভাব ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় লাগবে।

মা-বাবার কাজ হলো তাকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া—সব সমস্যা নিজের হাতে থাকে না, কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকে।

সন্তানের কষ্টকে অস্বীকার না করে, আবার প্রতিটি সমস্যার সমাধান নিজের হাতে তুলে না নিয়ে—এই ভারসাম্যটাই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একজন আত্মবিশ্বাসী শিশু মানে এমন শিশু নয়, যার জীবনে কোনো সমস্যা আসে না। বরং এমন শিশু, যে সমস্যা এলে কষ্ট পায়, প্রয়োজনে সাহায্য চায় এবং ধীরে ধীরে ভাবতে শেখে—‘এখন আমি কী করতে পারি?’

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted