বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ঘাঁটি, জাল ছড়িয়েছে দেশজুড়ে

চীনা ও নাইজেরীয় নাগরিক বেশি, সহযোগী হিসেবে কাজ করছে দেশীয় এজেন্ট; প্রতারণার টাকা যাচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে

আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সদস্যরা। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার জন্য বাংলাদেশকে তারা অপারেশনাল হাব হিসেবে ব্যবহার করছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীনা ও নাইজেরীয় নাগরিকদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পর্যটকসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসায় বাংলাদেশে এসে বিদেশি নাগরিকদের কেউ কেউ অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে প্রতারণার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তাঁদের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় বাংলাদেশি এজেন্টরাও।

অনলাইন ক্যাসিনো, ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, অনলাইন ঋণের নামে ব্ল্যাকমেল এবং সাইবার প্রতারণাসহ নানা অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ব্যাপক ব্যবহার এবং সাইবার ও আর্থিক অপরাধ তদন্তে কিছু দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্রগুলো।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বেশি তৎপরতা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা ও সিলেটের মতো বড় শহর ও পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত দুই বছরে শুধু রাজধানী ঢাকা থেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অর্ধশত চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে চার শতাধিক বিদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ব্যবসা, ভ্রমণ, শিক্ষা ও খেলোয়াড় ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশ বৈধভাবে বাংলাদেশে এলেও পরে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন অবৈধভাবে অবস্থান করেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরের বাইরে থাকছেন।

অনলাইন ক্যাসিনো ও প্রতারণার আসর

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যরা অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ও স্ক্যামিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এসব অনলাইন ক্যাসিনোর মূল সার্ভার ও ওয়েবসাইট অনেক সময় বিদেশে হোস্ট করা হয়। রাশিয়া, মাল্টা, সাইপ্রাস এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সার্ভার ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো চক্র ডার্ক ওয়েব বা নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর কাছ থেকে তৈরি সফটওয়্যার নিয়ে অনলাইন ক্যাসিনো চালু করে। বাংলাদেশে বসে তারা এর কার্যক্রম পরিচালনা করলেও মূল অবকাঠামো থাকে দেশের বাইরে।

চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামে অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ার পর এসব চক্র দক্ষিণ এশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

বাংলাদেশের তুলনামূলক সহজ ইন্টারনেট সুবিধা এবং এমএফএসের ব্যাপক বিস্তারকে তারা কাজে লাগাচ্ছে।

প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী থেকে বেকার তরুণ

আন্তর্জাতিক চক্রের প্রতারণার ধরনও নানা রকম। তৈরি পোশাক খাতের মাঝারি ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের টার্গেট করা হচ্ছে।

ব্যবসায়িক ই-মেইল দখল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রলোভন দেখানো এবং অনলাইনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে যোগাযোগ করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বেকার তরুণদের বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট বা চাকরির কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমেও প্রতারণা চলছে।

চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। নিজেদের বিলাসী জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

কখনো ভুয়া পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখা হয়। একপর্যায়ে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে মানসিক সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়া হয়।

ফিশিং লিংকে নিয়ন্ত্রণ, পরে টাকা হাতিয়ে নেওয়া

সাইবার প্রতারণার আরেকটি কৌশল হলো ফিশিং লিংক পাঠানো।

টার্গেট ব্যক্তিকে কোনো আকর্ষণীয় অফার, চাকরি, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো প্রলোভন দেখিয়ে একটি লিংকে ক্লিক করতে বলা হয়। ওই লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মোবাইল, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অর্থ সরিয়ে নেওয়া বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগও রয়েছে।

কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন।

দেশীয় এজেন্টের মাধ্যমে লেনদেন

আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের অর্থ লেনদেনে স্থানীয় বাংলাদেশি এজেন্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চক্রের সদস্যরা নিজেরা সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করেন। বিনিময়ে এজেন্টদের কমিশন দেওয়া হয়।

প্রতারণার টাকা কোনো একটি হিসাবে জমা হওয়ার পর দ্রুত একাধিক ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এতে অর্থের মূল উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরে এসব অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের একটি বড় গোপন বাজার সক্রিয় রয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে এমএফএসে আসা অর্থ স্থানীয় এজেন্টদের সহায়তায় দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়।

তাঁর মতে, আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরকারের নজরদারি থাকলেও এই গোপন অর্থনীতি বিদেশিদের অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি করছে।

বিদেশি অপরাধীদের মধ্যে চীনা ও নাইজেরীয় বেশি

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের (দক্ষিণ) যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, বিদেশিদের প্রতারণার তৎপরতা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় বেশি সংখ্যক বিদেশি গ্রেপ্তার হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাইবার মাধ্যমে প্রতারণা বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিদেশি সাইবার অপরাধীদের মধ্যে চীনা ও নাইজেরীয় নাগরিকের সংখ্যা বেশি।

অনেকে বিদেশে বসে বাংলাদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে অপরাধ করছে বলেও জানান তিনি। আবার যারা বাংলাদেশে বসে অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

অপরাধীর জাতীয়তা নয়, প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান, অপরাধে জড়িত থাকা কিংবা অপরাধ করে দেশ ছাড়ার চেষ্টা—এসব বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, অপরাধীর জাতীয়তা বিবেচনা করা হয় না। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারদের তথ্য যাচাই

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার শামীম হোসেন বলেন, কয়েকটি দেশের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত চক্র চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার জাল ছড়িয়েছে।

প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারে স্টারলিংক ব্যবহারের তথ্য

কক্সবাজারে গ্রেপ্তার একটি চক্রের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন মুদ্রা-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই চক্রটি স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও কারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাঁরা দেশত্যাগ করতে পারেননি।

তাঁদের কাছ থেকে আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস পরীক্ষা করে চক্রটি কীভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ হলে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

কারাগারেও বিদেশি বন্দি বাড়ছে

কারা অধিদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বিদেশি বন্দিদের মধ্যে চীনা, আফ্রিকান ও ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা বেশি।

বিদেশি বন্দিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণত যে জেলায় তাঁরা গ্রেপ্তার হন, সেই জেলার কারাগারেই রাখা হয়।

বিদেশি বন্দিদের খাবারের ক্ষেত্রেও তাঁদের নিজ নিজ দেশের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হয়।

যেসব বিদেশি বন্দির আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তাঁদের জন্য সরকারি ব্যবস্থায় আইনজীবী দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে শুধু গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান ও তাঁদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। এক দেশের নাগরিক বাংলাদেশে বসে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, অর্থ যাচ্ছে তৃতীয় দেশে এবং পুরো লেনদেন হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। ফলে এসব অপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে ইমিগ্রেশন, পুলিশ, সাইবার ইউনিট, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাও জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই চক্রগুলোর পুরো নেটওয়ার্ক, দেশীয় সহযোগী এবং অর্থ পাচারের পথ শনাক্ত করতে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।