একমাত্র সন্তান কি সত্যিই স্বার্থপর হয়?

ডেস্ক রিপোর্ট :

সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে—পরিবারের একমাত্র সন্তানরা নাকি একটু বেশি স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক বা নিজের কথাই বেশি ভাবে। কারণ, ছোটবেলা থেকেই তারা মা-বাবার সবটুকু আদর-যত্ন পায়। বাড়িতে ভাইবোন না থাকায় খেলনা, খাবার কিংবা বাবা-মায়ের মনোযোগও কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে হয় না।

কিন্তু সত্যিই কি একমাত্র সন্তান হলেই কেউ স্বার্থপর হয়ে যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। একটি শিশু কেমন মানুষ হিসেবে বড় হবে, তা শুধু তার ভাইবোন আছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে না। শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে পরিবার, অভিভাবকের আচরণ, সামাজিক পরিবেশ, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন এবং তার চারপাশের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।

ভাইবোন না থাকলেও একটি শিশু খুব সহজেই ভাগাভাগি করতে, অন্যের কথা ভাবতে এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শিখতে পারে। আবার ভাইবোন থাকা সত্ত্বেও কোনো শিশু স্বার্থপর বা হিংসুটে হয়ে উঠতে পারে।

তাই একমাত্র সন্তান মানেই স্বার্থপর—এমন ধারণার ভিত্তি খুব শক্ত নয়।

ছোটবেলার অভিজ্ঞতাই গুরুত্বপূর্ণ

শৈশব ও কৈশোরে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়। এই সময়ে শিশু কী শিখছে, কীভাবে শিখছে এবং তার সঙ্গে বড়রা কেমন আচরণ করছেন, সেটি ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে বড় প্রভাব ফেলে।

একটি পরিবারে একমাত্র সন্তান থাকলে স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে ভাগাভাগি করার মতো ভাই বা বোন থাকে না। একই খেলনা নিয়ে ঝগড়া, খাবার ভাগ করে খাওয়া কিংবা মা-বাবার মনোযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার অভিজ্ঞতাও তার কম হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সে ভাগাভাগি করতে শিখবে না।

বরং অভিভাবক চাইলে পরিবারের বাইরের পরিবেশ থেকেই শিশুকে ভাগাভাগি ও সহযোগিতার শিক্ষা দিতে পারেন।

মা-বাবা যদি শিশুকে বলেন, ‘তোমার খেলনাটা বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে খেলো’, তাহলে সে ধীরে ধীরে বুঝতে শিখবে যে নিজের জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও আনন্দের হতে পারে।

একইভাবে খাবার ভাগ করে দেওয়া, কারও প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো কিংবা অন্যের অনুভূতি বোঝার মতো ছোট ছোট অভ্যাস শিশুর মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে।

ভাইবোন না থাকলেও বন্ধুত্ব তৈরি হয়

একটি শিশুর প্রথম বন্ধু অনেক সময় তার ভাই বা বোন হতে পারে। কিন্তু ভাইবোন না থাকলে যে শিশুর বন্ধুত্বের জগত ছোট হয়ে যাবে, এমন নয়।

মামাতো, খালাতো, চাচাতো বা ফুপাতো ভাইবোনের সঙ্গে শিশুর ভালো সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তারা যদি কাছাকাছি থাকে, তাহলে একসঙ্গে খেলাধুলা, গল্প কিংবা বিভিন্ন কাজ করার সুযোগও তৈরি হয়।

আবার আত্মীয়রা দূরে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে শিশুকে সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত রাখা যায়।

শিশুকে শুধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিবেশী শিশু, স্কুলের সহপাঠী ও খেলার সঙ্গীদের সঙ্গে মিশতে দিলে তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ে।

খেলতে গিয়ে সে কখনো জিতবে, কখনো হারবে। কখনো নিজের পছন্দের খেলনা অন্যকে দিতে হবে, আবার কখনো অন্যের খেলনা নিয়ে খেলতে অপেক্ষা করতে হবে।

এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাই শিশুকে বুঝতে শেখায়—সব সময় নিজের ইচ্ছামতো চলা যায় না।

অন্যের জন্য ভাবতে শেখা

শিশু যখন অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশতে শুরু করে, তখন তার জগতেও অন্য মানুষকে নিয়ে ভাবনা তৈরি হয়।

ধরা যাক, খেলার সঙ্গী অসুস্থ। সে খেলতে আসেনি। তখন শিশুর মন খারাপ হতে পারে। সে হয়তো জানতে চাইবে, বন্ধুটি কেন আসেনি।

আবার কোনো সহপাঠী শিক্ষক বা বড় কারও বকা খেললে তার জন্য মায়া হতে পারে।

এসব অনুভূতি শিশুর মধ্যে সহমর্মিতার ভিত্তি তৈরি করে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্যের জন্য শিশুর কতটা ভাবনা তৈরি হবে, তা তার ভাইবোনের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং অভিভাবক তাকে কীভাবে অন্যের অনুভূতি বুঝতে শেখাচ্ছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে যদি বলা হয়, ‘তোমার বন্ধুটি আজ মন খারাপ করেছে, তুমি কি তার সঙ্গে একটু কথা বলবে?’—তাহলে সে ধীরে ধীরে অন্যের অনুভূতির প্রতি মনোযোগী হতে শেখে।

একইভাবে কেউ কষ্ট পেলে তার পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ বন্ধুর খোঁজ নেওয়া কিংবা দুঃখী কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার অভ্যাসও শিশুর মানবিক গুণ তৈরি করে।

ভাগাভাগির শিক্ষা পরিবার থেকেই

শিশুর মধ্যে ভাগাভাগির অভ্যাস তৈরির জন্য ভাইবোন থাকা জরুরি নয়। মা-বাবাই এ শিক্ষা দিতে পারেন।

ধরা যাক, শিশুর কাছে তার প্রিয় খাবার আছে। মা-বাবা তাকে বলতে পারেন, ‘তুমি কি একটু তোমার বন্ধুকে দেবে?’

প্রথমে হয়তো সে রাজি হবে না। কিন্তু বারবার ভালোভাবে বোঝালে এবং নিজের আচরণ দিয়ে উদাহরণ তৈরি করলে শিশুটি ভাগাভাগির আনন্দ বুঝতে পারবে।

খেলনার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কোনো বন্ধু বাড়িতে এলে নিজের খেলনা দিয়ে তাকে খেলতে দেওয়া, অন্যের খেলনা যত্ন করে ব্যবহার করা কিংবা খেলা শেষে সব খেলনা গুছিয়ে রাখা—এসবই সামাজিক আচরণের শিক্ষা।

শুধু মানুষ নয়, প্রাণীর প্রতিও শিশুর সহমর্মিতা তৈরি করা যায়।

পথের ক্ষুধার্ত প্রাণীকে সামান্য খাবার দেওয়ার সুযোগ করে দিলে শিশু বুঝতে শেখে, তার বাইরেও এমন প্রাণী আছে যাদের প্রয়োজন আছে।

এভাবে ধীরে ধীরে তার মধ্যে অন্যের কষ্ট বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয়।

অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখানো জরুরি

কেউ শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত পেলে তার কষ্ট হয়—এই সহজ বিষয়টিও শিশুকে বোঝানো দরকার।

কোনো বন্ধু পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে তাকে হাসাহাসি না করে সাহায্য করতে বলা যেতে পারে। কেউ মন খারাপ করলে তার কথা শুনতে উৎসাহ দেওয়া যায়।

এসব ছোট ঘটনা শিশুর চরিত্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

অভিভাবক যদি শিশুকে সব সময় শুধু নিজের প্রয়োজন ও সুবিধার কথা ভাবতে শেখান, তাহলে তার মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু তাকে যদি অন্যের প্রয়োজন, অনুভূতি ও কষ্টের কথাও ভাবতে শেখানো হয়, তাহলে সে সহানুভূতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

তাই একটি শিশুর মানবিকতা গড়ে তুলতে ভাইবোনের সংখ্যা নয়, বরং তার শেখার পরিবেশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একমাত্র সন্তানের একটি বাড়তি সুবিধাও আছে

ভাইবোন না থাকলে শিশুর জন্য কিছু ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধাও তৈরি হয়।

যেমন, নিজের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সে বেশি পেতে পারে। মা-বাবা হয়তো ছুটির দিনে তাকে দু-তিনটি জায়গার মধ্যে একটি বেছে নিতে বললেন।

সে নিজের পছন্দ অনুযায়ী একটি জায়গা বেছে নিল। এভাবে ছোট ছোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেতে পেতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে।

কোন পোশাক পরবে, কোন বই পড়বে, ছুটির দিনে কী করতে চায়—বয়স অনুযায়ী এসব বিষয়ে শিশুকে কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া যেতে পারে।

এতে সে নিজের পছন্দ ও মতামত প্রকাশ করতে শেখে।

এই আত্মবিশ্বাসকে স্বার্থপরতা বা আত্মকেন্দ্রিকতা হিসেবে দেখার কারণ নেই।

বরং নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেওয়া, নিজের পছন্দ বোঝা এবং নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারা একজন শিশুর ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক দিক।

তবে অতিরিক্ত আদর সমস্যা তৈরি করতে পারে

একমাত্র সন্তানের ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকি অবশ্যই থাকতে পারে। মা-বাবা অনেক সময় একমাত্র সন্তানকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করেন।

সন্তানের কোনো চাওয়া যেন অপূর্ণ না থাকে, সে জন্য তার প্রায় সব আবদার পূরণ করে দেওয়া হয়। সে যা চায়, তা কিনে দেওয়া হয়। কোনো বিষয়ে ‘না’ বলা হয় না।

এভাবে বড় হলে শিশুর মধ্যে ‘আমি যা চাই, তা-ই পাব’—এমন একটি ধারণা তৈরি হতে পারে।

তখন সে অন্যের প্রয়োজন বা ইচ্ছার কথা বিবেচনা করতে নাও শিখতে পারে।

তাই সমস্যা একমাত্র সন্তান হওয়ার মধ্যে নয়; সমস্যা হতে পারে অতিরিক্ত প্রশ্রয় ও সীমাহীন আদরে।

অতিরিক্ত নিরাপত্তাও ভালো নয়

একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার দুশ্চিন্তা অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

শিশু কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে খেলছে, কী করছে—সবকিছু নিয়েই অতিরিক্ত নজরদারি করা হতে পারে।

অনেক সময় শিশুকে সামান্য ঝুঁকি নিতেও দেওয়া হয় না। নিজে কোনো কাজ করতে গেলেও মা-বাবা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে কাজটি করে দেন।

এতে শিশুর স্বাধীনভাবে কাজ শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে।

একই সঙ্গে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেশার সুযোগও যদি কম থাকে, তাহলে তার সামাজিক দক্ষতা বিকাশে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।

তাই একমাত্র সন্তানকে ভালোবাসতে হবে, কিন্তু সেই ভালোবাসার সঙ্গে স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দিতে হবে।

‘সবকিছু আমার’—এই ধারণা বদলাতে হবে

একমাত্র সন্তানের ক্ষেত্রে বাড়িতে তার জিনিসপত্রের ওপর অন্য কারও দাবি না থাকায় ‘সবকিছু আমার’ ধরনের ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

একটি খেলনা তার, একটি খাবার তার, একটি ঘর তার—এভাবে সবকিছু নিজের বলে ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে বাইরে গিয়ে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার সমস্যা হতে পারে।

এ কারণে ছোটবেলা থেকেই শিশুকে বোঝানো দরকার, পৃথিবীতে শুধু তার চাহিদাই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

বন্ধুরও খেলতে ইচ্ছা করতে পারে। অন্য শিশুটিও হয়তো সেই খেলনাটি নিতে চায়। পরিবারের অন্য সদস্যেরও নিজের প্রয়োজন আছে।

এই বিষয়গুলো সহজ ভাষায় শিশুকে বোঝাতে হবে।

তাকে জোর করে সবকিছু ভাগ করে দিতে হবে—এমন নয়। বরং কেন ভাগাভাগি করা ভালো, সেটি বোঝাতে হবে।

‘না’ বলতে শেখানো যেমন জরুরি, ‘না’ শুনতেও শেখাতে হবে

শিশুর সব আবদার পূরণ করা ভালোবাসার প্রমাণ নয়।

বরং বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো কোনো আবদারে ‘না’ বলাও প্রয়োজন।

শিশু যদি প্রতিবার নিজের ইচ্ছা পূরণ হতে দেখে, তাহলে বাস্তব জীবনে প্রত্যাখ্যান বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে তার জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।

তাই একমাত্র সন্তানকে যেমন নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে, তেমনি অন্যের মতামতও মেনে নেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে।

সে যদি কোনো খেলনা চায় কিন্তু সেটি তখন কেনা সম্ভব না হয়, তাহলে কারণটি বোঝানো যেতে পারে। এতে সে অপেক্ষা করতে শেখে।

কোনো বন্ধু তার সঙ্গে খেলতে না চাইলে সেটিও মেনে নেওয়া শিখতে হবে।

এসব অভিজ্ঞতা শিশুকে বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।

পরিবারই সবচেয়ে বড় শিক্ষার জায়গা

শিশুরা শুধু বড়দের কথা শুনে শেখে না; তারা বড়দের আচরণও অনুসরণ করে।

মা-বাবা যদি নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করেন, অন্যকে সম্মান করেন, অসুস্থ বা বিপদে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে শিশুও এসব আচরণ থেকে শিক্ষা নেয়।

বাড়িতে অতিথি এলে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা, খাবার ভাগ করে দেওয়া, কারও প্রয়োজন হলে সাহায্য করা—এসব ছোট কাজ শিশুর সামনে বাস্তব উদাহরণ তৈরি করে।

অন্যদিকে মা-বাবা যদি সব সময় শুধু নিজের সুবিধার কথা ভাবেন, তাহলে শিশুও একই আচরণ শিখতে পারে।

তাই শিশুর চরিত্র গঠনে শুধু উপদেশ নয়, অভিভাবকের নিজের আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একমাত্র সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন

একমাত্র সন্তানকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে দূরে রাখতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা যেতে পারে।

ভাগাভাগির অভ্যাস তৈরি করুন।
খাবার, খেলনা বা বই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দিন।

বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে মিশতে দিন।
শিশুকে সব সময় ঘরের মধ্যে আটকে না রেখে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলতে ও সময় কাটাতে দিন।

ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন।
বয়স অনুযায়ী পোশাক, বই বা ঘুরতে যাওয়ার জায়গা বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে পারেন।

সব আবদার পূরণ করবেন না।
শিশুর প্রয়োজন ও আবদারের মধ্যে পার্থক্য বোঝান।

অন্যের অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন।
বন্ধু কেন মন খারাপ করেছে, কেউ কেন কষ্ট পেয়েছে—এসব নিয়ে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করুন।

দায়িত্ব দিন।
বয়স অনুযায়ী নিজের বই-খাতা গুছানো, খেলনা ঠিক জায়গায় রাখা কিংবা পরিবারের ছোট কাজে সহযোগিতা করার অভ্যাস তৈরি করুন।

সহানুভূতি শেখান।
অসুস্থ মানুষ, দরিদ্র মানুষ বা অসহায় প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণের সুযোগ তৈরি করুন।

শেষ কথা

একমাত্র সন্তান হলেই সে স্বার্থপর হবে—এমন কোনো সরল নিয়ম নেই। একজন শিশুর চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে অনেকগুলো বিষয় মিলিয়ে।

ভাইবোন না থাকায় ভাগাভাগির কিছু স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হয়তো তার জীবনে কম থাকতে পারে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে সহজেই তৈরি করা সম্ভব।

আবার ভাইবোন থাকলেই যে শিশু স্বার্থপর হবে না, সেটিও সত্য নয়। একই পরিবারে বড় হওয়া ভাইবোনের মধ্যেও ব্যক্তিত্বের বড় পার্থক্য থাকতে পারে।

তাই শিশুর স্বার্থপরতা বা সহানুভূতিশীল হওয়ার বিষয়টি শুধু ভাইবোনের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিভাবকের আচরণ, শিশুর চারপাশের পরিবেশ এবং তাকে কী ধরনের মূল্যবোধ শেখানো হচ্ছে।

একমাত্র সন্তানকে অতিরিক্ত আদর করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি তাকে একা রেখে দেওয়াও ঠিক নয়। তাকে ভালোবাসতে হবে, আবার নিজের কাজ নিজে করার সুযোগও দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে, আবার অন্যের কথাও শুনতে শেখাতে হবে।

শিশুকে যদি ছোটবেলা থেকেই বোঝানো যায়—‘তোমার যেমন প্রয়োজন আছে, অন্যেরও প্রয়োজন আছে; তোমার যেমন কষ্ট হয়, অন্যেরও কষ্ট হয়’—তাহলে সে একমাত্র সন্তান হয়েও খুব সহজেই সহমর্মী, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।

সুতরাং একমাত্র সন্তান নয়, শিশুকে কীভাবে বড় করা হচ্ছে—তার ওপরই বেশি নির্ভর করে সে কেমন মানুষ হবে।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted