৯৭ বিলিয়ন ঘণ্টা ভিউ: ২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই নেটফ্লিক্সে সিনেমা ও অন্যান্য কনটেন্ট দেখার পরিমাণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বছরের প্রথমার্ধে প্ল্যাটফর্মটিতে মোট প্রায় ৯৭ বিলিয়ন ঘণ্টা কনটেন্ট দেখা হয়েছে। এর মধ্যে দর্শকদের পছন্দে এগিয়ে ছিল অ্যাকশন, থ্রিলার, ক্রাইম, অ্যানিমেশন ও রোমান্টিক সিনেমা।

সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় অবশ্য বড় চমকও আছে। ২০২৬ সালের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’

নেটফ্লিক্সের ‘হোয়াট উই ওয়াচড’ প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমা দেখে নেওয়া যাক।

১০. অফিস রোমান্স

তালিকার দশম স্থানে রয়েছে জেনিফার লোপেজ ও ব্রেট গোল্ডস্টেইন অভিনীত রোমান্টিক কমেডি ‘অফিস রোমান্স’। সিনেমাটির গল্প একজন সফল নারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নতুন নিয়োগ পাওয়া এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনজীবীকে ঘিরে।

জ্যাকি ক্রুজ একজন সফল ও আত্মবিশ্বাসী সিইও। অন্যদিকে ড্যানিয়েল ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি হয়। প্রথমে সেই আকর্ষণ অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রেমে রূপ নেয়।

কিন্তু কর্মক্ষেত্রের এই প্রেম সহজ নয়। কারণ, সম্পর্কটির সঙ্গে দুজনের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত ভবিষ্যৎও জড়িয়ে যায়।

সিনেমাটির বিশেষ দিক হলো, প্রচলিত অফিস রোমান্সের গল্পকে কিছুটা উল্টে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের গল্পে ক্ষমতাবান পুরুষ ও অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাসম্পন্ন নারী কর্মীর সম্পর্ক দেখানো হয়। ‘অফিস রোমান্স’-এ ক্ষমতার জায়গায় রয়েছেন একজন নারী।

জেনিফার লোপেজের সঙ্গে সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন বেটি গিলপিন, অ্যামি সেডারিস, টনি হেল ও ব্র্যাডলি হুইটফোর্ড। এডওয়ার্ড জেমস অলমসকেও দেখা গেছে সিনেমাটিতে।

নেটফ্লিক্সের হিসাবে, ৫ কোটি ৮৪ লাখ ভিউ নিয়ে সিনেমাটি রয়েছে দশম স্থানে।


৯. পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান

জনপ্রিয় গ্যাংস্টার সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর গল্প এবার বড় পর্দায় ফিরেছে ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’ সিনেমায়।

ছয় মৌসুমের সিরিজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর আবারও টমি শেলবি চরিত্রে ফিরেছেন কিলিয়ান মার্ফি। তবে সিনেমার গল্পে নতুন প্রজন্মের শেলবিরাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

টমির বিচ্ছিন্ন ছেলে ডিউক শেলবি পরিবারের নেতৃত্বে নিজের জায়গা তৈরি করছে। কিন্তু পরিবারের নেতৃত্বের সঙ্গে আসছে বড় ঝুঁকি। একটি নাৎসি ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে সে। ধীরে ধীরে সেই ষড়যন্ত্র পুরো শেলবি পরিবারের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিন নিজের পরিবার ও অতীত থেকে দূরে থাকা টমি শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে। পুরোনো শত্রু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে তাঁকে আবারও পরিবারের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়।

সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ টমি ও তাঁর ছেলে ডিউকের সম্পর্ক। একদিকে বাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিমান, অন্যদিকে পরিবারের নেতৃত্বে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা—দুই প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয় নতুন টানাপোড়েন।

কিলিয়ান মার্ফির সঙ্গে অভিনয় করেছেন রেবেকা ফার্গুসন, টিম রথ ও স্টিফেন গ্রাহাম।

৬ কোটি ৩৯ লাখ ভিউ নিয়ে সিনেমাটি রয়েছে নবম স্থানে।


৮. দ্য ক্র্যাশ

তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে সত্য ঘটনা ঘিরে নির্মিত ট্রু-ক্রাইম তথ্যচিত্র ‘দ্য ক্র্যাশ’

ঘটনাটি ২০২২ সালের ৩১ জুলাইয়ের। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর স্ট্রংসভিল শহরে প্রায় ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে চলা একটি গাড়ি একটি ইটের ভবনে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন মারা যান।

শুরুতে ঘটনাটিকে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে নানা প্রশ্ন। দুর্ঘটনাটি আসলেই দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া চালক, তাঁর প্রেমিক এবং তাঁদের বন্ধুর জটিল সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তথ্যচিত্রটির গল্প।

দর্শককে শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়—এটি কি নিছক একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে ছিল পরিকল্পিত কোনো ঘটনা?

নেটফ্লিক্সে সত্য ঘটনা ও ট্রু-ক্রাইমভিত্তিক তথ্যচিত্রের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ‘দ্য ক্র্যাশ’-এর সাফল্যও সেই প্রবণতারই উদাহরণ।

সিনেমাটির ভিউ ৬ কোটি ৫২ লাখ


৭. পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন

বন্ধুত্ব কি একসময় প্রেমে পরিণত হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে রোমান্টিক সিনেমা ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’

এমিলি বেডার ও টম ব্লাইথ অভিনীত সিনেমাটির গল্প পপি ও অ্যালেক্সকে ঘিরে। তাঁরা দীর্ঘদিনের বন্ধু। প্রায় এক দশক ধরে প্রতি গ্রীষ্মে তাঁরা একসঙ্গে ভ্রমণে যান।

দুজনের স্বভাব একেবারেই আলাদা। পপি প্রাণবন্ত ও কিছুটা অগোছালো। অন্যদিকে অ্যালেক্স শান্ত, সংযত ও হিসাবি। এই ভিন্নতাই তাঁদের বন্ধুত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বদলাতে শুরু করে। বন্ধুত্বের আড়ালে কি অন্য কোনো অনুভূতি তৈরি হয়েছে? সেই উত্তর খুঁজতেই এগোয় গল্প।

এমিলি হেনরির জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সারাহ ক্যাথরিন হুক, জামিলা জামিল, লুসিয়েন লাভিসকাউন্ট ও লুকাস গেজ।

মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শকদের ভালো সাড়া পায়। নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিনেমার তালিকায়ও এটি শীর্ষে উঠেছিল।

বর্তমানে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ভিউ নিয়ে সিনেমাটি রয়েছে সপ্তম স্থানে।


৬. থ্র্যাশ

অ্যাকশন ও সারভাইভাল থ্রিলারের দর্শকদের জন্য ‘থ্র্যাশ’ ছিল অন্যতম আকর্ষণ।

একটি উপকূলীয় শহরে ভয়াবহ হারিকেন আঘাত হানে। ঝড়ের তাণ্ডবে শহরের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বাইরে থেকে উদ্ধারকারী দলও সহজে সেখানে পৌঁছাতে পারে না।

এ অবস্থায় শহরের বাসিন্দাদের নিজেদেরই নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে হয়।

কিন্তু ঝড়ের পর পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে শহরে ঢুকে পড়ে একদল হিংস্র হাঙর।

একদিকে বিধ্বস্ত শহর ও বন্যার পানি, অন্যদিকে চারপাশে ঘুরে বেড়ানো হাঙর—সব মিলিয়ে বেঁচে থাকাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ফোবি ডাইনেভর, ডিজিমন হাউন্সু ও হুইটনি পিক অভিনীত সিনেমাটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী শিকারির আতঙ্ক।

তবে শুধু হাঙরের আক্রমণই সিনেমাটির গল্প নয়। দুর্যোগের মধ্যে আটকে পড়া মানুষগুলোর ব্যক্তিগত ভয়, সম্পর্ক ও সংকটও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১০ কোটির বেশি ভিউ নিয়ে ‘থ্র্যাশ’ জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ ছয়ে।


অ্যাকশন ও থ্রিলারের দাপট

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাব দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—নেটফ্লিক্স দর্শকদের মধ্যে অ্যাকশন ও থ্রিলারের জনপ্রিয়তা বেশ বেশি। তবে রোমান্স, অ্যানিমেশন ও ট্রু-ক্রাইমও পিছিয়ে নেই।

শীর্ষ ১০-এর প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে দর্শকদের আকর্ষণ করেছে। কোথাও গ্যাংস্টার, কোথাও হাঙরের ভয়, কোথাও প্রেম, আবার কোথাও বাস্তব ঘটনার রহস্য।

এবার তালিকার সেরা পাঁচ সিনেমা।


৫. অ্যাপেক্স

শার্লিজ থেরন অভিনীত ‘অ্যাপেক্স’ একটি সারভাইভাল থ্রিলার।

সিনেমার গল্প শাশাকে ঘিরে। জীবনের কঠিন এক সময় পার করা শাশা মানসিক শান্তির খোঁজে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম এলাকায় যান। সেখানে তাঁর দেখা হয় বেনের সঙ্গে।

কিন্তু বেন সাধারণ কোনো মানুষ নন। তিনি একজন নির্মম সাইকোপ্যাথ। শাশাকে তিনি এক ভয়ংকর খেলায় জড়িয়ে ফেলেন।

বেন শাশাকে পালানোর সুযোগ দেন। কিন্তু সেই সুযোগের সঙ্গে রয়েছে কঠিন শর্ত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে যতটা সম্ভব দূরে চলে যেতে হবে।

এরপর শুরু হয় শিকারি ও শিকারের লড়াই।

বেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ট্যারন এগারটন। শার্লিজ থেরনের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ।

শাশাকে এখানে কোনো অজেয় সুপারহিরো হিসেবে দেখানো হয়নি। তিনি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি ভয় ও বিপদের মধ্যেও বাঁচার চেষ্টা করেন।

এই কারণে বিপদের মুহূর্তে তাঁর প্রতিরোধ দর্শকের কাছে আরও বাস্তব বলে মনে হয়।

১২ কোটি ৯০ লাখ ভিউ নিয়ে ‘অ্যাপেক্স’ রয়েছে পঞ্চম স্থানে।


৪. কে-পপ ডেমন হান্টারস

২০২৬ সালের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমকের নাম ‘কে-পপ ডেমন হান্টারস’। কারণ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০২৫ সালে।

কে-পপ সংগীত আর দানব শিকার—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জগতকে একসঙ্গে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই অ্যানিমেটেড মিউজিক্যাল অ্যাডভেঞ্চার।

মিরা, জোয়ি ও রুমি জনপ্রিয় কে-পপ গার্ল গ্রুপ ‘হান্ট্রিক্স’-এর সদস্য। মঞ্চে তাঁরা গান করেন, নাচ করেন এবং ভক্তদের মাতিয়ে রাখেন। কিন্তু তাঁদের আরেকটি গোপন পরিচয়ও আছে—তাঁরা দানব শিকার করেন।

এবার তাঁদের সামনে আসে ‘সাযা বয়েজ’ নামে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বয় ব্যান্ড। কিন্তু সমস্যাটি হলো, এই ব্যান্ডের সদস্যরা আসলে দানব।

কে-পপের জনপ্রিয় গান, দ্রুতগতির গল্প এবং আকর্ষণীয় অ্যানিমেশনের কারণে সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্র

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted