ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাম নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জনতার কণ্ঠ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর নেতাদের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সীমান্ত বিরোধ এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।
একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যের সতর্কতা:
সম্মেলনে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় ‘বাছবিচারহীনভাবে বাড়তে থাকা শুল্ক’ নিয়ে উদ্বেগ এবং একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপের দিকে ইঙ্গিত থাকলেও কৌশলগত কারণে ঘোষণাপত্রে সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্র’ নাম উল্লেখ করা এড়ানো হয়েছে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নীরবতা:
এবারের সম্মেলনের বড় ব্যতিক্রম ছিল যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে কোনো উল্লেখ না থাকা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানানো হলেও, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।
কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড়:
উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস ছাপিয়ে এই সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর এই প্রথম চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দিল্লি সফর করলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তাঁর করমর্দন ও ব্যবসায়িক বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দুই দেশের অনাস্থা কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্মেলনটি প্রমাণ করেছে যে, পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বাইরে থেকেও ব্রিকস বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণে একটি শক্তিশালী বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে।