হার্টের রোগের ঝুঁকি কমাতে যা করতে পারেন

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হলো হৃদরোগ। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান এবং অতিরিক্ত ওজন। হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুস্থ জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এমনকি রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব।

এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো খাদ্যাভ্যাস। যেসব খাবার রক্তচাপ কমাতে, হার্টের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং ধমনিতে প্লাক জমা ঠেকাতে সাহায্য করে এমন খাবার খেতে হবে।বেশি খান উদ্ভিজ্জ খাবার

ফল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য, ডাল ও বাদাম হার্টকে দেয় ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ভালো চর্বি। উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস, যেমন মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট, প্রমাণিতভাবে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট কমান

লাল মাংস, মাখন, চিজ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও ভাজা খাবারে স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট থাকে, যা বাড়ায় খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরল। এর বদলে বেছে নিন স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। যেমন— বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডো এবং অলিভ অয়েল।

রিফাইন্ড শস্যের বদলে হোল গ্রেইন

ওটস, ব্রাউন রাইস, কুইনোয়া বা পুরো গমের রুটি ফাইবারসমৃদ্ধ, যা কোলেস্টেরল কমাতে ও হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, সাদা পাউরুটি ও চিনি-সমৃদ্ধ সিরিয়ালের মতো রিফাইন্ড শস্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে হার্টের ঝুঁকি তৈরি করে।লবণ ও চিনি কমান

অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। একইভাবে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা হার্টের রোগের ঝুঁকি অনেক বাড়ায়। তাই লেবেল দেখে খাবার কিনুন, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং ঘরে রান্না করুন। এগুলো লবণ ও চিনি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

হার্টের জন্য ভালো খাবার যোগ করুন

পাতাযুক্ত শাকসবজি, বেরি ফল, চর্বিযুক্ত মাছ (যেমন স্যামন বা সার্ডিন), রসুন ও গ্রিন টি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন। এগুলো রক্তপ্রবাহ উন্নত করে, প্রদাহ কমায় এবং হার্টকে সুস্থ রাখে।

হার্টের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূলমন্ত্র

অস্বাস্থ্যকর চর্বি, লবণ ও চিনি সীমিত করে এবং প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিয়ে খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা জরুরি। নিয়মিত ও সচেতনভাবে এমন ডায়েট অনুসরণ করলে হার্টের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা ও কিছুটা পর্যন্ত উল্টে দেওয়াও সম্ভব।

হার্টের ওষুধ হলো ব্যায়াম

সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ হার্টের রোগ প্রতিরোধ ও ঝুঁকি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করুন, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা সাঁতার।

ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, রক্তচাপ কমায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হার্টের পেশি মজবুত করে। এমনকি ছোট ছোট অভ্যাসও কাজে দেয়। যেমন লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাজের ফাঁকে স্ট্রেচিং করা বা যোগব্যায়াম অনুশীলন করা।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *