মেয়ের বিয়ের আনন্দে থেমে গেল হৃদযন্ত্র, বিরল ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’

 ডেস্ক রিপোর্ট মেয়ের বিয়ে। চারপাশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, স্বজনদের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর উৎসবের আবহ। মেয়ের বিয়ের আনন্দে একজন মায়ের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তি। কিন্তু সেই আনন্দই একসময় তাঁর জন্য ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় তীব্র বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট।

প্রথমে চিকিৎসকেরাও মনে করেছিলেন, এটি হয়তো স্বাভাবিক হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। হৃদযন্ত্রের কোনো ধমনিতে ব্লকেজ ছিল না। বরং অতিরিক্ত আনন্দের আবেগে সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল তাঁর হৃদযন্ত্র।

কাতারে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীর ক্ষেত্রে এমন বিরল ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথি’। সাধারণভাবে এটি ‘ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম’ নামে পরিচিত। তবে দুঃখ বা মানসিক আঘাতের পরিবর্তে অতিরিক্ত আনন্দের কারণে সমস্যা তৈরি হওয়ায় চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মেয়ের বিয়ের পরই শুরু হয় সমস্যা

ওই নারী আগে থেকেই কিছুটা বুকের সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে আগের চিকিৎসা ও পরীক্ষায় তাঁর হৃদযন্ত্রে গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।

মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে তিনি বেশ আনন্দে ছিলেন। স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো, বিয়ের আয়োজন এবং উৎসবের ব্যস্ততায় তাঁর মধ্যে ছিল প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাস।

কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর তীব্র বুক ব্যথা শুরু হয়। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। তিন দিন ধরে এসব সমস্যা চলতে থাকে। হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করলে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।

ইসিজিতে ধরা পড়ে অস্বাভাবিকতা

ক্লিনিকে চিকিৎসকেরা তাঁর ইসিজি করেন। পরীক্ষায় হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে অস্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।

লক্ষণ ও ইসিজির ফল দেখে চিকিৎসকদের ধারণা হয়, তিনি হয়তো হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে দ্রুত একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও বিস্তারিত পরীক্ষা শুরু করেন চিকিৎসকেরা।

রক্ত পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘ট্রোপোনিন’ নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত হৃদযন্ত্রের পেশিতে ক্ষতি হলে এই প্রোটিন রক্তে বেড়ে যায়। ফলে চিকিৎসকদের হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।

তবে পরবর্তী পরীক্ষার ফল তাঁদের সেই ধারণা বদলে দেয়।

ধমনিতে কোনো ব্লকেজ পাওয়া যায়নি

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে ব্লক তৈরি হওয়া। কিন্তু ওই নারীর ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে এমন কোনো ব্লক পাওয়া যায়নি।

আল্ট্রাসাউন্ড ও এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তাঁর হৃদযন্ত্রের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, হৃদযন্ত্রের রক্তনালিগুলো স্বাভাবিক রয়েছে।

কিন্তু হৃদযন্ত্রের মূল পাম্পিং অংশ বা ভেন্ট্রিকলের কাজে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

হৃদযন্ত্রের যে অংশ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত পাঠানোর জন্য সংকোচন ও প্রসারণ করে, সেই অংশটি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়ে বিশেষ একটি আকৃতি ধারণ করেছিল।

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় ছিল, হৃদযন্ত্রের পাম্প করার ক্ষমতা হঠাৎ অনেক কমে গিয়েছিল।

পাম্পিং ক্ষমতা নেমে যায় ৩৫ শতাংশে

পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর হৃদযন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা আগে প্রায় ৫৮ শতাংশ ছিল। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর তা কমে মাত্র ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।

এর অর্থ হলো, তাঁর হৃদযন্ত্র আগের মতো কার্যকরভাবে রক্ত সারা শরীরে পাঠাতে পারছিল না।

তবে এমআরআই পরীক্ষায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। হৃদযন্ত্রের টিস্যুতে স্থায়ী ক্ষতির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। হৃদপেশির কোনো অংশ স্থায়ীভাবে নষ্টও হয়নি।

এই ফলাফল চিকিৎসকদের কাছে ঘটনাটিকে আরও পরিষ্কার করে তোলে।

ধরা পড়ে ‘ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম’

সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, ওই নারী তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

এটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোম’ নামে বেশি পরিচিত।

নাম শুনে মনে হতে পারে, এই রোগ শুধু দুঃখ বা মানসিক কষ্টের কারণে হয়। বাস্তবে তীব্র আবেগের যেকোনো পরিস্থিতিতেই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত দুঃখ, ভয়, মানসিক আঘাত কিংবা হঠাৎ কোনো খারাপ খবর যেমন এ সমস্যার কারণ হতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত আনন্দ বা প্রবল উত্তেজনাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

এই নারীর ক্ষেত্রে আনন্দই ছিল প্রধান কারণ। তাই চিকিৎসকেরা এটিকে ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কীভাবে আনন্দে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়?

চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীর তীব্র আবেগের মুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।

অতিরিক্ত ভয়, দুঃখ, উত্তেজনা কিংবা আনন্দের সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিনসহ বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোন দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

সাধারণ পরিস্থিতিতে এসব হরমোন শরীরকে কোনো চাপ বা বিপদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু কখনো কখনো হঠাৎ অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ হৃদযন্ত্রের ওপর সাময়িক চাপ তৈরি করতে পারে।

এর ফলে হৃদযন্ত্রের পেশি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। হৃদযন্ত্র ঠিকমতো সংকুচিত হতে না পারায় শরীরে রক্ত সঞ্চালনও কমে যেতে পারে।

বাইরের লক্ষণগুলো অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতো হওয়ায় প্রথমে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

দুঃখের পাশাপাশি আনন্দও কারণ হতে পারে

ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমের সঙ্গে সাধারণত দুঃখ বা মানসিক আঘাতের সম্পর্কের কথাই বেশি বলা হয়।

প্রিয়জনের মৃত্যু, বিচ্ছেদ, বড় ধরনের দুর্ঘটনা, ভয়ংকর কোনো সংবাদ বা তীব্র মানসিক চাপের পর অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে গবেষণায় পরে দেখা গেছে, শুধু নেতিবাচক আবেগ নয়, অত্যন্ত আনন্দের ঘটনাও একই ধরনের শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

২০১৬ সালে গবেষকেরা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তাঁরা দেখতে পান, আনন্দের ঘটনাও কিছু মানুষের হৃদযন্ত্রে তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথির মতো পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে বিয়ে, সন্তানের জন্ম, পুরস্কার পাওয়া, বড় কোনো সাফল্য কিংবা দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কোনো সুখবর।

খুবই বিরল ঘটনা

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র হৃদরোগের মতো উপসর্গ তৈরি করা ঘটনাগুলোর মধ্যে তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথির হার তুলনামূলকভাবে কম।

আর এই রোগের মধ্যে অতিরিক্ত আনন্দের কারণে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার ঘটনা আরও বিরল।

উপলব্ধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথির ক্ষেত্রে আনন্দজনিত ঘটনার হার প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি।

অর্থাৎ, এটি খুব সাধারণ কোনো সমস্যা নয়। তবে এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন স্বীকৃত।

দ্রুত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন নারী

হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও থেরাপি দেন।

চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর হৃদযন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতাও আবার স্বাভাবিকের কাছাকাছি ফিরে এসেছে।

যে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা একসময় ৩৫ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, তা পরে প্রায় ৫৬ শতাংশে ফিরে আসে।

এতে চিকিৎসকেরা আরও নিশ্চিত হন যে, এটি স্থায়ী হৃদপেশির ক্ষতি নয়; বরং সাময়িকভাবে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঘটনা ছিল।

সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে পার্থক্য

ব্রোকেন হার্ট সিন্ড্রোমের লক্ষণ অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের মতো হতে পারে। বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং ইসিজিতে অস্বাভাবিকতা—সবই দেখা দিতে পারে।

এমনকি রক্তে ট্রোপোনিনের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। ফলে শুধু প্রাথমিক লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা কঠিন।

তবে সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে অনেক সময় হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লক পাওয়া যায় এবং রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে হৃদপেশির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথির ক্ষেত্রে সাধারণত বড় ধরনের ধমনির ব্লক পাওয়া যায় না। হৃদযন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায় এবং পরে অনেক ক্ষেত্রে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।

আনন্দ মানেই ঝুঁকি নয়

এই ঘটনা শুনে আনন্দের সময় ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ অত্যন্ত বিরল।

অতিরিক্ত আনন্দের কারণে সাধারণভাবে মানুষের হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তবে কারও যদি বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সেটিকে শুধু মানসিক চাপ বা আনন্দের প্রতিক্রিয়া মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়।

এসব লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন হৃদরোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন

কাতারের ওই ৬৫ বছর বয়সী নারীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা পাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ফিরে আসে এবং তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।

পরে স্বাভাবিক জীবনযাপনও শুরু করেন তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, তাকোতসুবো কার্ডিওমাইওপ্যাথিতে আক্রান্ত অনেক রোগী যথাযথ চিকিৎসা পেলে ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষ করে এই রোগে যদি স্থায়ী হৃদপেশির ক্ষতি না হয়, তাহলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে।

‘ব্রোকেন হার্ট’ শুধু দুঃখের গল্প নয়

এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি মজার ও বিরল দিক সামনে এনেছে। ‘ব্রোকেন হার্ট’ নামটি শুনলে সাধারণত মনে হয়, শুধু কষ্ট বা দুঃখেই হৃদযন্ত্র ভেঙে পড়ে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, মানুষের হৃদযন্ত্র আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। খুব বেশি দুঃখ যেমন শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি অত্যন্ত তীব্র আনন্দও শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

কাতারের ওই নারীর ঘটনা তারই বিরল উদাহরণ। মেয়ের বিয়ের আনন্দে ভরা একটি দিন শেষ হয়েছিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে। আর চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা গেল, কোনো ধমনি বন্ধ হয়ে নয়, বরং প্রবল আনন্দের আবেগেই সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল তাঁর হৃদযন্ত্র।

চিকিৎসার পর অবশ্য সেই হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। ফলে ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ নামের এই বিরল ঘটনাটি যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের আবেগ ও হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।