মার্তিনেসকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মাঝেই দল শক্ত করল অ্যাস্টন ভিলা

ডেস্ক রিপোর্ট :

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে নিয়ে দল ছাড়ার গুঞ্জন চলছে। এর মধ্যেই নিজেদের স্কোয়াড আরও শক্তিশালী করে নিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা। জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি এবং ইতালির লেফট-ব্যাক মাত্তেও রুজ্জেরিকে স্থায়ীভাবে দলে নিয়েছে তারা।

বুধবার দুই ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে অ্যাস্টন ভিলা। নতুন মৌসুম সামনে রেখে স্কোয়াডের বিভিন্ন জায়গায় শক্তি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই দুই খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হয়েছে।

একজন গোলরক্ষক, অন্যজন ডিফেন্ডার। ফলে দলের রক্ষণভাগে দুই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিকল্প ও প্রতিযোগিতা বাড়ল ভিলার।

ভিলায় নতুন গোলরক্ষক সুজুকি

২৩ বছর বয়সী জিওন সুজুকি এরই মধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। জাপানের এই গোলরক্ষক গত দুই মৌসুম ইতালির পার্মার হয়ে খেলেছেন। সেখানে তিনি মোট ৫৯টি ম্যাচে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

পার্মার হয়ে নিয়মিত খেলার ফলে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন সুজুকি। এবার তাঁর সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে নিজেকে প্রমাণ করা।

জাতীয় দলেও সুজুকির জায়গা বেশ শক্তিশালী। জাপানের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপেও ছিলেন জাপানের গোলবারে

সুজুকির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল এবারের বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপে জাপান শেষ ষোলো পর্যন্ত খেলেছিল। দলটির চারটি ম্যাচেই গোলবারের নিচে ছিলেন সুজুকি। ফলে বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় নিয়মিত গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এবার প্রিমিয়ার লিগে কাজে লাগাতে চাইবেন তিনি।

অ্যাস্টন ভিলায় এসে অবশ্য শুরুতেই বড় প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে তাঁকে। কারণ দলের বর্তমান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস এখনো ক্লাব ছাড়ছেন কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মার্তিনেস থাকলে লড়াই হবে কঠিন

এমিলিয়ানো মার্তিনেস অ্যাস্টন ভিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর পরিচিতি ও গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ভিলার গোলবারেও দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে মার্তিনেস যদি শেষ পর্যন্ত ক্লাবেই থেকে যান, তাহলে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য সুজুকিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।

তবে দলে একজন মানসম্পন্ন গোলরক্ষক যোগ হওয়ায় ভিলার জন্য সেটি ইতিবাচক বিষয়। একজনের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি গোলরক্ষক পজিশনে প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

মার্তিনেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিও এখন ভক্তদের আগ্রহের বিষয়।

রক্ষণভাগে যোগ হলেন রুজ্জেরি

গোলরক্ষকের পাশাপাশি রক্ষণভাগও শক্তিশালী করেছে অ্যাস্টন ভিলা। ইতালির লেফট-ব্যাক মাত্তেও রুজ্জেরিকে স্থায়ীভাবে দলে নিয়েছে ক্লাবটি।

গত মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই ইতালিয়ান ডিফেন্ডার। লা লিগায় দলটির হয়ে ২৬টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।

শুধু ঘরোয়া লিগেই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন রুজ্জেরি।

ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান

রুজ্জেরির সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা।

স্পেনের লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার পর এবার ইংলিশ ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবল অন্য অনেক লিগের তুলনায় বেশি শারীরিক ও দ্রুতগতির। ফলে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া রুজ্জেরির জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

তবে আতলেতিকোর মতো বড় ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে বলে আশা করছে ভিলা।

দুই নতুন মুখে রক্ষণ আরও শক্তিশালী

নতুন মৌসুমের আগে অ্যাস্টন ভিলার জন্য রক্ষণভাগ শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই জায়গায় সুজুকি ও রুজ্জেরিকে দলে নেওয়া দলের গভীরতা বাড়িয়েছে।

সুজুকির মাধ্যমে গোলরক্ষক পজিশনে নতুন বিকল্প পেয়েছে ভিলা। অন্যদিকে রুজ্জেরির আগমনে লেফট-ব্যাক পজিশনেও প্রতিযোগিতা বাড়বে।

একটি দীর্ঘ মৌসুমে চোট, ক্লান্তি কিংবা নিষেধাজ্ঞার কারণে নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিত থাকতে হয়। সে ক্ষেত্রে শক্তিশালী বেঞ্চ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এই দুই খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার ফলে প্রয়োজনের সময় কোচের হাতে আরও বেশি বিকল্প থাকবে।

নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি

আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দল গোছানোর কাজ জোরদার করেছে অ্যাস্টন ভিলা।

ক্লাবটির লক্ষ্য শুধু স্কোয়াডের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং প্রতিটি পজিশনে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় নিশ্চিত করা। সুজুকি ও রুজ্জেরিকে দলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা গেল।

বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবলে ভালো করতে হলে শক্তিশালী স্কোয়াড প্রয়োজন। একাদশের পাশাপাশি বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের মানও গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাস্টন ভিলা এবার সেই দিকেই নজর দিচ্ছে।

প্রথম ম্যাচেই দেখা যাবে নতুনদের?

নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের শুরুতেই অ্যাস্টন ভিলার সামনে কঠিন পরীক্ষা। আগামী রোববার ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করবে দলটি।

সেই ম্যাচে নতুন দুই খেলোয়াড়ের একজন কিংবা দুজনই মাঠে নামবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিশেষ করে গোলরক্ষক পজিশনে সুজুকিকে ঘিরে আগ্রহ বেশি থাকবে। মার্তিনেস ক্লাবে থাকলে তাঁকে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে। আর মার্তিনেস দল ছাড়লে সুজুকির সামনে মূল একাদশে জায়গা করে নেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে রুজ্জেরিও সুযোগ পেলে প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন।

ভিলার জন্য নতুন মৌসুমের নতুন আশা

দুই নতুন খেলোয়াড়কে স্থায়ীভাবে দলে ভিড়িয়ে অ্যাস্টন ভিলা বুঝিয়ে দিয়েছে, নতুন মৌসুমের জন্য তারা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে চায়।

একদিকে মার্তিনেসকে ঘিরে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নতুন খেলোয়াড়দের আগমন—সব মিলিয়ে ভিলার গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগে এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

সুজুকির আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা এবং রুজ্জেরির লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগবে বলে আশা করছে ক্লাবটি।

এখন মাঠের পারফরম্যান্সেই প্রমাণ হবে, নতুন দুই সংযোজন অ্যাস্টন ভিলাকে আসন্ন মৌসুমে কতটা এগিয়ে নিতে পারে। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ থেকেই তাই ভিলার নতুন মুখদের দিকে থাকবে সমর্থকদের নজর।