শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি পথেই এগোচ্ছে সরকার: আইনমন্ত্রী
ভারতের কাছে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো আবেগ নয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। আইন অনুযায়ী যা করণীয়, তা-ই করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সরকার সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও আইনের আলোকে মোকাবিলা করা হবে।
রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। কর্মশালাটির আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সেটা আমরা ডিউ প্রসেসে করছি। সেখানে আমাদের আইনসংগতভাবে ডিল করা হবে। এটা দেখবেন যে আমরা যখন কোনো পদক্ষেপ নেব, এখানে ইমোশনের কোনো বিষয় নেই। বিষয়টা হলো, আমি আমার আইনটাকে প্রয়োগ করব।’
বন্দী বিনিময় চুক্তিতে ভারতের কাছে অনুরোধ
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের আদালতে সরকার কোনো আইনি লড়াই করবে কি না, সাংবাদিকেরা আইনমন্ত্রীর কাছে তা জানতে চান।
জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ভারতের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে থাকা বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এইটা ভারত সরকারের ব্যাপার। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় আমরা তাদের কাছে রিকোয়েস্ট করেছি। তারা আমাদেরকে হ্যান্ডওভার করলে আমরা তাঁকে ডিউ প্রসেসে যেভাবে আইনের আওতায় সোপর্দ করার দরকার, সেভাবে করব।’
অর্থাৎ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ভারত তাঁকে হস্তান্তর করলে দেশের প্রচলিত আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
‘আমাদের কাছে তিনি সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী’
সাংবাদিকেরা আইনমন্ত্রীর কাছে আরও জানতে চান, সরকার বন্দী বিনিময় চুক্তির কথা বললেও ভারতে শেখ হাসিনাকে বন্দী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ভারত সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে উল্লেখ করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে দেশের আদালতের রায়ের ভিত্তিতে। অন্য কোনো দেশ তাঁকে কীভাবে বিবেচনা করছে, সেটি বাংলাদেশের বিচারিক অবস্থান পরিবর্তন করে না।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী—এটা হলো আমাদের কাছে তাঁর পরিচয়।’
ভারতের বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা (ভারত) কী বলছেন, তারা বললে তো হবে না! আমার রাষ্ট্রে ওপেন আদালতে বিচার হয়েছে।’
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের আদালতের রায় ও দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে। এ ক্ষেত্রে আবেগ বা অন্য কোনো বিবেচনার পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়াকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আইনি প্রক্রিয়ায় সরকারের অবস্থান
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তির প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে অনুরোধ জানানোর কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
তবে তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আইনমন্ত্রীও বিষয়টিকে ভারতের সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করলে তাঁকে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হবে। এরপর দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চায় না। এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপও আইন ও বিচারিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই নেওয়া হবে।
রাজধানীতে আয়োজিত বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচারবিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
