রাতে বিড়ালের বুকফাটা ডাক, কেন এমন করে? জানুন আসল কারণ

ডেস্ক রিপোর্ট :

রাত গভীর হলেই অনেক বাড়িতে হঠাৎ শোনা যায় বিড়ালের দীর্ঘ ও করুণ ডাক। কখনো সেই ডাক এতটাই তীব্র হয় যে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়, যেন কোনো বিড়াল বিপদে পড়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। পোষা বিড়ালের এমন ডাক শুনে অনেকেই বিরক্ত হন। কেউ মনে করেন, খাবার চাইছে; কেউ আবার ভাবেন, বিড়ালটি হয়তো অকারণে ডাকাডাকি করছে।

কিন্তু বিড়ালের এই দীর্ঘ ও তীব্র ডাক সবসময় নিছক খাবার চাওয়া বা মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকে ভয়, অস্বস্তি, এলাকা রক্ষার চেষ্টা, সঙ্গী খোঁজা কিংবা তীব্র মানসিক চাপ। আবার কখনো কখনো হঠাৎ বেশি ডাকাডাকি কোনো শারীরিক সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রাণিবিজ্ঞানী ও পশুচিকিৎসকদের মতে, বিড়ালের প্রতিটি শব্দের আলাদা অর্থ থাকতে পারে। তাই শুধু শব্দের তীব্রতা শুনে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে বিড়ালটি ডাকছে—সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

এই তীব্র ডাককে কী বলা হয়?

বিড়ালের দীর্ঘ ও তীব্র চিৎকারকে আচরণবিজ্ঞানের ভাষায় সাধারণত ‘ইয়াওল’ বা ‘ইয়াওলিং’ বলা হয়। তবে বিড়ালের সব জোরে ডাকই যে ইয়াওল, এমন নয়।

বিড়ালের ডাকের ধরন অনেক রকম। কখনো তারা ছোট করে ‘মেও’ করে, কখনো দীর্ঘ সময় ধরে ডাকে, আবার কখনো হিসহিস শব্দ করে বা গর্জন করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব শব্দের অর্থও বদলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত অর্থে ‘ইয়াওল’ সাধারণত বিড়ালের তীব্র উত্তেজনা, ভয়, অস্বস্তি বা নেতিবাচক মানসিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এটি সাধারণ কথাবার্তার মতো স্বাভাবিক কোনো শব্দ নয়; বরং অনেক সময় বিড়াল এই ডাকের মাধ্যমে আশপাশের প্রাণী বা মানুষকে নিজের অবস্থার কথা জানান দেয়।

তবে বিড়ালের আচরণ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও সব ধরনের দীর্ঘ ডাককে একই শ্রেণিতে ফেলার বিষয়ে পুরোপুরি একমত নন। কারণ বিড়ালের শব্দ ও আচরণ পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেকটাই পরিবর্তিত হয়।

এলাকা রক্ষার জন্যও এমন ডাক

বিড়ালের এই আচরণের শিকড় অনেক পুরোনো। আজকের পোষা বিড়ালের পূর্বপুরুষ আফ্রিকান ওয়াইল্ডক্যাটও এমন তীব্র শব্দ ব্যবহার করত।

বন্য পরিবেশে প্রাণীদের জন্য নিজের এলাকা বা বিচরণক্ষেত্র রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবার, নিরাপত্তা এবং প্রজননের সুযোগ নিয়ে এক প্রাণীর সঙ্গে অন্য প্রাণীর প্রতিযোগিতা হতে পারে। তাই অনেক সময় সরাসরি লড়াইয়ে না গিয়ে শব্দের মাধ্যমেই প্রতিদ্বন্দ্বীকে সতর্ক করা হয়।

বিড়ালের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়। অন্য কোনো বিড়াল তার এলাকায় ঢুকে পড়লে সে তীব্র শব্দ করে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পারে। সেই ডাকের মাধ্যমে সে যেন বলতে চায়—এটি তার এলাকা, এখান থেকে দূরে সরে যেতে হবে।

এভাবে শব্দ করে ভয় দেখানো অনেক সময় সরাসরি লড়াইয়ের চেয়ে নিরাপদ। কারণ লড়াই হলে উভয় প্রাণীই আহত হতে পারে। তাই দূর থেকেই শক্তি ও আধিপত্যের সংকেত দেওয়া প্রাণীর জন্য কার্যকর একটি কৌশল।

হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে বসবাস করলেও পোষা বিড়ালের মধ্যে সেই পুরোনো স্বভাবের অনেকটাই রয়ে গেছে।

ভয় পেলে বা কোণঠাসা হলেও চিৎকার করে

বিড়াল ভয় পেলে বা নিজেকে বিপদের মধ্যে মনে করলেও এমন তীব্র ডাক দিতে পারে।

ধরুন, একটি বিড়াল এমন কোনো জায়গায় আটকা পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ নেই। অথবা অপরিচিত কোনো প্রাণী তার খুব কাছে চলে এসেছে। এমন অবস্থায় বিড়ালটি আতঙ্কিত হয়ে তীব্র শব্দ করতে পারে।

এই ডাকের মাধ্যমে সে অন্য প্রাণীকে দূরে থাকতে সতর্ক করে। অর্থাৎ বিড়ালের ভাষায় এটি এক ধরনের সতর্কবার্তা।

কোনো বিড়ালকে কোণঠাসা করে ফেললে তার আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে। সে হিসহিস করতে পারে, গর্জন করতে পারে, শরীর ফুলিয়ে তুলতে পারে এবং একই সঙ্গে তীব্রভাবে ডাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিড়ালের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা ঠিক নয়। কারণ ভয় পাওয়া বিড়াল নিজেকে রক্ষা করতে আচমকা আঁচড় বা কামড় দিতে পারে।

পশু হাসপাতালেও বাড়তে পারে ডাকাডাকি

পোষা বিড়ালকে চিকিৎসার জন্য পশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে অনেক সময় মালিকেরা লক্ষ্য করেন, সেখানে বিড়াল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ডাকছে।

এর একটি কারণ হতে পারে অপরিচিত পরিবেশ। বিড়াল সাধারণত পরিচিত জায়গা ও পরিচিত গন্ধের সঙ্গে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। হঠাৎ নতুন জায়গায় নেওয়া হলে তার মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

পশু হাসপাতালেও চারপাশে অপরিচিত মানুষ, অন্য প্রাণীর গন্ধ ও শব্দ থাকতে পারে। এসব নতুন অভিজ্ঞতা বিড়ালের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে সে দীর্ঘ সময় ধরে ডাকতে পারে।

আবার অন্য কোনো বিড়ালের সঙ্গে সংঘর্ষ বা প্রতিযোগিতার সময়ও তীব্র ডাক শোনা যায়। এসব ক্ষেত্রে শব্দটি শুধু ‘ডাক’ নয়; বরং ভয়, উত্তেজনা ও আত্মরক্ষার আচরণের অংশ।

সঙ্গমের সময়ও হতে পারে তীব্র ডাক

বিড়ালের তীব্র ডাকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রজনন বা সঙ্গমের সময়ের আচরণ।

বিশেষ করে প্রজননক্ষম বিড়ালের ক্ষেত্রে সঙ্গী খোঁজা, অন্য বিড়ালের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং সঙ্গমের সময় অনেক জোরে ও দীর্ঘ ডাক শোনা যেতে পারে।

এ সময় বিড়ালের আচরণও বদলে যায়। তারা বেশি অস্থির হয়ে উঠতে পারে, ঘরের বাইরে যেতে চাইতে পারে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শব্দ করতে পারে।

অনেক সময় রাতের নীরব পরিবেশে এই ডাক আরও বেশি স্পষ্ট শোনা যায়। ফলে মালিকের মনে হতে পারে, বিড়ালটি হয়তো কোনো বিপদে পড়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা নয়; প্রজননকালীন আচরণও এর কারণ হতে পারে।

সব ‘মেও’ কিন্তু একই কথা নয়

বিড়ালের ডাক নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব শব্দের অর্থ এক নয়।

বিড়ালের সবচেয়ে পরিচিত শব্দ হলো ‘মেও’। কিন্তু এই শব্দও নানা পরিস্থিতিতে নানা অর্থ বহন করতে পারে। খাবার চাইলে এক ধরনের ডাক, দরজা খুলতে চাইলে আরেক ধরনের ডাক, আবার মনোযোগ চাইলে অন্য রকম শব্দ করতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের সঙ্গে বসবাসের ফলে বিড়ালের ‘মেও’ করার অভ্যাস অনেকটাই বদলেছে।

বন্য পরিবেশে প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল সাধারণত একে অপরের সঙ্গে মানুষের মতো ঘন ঘন মেও করে কথা বলে না। ছোট বিড়ালছানা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বেশি মেও করে। মা বিড়ালকে খাবার, নিরাপত্তা বা নিজের অবস্থার কথা জানানোর ক্ষেত্রে এই শব্দ গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু মানুষের সঙ্গে বসবাস করতে করতে পোষা বিড়াল প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও এই আচরণ ধরে রেখেছে। বরং তারা এই শব্দ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে শিখেছে।

মানুষ কীভাবে বিড়ালের ডাক বুঝতে শেখে?

একইভাবে মানুষও ধীরে ধীরে নিজের পোষা বিড়ালের বিভিন্ন ডাকের অর্থ বুঝতে শেখে।

কোনো বিড়াল খাবারের বাটির কাছে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট ধরনের শব্দ করলে মালিক বুঝে যেতে পারেন যে সে খাবার চাইছে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাকলে বোঝা যায়, হয়তো বাইরে যেতে চাইছে। আবার মালিক বাড়ি ফিরলে কাছে এসে অন্যভাবে ডাকতে পারে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিড়াল শুধু শব্দ করছে না; শব্দের সঙ্গে আচরণও মিলিয়ে একটি বার্তা দিচ্ছে।

গবেষকদের মতে, মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাস করার কারণে বিড়াল এমন কিছু যোগাযোগের কৌশল তৈরি করেছে, যা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে কার্যকর।

খাবার দিয়ে অভ্যাস তৈরি হয়ে যেতে পারে

কখনো বিড়ালের অতিরিক্ত ডাকাডাকি তার শেখা আচরণের ফলও হতে পারে।

ধরুন, একটি বিড়াল ভোরে উঠে জোরে জোরে ডাকতে শুরু করল। ঘুম থেকে উঠে মালিক তাকে খাবার দিলেন। এতে বিড়ালটি বুঝতে পারে, জোরে ডাকলে খাবার পাওয়া যায়।

পরদিনও সে একই সময়ে ডাকতে পারে। আবার খাবার পেলে সেই আচরণ আরও শক্তিশালী হয়। এভাবে ধীরে ধীরে একটি অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

একই বিষয় মনোযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিড়াল ডাকলেই যদি মালিক তাকে আদর করেন, কোলে নেন বা খেলতে শুরু করেন, তাহলে বিড়াল বুঝতে পারে—এই শব্দের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ পাওয়া যায়।

তাই প্রতিবার বিড়ালের ডাকের পেছনে বড় কোনো রহস্য থাকতেই হবে এমন নয়। কখনো এটি হতে পারে অভ্যাস ও শেখা আচরণের ফল।

হঠাৎ বেশি ডাকলে সতর্ক হতে হবে

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বিড়াল যদি হঠাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ডাকতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে তা শুধু অভ্যাসের কারণে হচ্ছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বয়স্ক বিড়ালের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। ব্যথা, অস্বস্তি বা কোনো অসুস্থতার কারণে তারা বেশি শব্দ করতে পারে। তাই আচরণের হঠাৎ পরিবর্তন হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে কেন বাড়ে ডাক?

বয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাকাডাকির পেছনে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণও থাকতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে হাইপারথাইরয়েডিজমের কথা বলা যায়। এ ধরনের সমস্যায় বিড়ালের আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে এবং তারা অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বিড়ালের মধ্যে কগনিটিভ ডিসফাংশন সিন্ড্রোম দেখা দিতে পারে। মানুষের বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার সঙ্গে এর কিছুটা তুলনা করা হয়।

এ ধরনের সমস্যায় বিড়াল রাতে অস্থির হয়ে ঘুরতে পারে, পরিচিত জায়গায়ও বিভ্রান্ত হতে পারে এবং হঠাৎ করে বেশি ডাকতে পারে।

তাই কোনো বয়স্ক বিড়াল যদি রাতের পর রাত অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার করতে থাকে, সেটিকে শুধু বিরক্তিকর আচরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কখন পশুচিকিৎসকের কাছে যাবেন?

বিড়ালের ডাকের সঙ্গে যদি আচরণে অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

যেমন—হঠাৎ অতিরিক্ত ডাকাডাকি, খাবারে অনীহা, অস্বাভাবিক অস্থিরতা, ঘন ঘন পানি পান, ওজন কমে যাওয়া, চলাফেরায় সমস্যা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যথার প্রতিক্রিয়া দেখানো।

এসব লক্ষণ থাকলে নিজের মতো করে কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

কারণ বিড়াল কথা বলে নিজের অসুস্থতার কথা জানাতে পারে না। তার আচরণ ও শব্দই অনেক সময় একমাত্র সংকেত হয়ে দাঁড়ায়।

বিড়ালের ভাষা আসলে আচরণেই লুকিয়ে

বিড়ালের তীব্র ডাক শুনে শুধু ‘কেন এত চিৎকার করছে’—এই প্রশ্ন করলেই হবে না। বরং দেখতে হবে, সে কখন ডাকছে, কোথায় ডাকছে এবং তখন কী করছে।

রাতে একা দাঁড়িয়ে ডাকছে? দরজার সামনে বসে আছে? অন্য বিড়াল দেখেই চিৎকার করছে? ভয় পেয়ে শরীর গুটিয়ে ফেলেছে? নাকি খাবারের বাটির কাছে দাঁড়িয়ে ডাকছে?

প্রতিটি পরিস্থিতি আলাদা। তাই একই শব্দের অর্থও সব সময় এক হবে না।

বিড়ালের কান্নার মতো শব্দকে বুঝতে হলে তার শরীরের ভাষাও লক্ষ্য করতে হবে। কান পেছনে নিয়ে যাওয়া, লেজ ফুলিয়ে রাখা, শরীর নিচু করে ফেলা বা চোখ বড় করে তাকানো—এসব আচরণ ভয় বা অস্বস্তির ইঙ্গিত হতে পারে।

অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে কাছে এসে ডাকলে, শরীর ঘষলে বা খাবারের দিকে তাকালে সেটি হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

শেষ কথা

বিড়ালের বুকফাটা আর্তনাদ শুনলে বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে গভীর রাতে এমন ডাক ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু সেই শব্দের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি।

কখনো বিড়াল নিজের এলাকা রক্ষার জন্য ডাকতে পারে, কখনো ভয় বা অস্বস্তিতে, কখনো সঙ্গী খোঁজার সময়। আবার মানুষের কাছ থেকে খাবার বা মনোযোগ পাওয়ার অভ্যাস থেকেও অতিরিক্ত ডাকাডাকি করতে পারে।

তবে আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন এলে বা বয়স্ক বিড়াল অস্বাভাবিকভাবে বারবার ডাকতে থাকলে সম্ভাব্য অসুস্থতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, বিড়াল মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। তাই তার শব্দ, শরীরের ভঙ্গি ও আচরণই তার যোগাযোগের মাধ্যম। সেই ভাষা বুঝতে পারলেই হয়তো গভীর রাতে শোনা ‘বুকফাটা আর্তনাদ’কে আর শুধু বিরক্তিকর চিৎকার মনে হবে না। বুঝতে পারবেন, আপনার পোষ্যটি হয়তো কোনো না কোনোভাবে আপনাকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted