পরিবারকে জিম্মি করে প্রকৌশলীর বাড়িতে হানা, লুট কোটি টাকার সম্পদ

পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ টাকা ও ক্যামেরাসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেল ডাকাত দল
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙ্গা এলাকায় এক প্রকৌশলীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে ৬ থেকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল। এরপর পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে লুটপাট চালায় তারা। এ সময় ৩২ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা, ক্যামেরা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পরিবারের দাবি, লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় কোটি টাকা।
রোববার (১ নভেম্বর) ভোররাতে নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙ্গা এলাকার সমর কুমার বিশ্বাস ও তাঁর ভাই প্রকৌশলী মানিক কুমার বিশ্বাসের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এভাবে লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোররাতে ৬ থেকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল বাড়ির নিচতলার একটি জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়ির সদস্যরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সুযোগে ডাকাতরা ঘরের ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পরে তাঁদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করা হয়। এরপর ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র বের করতে থাকে।
একপর্যায়ে ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, ক্যামেরা ও অন্যান্য দামি সামগ্রী সংগ্রহ করে তারা। পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে রেখে ডাকাতরা লুটপাট শেষে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্বর্ণালঙ্কার ৪০ ভরি, নগদ টাকা এক লাখ
বাড়ির মালিক সমর কুমার বিশ্বাস জানান, ভোররাতে ডাকাতরা জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে ফেলে।
তিনি বলেন, ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩২ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা, ক্যামেরা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় কোটি টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে লুটপাট চালানোয় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হঠাৎ এমন ঘটনায় পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ভাদুলীডাঙ্গা এলাকায় বসতবাড়িতে ঢুকে এ ধরনের ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ
ডাকাতির খবর পেয়ে রোববার সকালে নড়াইল সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করে এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে প্রকৌশলীর বাড়িতে সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করছে।