পেনশনে বড় সুখবর: নমিনির টাকা পাওয়ার বয়সসীমা বেড়ে ৮০ বছর, চালু হচ্ছে শরিয়াহ স্কিম

অর্থনীতি ডেস্ক ।। অনলাইন সংস্করণ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ঢাকা: সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাভুক্ত গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের সুখবর দিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে কোনো পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী, স্ত্রী কিংবা মনোনীত নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বিদ্যমান ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে。 একই সঙ্গে ধর্মপ্রাণ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সর্বজনীন পেনশনে সম্পূর্ণ ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক নতুন পেনশন স্কিম চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ。
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান。 অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়。
নমিনির পেনশন সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি
বৈঠক শেষে নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, সর্বজনীন পেনশনের নিয়ম অনুযায়ী পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন。 তবে পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর ওপর নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনিকে আগে ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত এই পেনশন–সুবিধা দেওয়া হতো。 গ্রাহকদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বর্তমান পর্ষদ এই বয়সসীমা আরও ৫ বছর বাড়িয়ে ৮০ বছর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে。
আসছে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন ও প্রগতি স্কিমের সম্প্রসারণ
বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে。 এই স্কিমের কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা যৌথভাবে কাজ করছেন。 অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর দ্রুতই এটি চালু করা হবে。
এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য আলাদা পেনশন ব্যবস্থা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বহু কোম্পানির কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে রয়েছেন。 এবার সরকারি মালিকানাধীন সেসব কোম্পানির কর্মীদের সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে。 পাশাপাশি প্রবাসীদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে বিদেশে যাওয়ার আগেই ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও স্পট নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে。
৫৫ বছরে পেনশন ও ঋণ সুবিধা নিয়ে যা জানা গেল
গ্রাহকদের পক্ষ থেকে পেনশন শুরুর বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার একটি জোর দাবি ছিল。 বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি。 এ প্রসঙ্গে মো. সুরাতুজ্জামান জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেনশন শুরুর বয়স ৬২ থেকে ৬৭ বছর এবং বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু দিন দিন বাড়ছে。 তাই আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এবং অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি পরে আবার পর্যালোচনা করা হবে。
এ ছাড়া সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের জরুরি প্রয়োজনে ঋণ দেওয়ার সুবিধা এবং কর্মসূচির সঙ্গে ‘স্বাস্থ্যবিমা’ চালু করার বিষয়টিও টেবিলে ছিল。 তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন ও আর্থিক ঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে。
নিবন্ধন বাড়াতে প্রণোদনা বৃদ্ধি ও অডিট স্কোয়াড
দেশজুড়ে সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন সংখ্যা বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে。 মাঠপর্যায়ে প্রতিটি নতুন নিবন্ধনের বিপরীতে আগে ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে。
সর্বোপরি, সাধারণ মানুষের জমানো আমানতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি অডিটের পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিয়মিত অডিট বা নিরীক্ষা করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ。