মানসিক চাপ কমাতে গান, মস্তিষ্ককে ফিরিয়ে আনে শান্ত অবস্থায়

ডেস্ক রিপোর্ট :

গান শুনতে ভালোবাসেন না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কাজের ফাঁকে, অবসরে কিংবা একা থাকার সময় অনেকেই পছন্দের গান শোনেন। কেউ ঘর গোছাতে গোছাতে গান শোনেন, কেউ পড়াশোনার সময়, আবার কেউ যানজটে বসে বা দীর্ঘ ভ্রমণে গানকে সঙ্গী করেন। মন খারাপ হলে প্রিয় গান শুনে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। আবার ব্যস্ত দিনের শেষে কয়েকটি গান শুনেই যেন কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

গান যে মানুষের মন ভালো করতে পারে, তা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে গান শুধু মনকে আনন্দ দেয় না, এর প্রভাব মস্তিষ্কের ওপরও পড়ে। নতুন এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, মানসিক চাপের পর গান শুনলে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে শরীরও ধীরে ধীরে চাপের অবস্থা থেকে স্বাভাবিক ও শান্ত অবস্থায় ফিরে যেতে শুরু করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপের পর গান শোনা মানুষের হৃৎস্পন্দন কমাতে, শরীরের উত্তেজনা কমাতে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ গান শুধু মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখে না, বরং শরীর ও মস্তিষ্কের চাপ কমানোর প্রক্রিয়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সংগীতের প্রভাব আলাদা

প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দও মানুষের মনকে শান্ত করতে পারে। বৃষ্টির শব্দ, নদীর পানির কলকল, সমুদ্রের ঢেউ কিংবা বাতাসের শব্দ শুনে অনেকেই স্বস্তি অনুভব করেন। এসব শব্দ পরিবেশকে শান্ত ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

তবে নতুন গবেষণায় সংগীতের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন প্রভাব দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, প্রকৃতির শব্দ মূলত মস্তিষ্ককে একটি শান্ত পরিবেশের অনুভূতি দিতে পারে। অন্যদিকে সংগীত মস্তিষ্ককে একটি নির্দিষ্ট ছন্দ ও ধারার মধ্যে নিয়ে যায়। গানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুর, তাল ও ওঠানামার মাধ্যমে মস্তিষ্ক এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করে এবং পরে সেই প্রত্যাশার সমাধানও পায়।

চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক এবং গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক ই দ্যু বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, মানসিক চাপের কোনো ঘটনা শেষ হয়ে গেলেও মস্তিষ্ক সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি শান্ত হয়ে যায় না। কিছু সময় মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় থেকে যেতে পারে।

প্রকৃতির শব্দ মস্তিষ্ককে শান্ত পরিবেশের অনুভূতি দিতে পারে। কিন্তু সংগীতের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট ধারার মধ্য দিয়ে এগোয়। গানে কখনো উত্তেজনা তৈরি হয়, কোনো সুর বা ঘটনার পর কী আসবে, তা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়। এরপর সেই উত্তেজনা বা প্রত্যাশার একটি সমাধানও ঘটে। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে শান্ত অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে করা হয়েছিল গবেষণা

গানের এই প্রভাব কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার জন্য গবেষকেরা কয়েক ধাপে পরীক্ষা চালান। গবেষণার একটি অংশে ৩০ জন অংশগ্রহণকারীকে গান শোনানো হয়। অন্য একটি পরীক্ষায় ৩০ জনের একটি দলকে শোনানো হয় প্রকৃতির পানির শব্দ।

তবে শুধু গান বা পানির শব্দ শুনিয়েই গবেষণা শেষ করা হয়নি। প্রথমে অংশগ্রহণকারীদের এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। এ জন্য তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কঠিন কিছু অঙ্ক করতে দেওয়া হয়।

শুধু অঙ্ক করলেই চাপ তৈরি হবে—এমন নয়। তাই গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের কাজের ফলাফল সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও দেন। এতে তাঁরা কাজটি ঠিকভাবে করতে পারছেন কি না, তা নিয়ে চাপ অনুভব করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে স্বল্প সময়ের জন্য তাঁদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়।

এরপর তাঁদের গান বা প্রকৃতির পানির শব্দ শোনানো হয়। গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, চাপের পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পর কোন ধরনের শব্দ শুনলে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেন।

শরীরে কী পরিবর্তন হলো

মানসিক চাপের আগে ও পরে অংশগ্রহণকারীদের শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষ করে তাঁদের হৃৎস্পন্দন এবং লালায় থাকা কর্টিসলের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

কর্টিসলকে সাধারণভাবে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। কোনো মানুষ যখন চাপ, ভয় বা উদ্বেগের পরিস্থিতিতে থাকেন, তখন শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই মানসিক চাপ কমার সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা গান শুনেছিলেন, তাঁরা মানসিক চাপের অবস্থা থেকে তুলনামূলক দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন সূচকেও শান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়।

গবেষকেরা আরও দেখতে পান, গান শোনার সময় হৃৎস্পন্দন কমে আসে। ত্বকের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতাও কমে যায়। শরীরের এই পরিবর্তনগুলো সাধারণত উত্তেজনা বা চাপ কমে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত।

অর্থাৎ গান শোনার পর শুধু অংশগ্রহণকারীদের ভালো লাগছিল—বিষয়টি এমন নয়। তাঁদের শরীরেও চাপ কমার কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল।

মস্তিষ্কের ভেতরে কী ঘটে

গবেষণার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা। এ জন্য গবেষকেরা আরেক দল অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্ক স্ক্যান করেন।

মস্তিষ্কের কার্যক্রম দেখতে তাঁরা ব্যবহার করেন এফএমআরআই বা ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে সক্রিয় হচ্ছে এবং এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের যোগাযোগ কেমন হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

স্ক্যানের ফলাফলে দেখা যায়, প্রকৃতির পানির শব্দ শোনার তুলনায় গান শোনার সময় মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট স্নায়বিক পথের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে শব্দ বা সংগীত প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশ এবং মানসিক চাপ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা অংশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ধরনে পরিবর্তন দেখা যায়।

এই ফলাফল থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন, সংগীত মস্তিষ্ককে শুধু বাইরের চিন্তা থেকে সরিয়ে রাখে না। বরং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চাপ কমানোর প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে।

শুধু মন অন্যদিকে সরিয়ে রাখে না

অনেক সময় আমরা মনে করি, মন খারাপ বা চাপের সময় গান শুনলে ভালো লাগে কারণ গান আমাদের সমস্যার কথা কিছু সময়ের জন্য ভুলিয়ে রাখে। অর্থাৎ মন অন্যদিকে চলে যায় এবং চাপের বিষয়টি নিয়ে ভাবার সুযোগ কমে।

গবেষণার ফলাফল বলছে, বিষয়টি সম্ভবত এর চেয়েও বেশি কিছু।

গান শোনার সময় মস্তিষ্কের শব্দ প্রক্রিয়াজাত করার অংশের সঙ্গে আবেগ, উত্তেজনা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত অংশগুলোর যোগাযোগের পরিবর্তন ঘটে। ফলে সংগীত মস্তিষ্ককে একটি নির্দিষ্ট ছন্দের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে।

একটি গানে যেমন শুরু আছে, মাঝখানে পরিবর্তন আছে এবং শেষে একটি সমাপ্তি আছে, তেমনি সুরের ওঠানামার সঙ্গে মস্তিষ্কও বিভিন্ন ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করে। কোনো সুরের পর কী আসতে পারে, মস্তিষ্ক অনেক সময় তার একটি ধারণা তৈরি করে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হলে মস্তিষ্ক একটি ধরনের স্বস্তি অনুভব করতে পারে।

গবেষকদের ধারণা, এই সংগঠিত প্রক্রিয়াই সংগীতকে মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ করে তুলতে পারে।

প্রকৃতির শব্দও উপকারী

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রকৃতির শব্দের কোনো উপকার নেই। বৃষ্টি, পানি বা অন্য প্রাকৃতিক শব্দও মানুষকে শান্ত করতে পারে। গবেষণায়ও প্রকৃতির পানির শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল।

কিন্তু সংগীতের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে যে ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে, প্রকৃতির শব্দে তা একইভাবে দেখা যায়নি।

গবেষকদের মতে, দুই ধরনের শব্দই মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে। তবে তাদের কাজ করার পদ্ধতি এক নয়। প্রকৃতির শব্দ হয়তো মস্তিষ্ককে শান্ত পরিবেশের সংকেত দেয়। অন্যদিকে সংগীত মস্তিষ্ককে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যায় এবং সুরের পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে সক্রিয় করে।

এ কারণেই গান শোনার পর অনেকের মধ্যে শুধু মানসিক স্বস্তিই নয়, শারীরিকভাবেও চাপ কমার লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

পছন্দের গান কি আরও বেশি কার্যকর?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—যে কোনো গান শুনলেই কি একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে?

গবেষকেরা এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো উত্তর দিচ্ছেন না। কারণ গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের পছন্দের কিছু গান ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভূমিকা থাকতে পারে।

একজনের কাছে যে গান আনন্দের, অন্য একজনের কাছে সেটি বিরক্তিকর হতে পারে। আবার কোনো বিশেষ গান কারও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সেই গান শুনলে তাঁর মধ্যে আনন্দ, দুঃখ, নস্টালজিয়া কিংবা অন্য কোনো আবেগ তৈরি হতে পারে।

তাই সংগীতের প্রভাব ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভিন্ন হতে পারে।

গবেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের গবেষণায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বিভিন্ন ধরনের সংগীত এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক পরিস্থিতিতে গান কীভাবে কাজ করে, তা আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের ক্ষেত্রে কী হবে?

এই গবেষণার আরেকটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে অংশ নিয়েছিলেন মূলত সুস্থ ও তরুণ মানুষ। তাঁদের স্বল্প সময়ের জন্য মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তব জীবনের মানসিক চাপ সব সময় এতটা স্বল্পমেয়াদি নয়। চাকরির চাপ, পড়াশোনার চাপ, আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক জটিলতা কিংবা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মতো বিষয় অনেক সময় মানুষের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

তাই কয়েক মিনিট বা অল্প সময়ের মানসিক চাপের পর গান শুনে যে ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে থাকা মানুষের ক্ষেত্রেও একই ফল হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

একইভাবে যারা কোনো মানসিক বা শারীরিক রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংগীতের প্রভাব কেমন হবে, সেটিও আলাদা করে গবেষণা করা প্রয়োজন।

দৈনন্দিন জীবনে গান হতে পারে স্বস্তির সঙ্গী

গবেষণাটি থেকে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—মানসিক চাপের পর গান শোনা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়। এটি শরীর ও মস্তিষ্ককে শান্ত করার একটি সম্ভাব্য উপায়ও হতে পারে।

দিনভর কাজের চাপের পর কিছু সময় নিজের পছন্দের গান শোনা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। পড়াশোনা বা কাজের ফাঁকে, ভ্রমণের সময় কিংবা দিনের শেষে কিছুক্ষণ সংগীত শোনা মানসিকভাবে আরাম দিতে পারে।

তবে এটিকে মানসিক চাপ বা কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, হতাশা, ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গান সেখানে সহায়ক একটি অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু সব সমস্যার সমাধান নয়।

সামনে আরও গবেষণার প্রয়োজন

গবেষণাটি সংগীত ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে নতুন কিছু তথ্য দিয়েছে। বিশেষ করে মানসিক চাপের পর মস্তিষ্ক কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, সে বিষয়ে সংগীতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে গবেষকেরাই বলছেন, সংগীত কীভাবে মস্তিষ্ককে শান্ত করে, তার পুরো প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। মস্তিষ্কের কোন অংশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কোন ধরনের সংগীত বেশি কার্যকর, গানের গতি বা ছন্দের কী ভূমিকা রয়েছে এবং ব্যক্তিগত পছন্দ কতটা প্রভাব ফেলে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে যদি এসব বিষয় আরও পরিষ্কারভাবে জানা যায়, তাহলে মানসিক চাপ কমানো বা মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংগীতকে আরও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে নতুন এই গবেষণা আমাদের পরিচিত একটি অভিজ্ঞতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা অনেকেই জানি, প্রিয় গান শুনলে মন ভালো লাগে। এখন গবেষণা বলছে, সেই ভালো লাগার পেছনে শুধু মনের বিষয় নয়, মস্তিষ্ক ও শরীরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।

অর্থাৎ ব্যস্ততা, চাপ আর নানা দুশ্চিন্তায় ভরা দিনের মধ্যে কয়েক মিনিটের একটি প্রিয় গান হয়তো শুধু মনকেই আনন্দ দেয় না—মস্তিষ্ককেও ধীরে ধীরে বলে, এবার একটু শান্ত হও।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted