নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

আইনি জটিলতা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

ডেস্ক রিপোর্ট :

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা কার হাতে থাকবে—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়। পরে আইন মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই।

কেন তৈরি হয়েছিল জটিলতা

বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকলে বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে না পারলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এ কারণে একই ব্যক্তি একসঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথও পড়াতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অন্যদিকে, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব কে পালন করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে কে সভাপতিত্ব করবেন বা কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন দেখা দেয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

জটিলতা দূর করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত মতামত চায়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমান স্পিকার যখন সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন, তখন সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে।

এ অবস্থায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা কার থাকবে, সে বিষয়েও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়।

মন্ত্রণালয়ের মত অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারই স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াতে পারবেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিষয়

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে না পারলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন সেই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি আপাতত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

এর কারণে সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব অন্য একজনকে পালন করতে হচ্ছে।

স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার

আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে ডেপুটি স্পিকার তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অর্থাৎ, বর্তমান স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ পরিচালনার দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তেছে।

তিনি এখন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

কায়সার কামালই পড়াবেন শপথ

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন। শপথ নেওয়ার পরই তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

বঙ্গভবনে প্রস্তুতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর এখন শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বঙ্গভবনে প্রস্তুতি চলছে।

শপথ অনুষ্ঠান সাধারণত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্ব শুরু করবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ, এখন শপথের পালা

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। নির্বাচনের পর এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ।

তবে শপথ পড়াবেন কে—এ নিয়ে তৈরি হয়েছিল আইনি জটিলতা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার পর সেই প্রশ্নেরও সমাধান হয়েছে।

সংবিধান মেনেই দায়িত্ব হস্তান্তর

আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধানের বিধান অনুসারেই সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পরিচালিত হচ্ছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সংসদ পরিচালনা ও রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালনে সাংবিধানিক বাধা নেই।

এতে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে যে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তা পরিষ্কার হয়েছে।

শপথের পর নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শুরু

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তি সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

শপথ অনুষ্ঠানের পর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও শেষ হবে।

ফলে আগামী শুক্রবারের শপথ অনুষ্ঠান দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব হতে যাচ্ছে।

সবশেষে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় এখন আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted