সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ, থাকছে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক; সংক্ষিপ্ত সফর শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি
ডেস্ক রিপোর্ট
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর আগের পরিকল্পনার তুলনায় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করেই এবারের সফরের মূল কর্মসূচি সীমিত রাখা হচ্ছে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এবার প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য তুলে ধরার কথা রয়েছে তাঁর।
সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা নিজ নিজ দেশের অবস্থান, অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে এবারের অধিবেশনে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত অগ্রাধিকারও সেখানে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উন্নয়ন ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা
নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকের মধ্যে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয় রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর যে প্রভাব পড়ছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈঠকে সে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ পৃথক আলোচনার আয়োজন করেছে।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের প্রত্যাবাসন এবং সংকটের টেকসই সমাধান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু।
নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট, তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশ এর আগেও জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশন ও আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে এসেছে।
বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের প্রস্তুতি রয়েছে।
এসব বৈঠকের সময় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে সব বৈঠকের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ।
এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও বৈঠকের প্রস্তুতি রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, মানবাধিকার, শরণার্থী সমস্যা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় উঠে আসতে পারে।
ট্রাম্পের নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক নেতাদের মিলিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সফর কেন সংক্ষিপ্ত হলো
প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর দীর্ঘ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুরুতে ২১ থেকে ২৯ বা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউইয়র্কের পাশাপাশি সানফ্রান্সিসকো সফরের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।
পরবর্তী সময়ে সফরসূচি পরিবর্তন করা হয়। সানফ্রান্সিসকো সফর বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনকেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যেই সফর সীমিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
ফলে এবার প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল গুরুত্ব থাকবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং এর ফাঁকে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে।
নাগরিক সংবর্ধনাও হচ্ছে না
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠান হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সংবর্ধনা বাতিলের বিষয়ে অবশ্য বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াস আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে সংবর্ধনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী সরকারি অর্থ ব্যয় করে বড় ধরনের নাগরিক সংবর্ধনায় আগ্রহী নন বলে জানানো হয়।
এরপর দলীয় নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
দলীয় উদ্যোগেও অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে দলীয় উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা থাকায় তাঁর উপস্থিতিতে ওই সংবর্ধনা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে সরকারি উদ্যোগ হোক বা দলীয় উদ্যোগ—প্রধানমন্ত্রীর এবারের সংক্ষিপ্ত সফরে বড় ধরনের নাগরিক সংবর্ধনা হচ্ছে না বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্য।
ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে সফর
এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকাও তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়েই সফর পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সফরের ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে আগের পরিকল্পনায় থাকা অতিরিক্ত কর্মসূচি বাদ দিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশন ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠককেন্দ্রিক সফরসূচি তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যু
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা সংকট, উন্নয়ন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরে আসছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর যে প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এটি তাঁর প্রথম ভাষণ। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।
বৈঠকগুলোতেও গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
জাতিসংঘের অধিবেশনের বাইরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকগুলোও এবারের সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাকিস্তান, কানাডা, কুয়েত, থাইল্যান্ড, ভুটান ও ক্রোয়েশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বিষয়ও আলোচনায়
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর সফরটি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয় উঠে আসতে পারে।
একইভাবে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও করপোরেট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিমান পরিবহন, যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয় এতে আলোচনায় আসতে পারে।
সংক্ষিপ্ত সফর, ব্যস্ত কর্মসূচি
সব মিলিয়ে এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত হলেও কর্মসূচির দিক থেকে ব্যস্ত থাকছে।
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাওয়ার পর জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকায় সফরের প্রতিটি দিনেই একাধিক কর্মসূচি থাকতে পারে।
নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা বা অতিরিক্ত কর্মসূচি না থাকায় সফরটি মূলত রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
সফরসূচি এক নজরে
- ২১ সেপ্টেম্বর: নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা
- ২৪ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ
- ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর: বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা
- ২৫ সেপ্টেম্বর: নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা
- সফরের আলোচ্য বিষয়: জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু
- সম্ভাব্য বৈঠক: বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে
প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফর তাই মূলত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অগ্রাধিকার জানানো এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ২১ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ এবং এরপর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি শেষে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে সফর শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
