‘যুদ্ধের কারণে নিজেদের অনুভূতি নিয়ে ভাবার সময় নেই’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরের জন্য গাজার স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে। কারণ, বিবিসি নিউজসহ বিদেশি মিডিয়াকে তাদের দেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে দেয় না ইসরায়েল। তাই শত অসুবিধা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকা থেকে চলমান সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় দুই বছর ধরে নিজের শহরের বাসিন্দাদের ক্ষুধা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার খবর ক্রমাগত বহির্বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন সাংবাদিক ঘাদা আল-কুর্দ।

কিন্তু সেই কাজ গিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত যা অনুভব করেন, সেটা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘নিজেদের অনুভূতি নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই। এই যুদ্ধের সময়, আমরা আমাদের আবেগ প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ক্রমাগত আঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে হয়তো আমরা এই ক্ষমতা ফিরে পাব।’

সেই দিন না আসা পর্যন্ত, তার দুই মেয়ের জন্য তার ভয় এবং ভাই আর তার পরিবারের জন্য নিজের শোক চেপে রেখেছেন এই সাংবাদিক। যাদের মৃতদেহ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘাদা আল-কুর্দ বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের মানসিকতা এবং ব্যক্তিত্বকে বদলে দিয়েছে।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমাদের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের আগে যা ছিল তা ফিরে পেতে দীর্ঘ নিরাময়ের প্রয়োজন হবে।’

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানসহ ২৭টি দেশ ইসরায়েলকে গাজায় অবিলম্বে স্বাধীন বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি সমর্থন করেছে।

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার এবং সুরক্ষার পক্ষে কাজ করে ‘মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন’। এই আন্তঃসরকারি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দাও করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে গাজায় কর্মরতদের অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *