নিষেধাজ্ঞায় ইরানের শাসনব্যবস্থা পতন নয়, অর্থনীতি ও আইআরজিসিতে বড় চাপ

ডেস্ক রিপোর্ট :
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারবে না। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর—আইআরজিসির অর্থের উৎসেও আঘাত করতে পারে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয়।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুলরয় বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানের ভেতরে থাকা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে যুক্ত অন্য দেশ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকও এসব নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি জানান, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে বলা হয় ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা। এর অর্থ হলো, শুধু ইরানের ওপর নয়, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের ওপরও চাপ তৈরি করা হবে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থাগুলোকে তাদের লেনদেন নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে হতে পারে।
মুলরয়ের মতে, চীনসহ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানও যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরানের অর্থ লেনদেনে সহায়তা করে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এর ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিদেশ থেকে অর্থ আনা, পণ্য আমদানি করা কিংবা তেল বিক্রির অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ঝুঁকি বাড়বে।
ইরানের তেল বাণিজ্যেও চাপ
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ব্যাংক বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করছে না। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান যেসব পথ ব্যবহার করে, সেগুলোকেও টার্গেট করা হচ্ছে বলে জানান মুলরয়।
বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের কথা উল্লেখ করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি তেল পরিবহন বা বিক্রি করা কঠিন হলেও বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানির মাধ্যমে ইরান তেল রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ কাজে ব্যবহৃত জাহাজ ও নেটওয়ার্ককে সাধারণভাবে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়।
মুলরয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের ওপর চাপ তৈরি করা হলে ইরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর ইরানের অর্থনীতিতে তেল রপ্তানির গুরুত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাব দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারেবে এখানেই একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করা গেলেও তাতে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব দ্রুত ভেঙে পড়বে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। বরং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মুলরয় মনে করেন, অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা সম্ভব হলেও শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো অনেক বেশি কঠিন।
শাসনব্যবস্থার পতন হবে না
মাইকেল মুলরয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হলো—নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব হবে না।
তার মতে, নিষেধাজ্ঞা একটি দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে, সরকারের আয় কমাতে পারে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থের প্রবাহে বাধা তৈরি করতে পারে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ থেকেই সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ইরানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে অর্থনীতিতে। দেশটির সরকার যদি বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমে যেতে দেখে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে আরও বেশি বাধার মুখে পড়ে, তাহলে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে। পণ্যের দাম বাড়া, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা এবং কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যার মধ্যেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলে মনে করেন মুলরয়।
আইআরজিসিকে লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক চাপ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসিও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিতেও আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মুলরয়ের মতে, আইআরজিসির অর্থের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা গেলে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি অর্থ লেনদেন, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেলের ওপর চাপ বাড়ানো হলে আইআরজিসি সমস্যায় পড়তে পারে।
তবে এটিও একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই রাতারাতি আইআরজিসির অর্থের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটা নয়। ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ চালু রাখার চেষ্টা হতে পারে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে নিষেধাজ্ঞার আওতা ঠিকভাবে প্রয়োগ করা। একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর একই ধরনের কাজ অন্য প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে চালু হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্য পক্ষগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
ধরা যাক, কোনো বিদেশি ব্যাংক ইরানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করল। যদি ওই লেনদেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে, তাহলে সেই ব্যাংকও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একইভাবে কোনো বিদেশি কোম্পানি ইরানের তেল বা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় যুক্ত থাকলেও তাদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ধরনের ঝুঁকির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার বিষয়ে সতর্ক হয়ে যায়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি নিতে চায় না।
ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইরানের জন্য নতুন বাধা তৈরি হতে পারে এবং দেশটির অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়তে পারে।
চীনের ওপরও চাপ আসতে পারে
ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরানের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
মুলরয় ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে লেনদেন করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিতে পারে। এর অর্থ হলো, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।
তবে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বড় দেশগুলোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিলে তা শুধু ইরান নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে চীনের মতো বড় অর্থনীতির সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখা ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুদ্ধের বদলে নিষেধাজ্ঞা কেন?
মুলরয়ের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।
তার মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের সামনে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সেটি রাজনৈতিকভাবে সহজ সিদ্ধান্ত নয়। বিশেষ করে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া মার্কিন সরকারের জন্য জনমতের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ নতুন যুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সতর্ক। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান বাড়ানোর পরিবর্তে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির পথ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
মুলরয়ের মতে, এই বাস্তবতায় নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিকল্প হাতিয়ার। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো সম্ভব, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধের মতো তাৎক্ষণিক বড় সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয় না।
তবে নিষেধাজ্ঞাও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক সংঘাত ধীরে ধীরে সামরিক উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা
মুলরয় সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বর্তমান অচলাবস্থা সামরিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
বিশেষ করে ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মিত্র দেশ বা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে ওয়াশিংটনের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক মিত্র ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। ইরান এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাও রয়েছে। ফলে ছোট কোনো হামলা বা ভুল হিসাব থেকেও বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ কারণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য যদি হয় ইরানকে আলোচনায় বা নীতিগত পরিবর্তনের দিকে আনা, তাহলে একই সময়ে বড় সামরিক সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতিতে চাপ, কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিশ্চিত
বিশ্লেষকদের কাছে মূল বিষয় হলো—নিষেধাজ্ঞা কতটা অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে পারবে এবং সেই ক্ষতি রাজনৈতিক পরিবর্তনে কতটা প্রভাব ফেলবে।
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। দেশটি এসব নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় বিকল্প বাণিজ্যিক পথ, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী এবং নিজস্ব আর্থিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছে।
তাই নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য সমস্যা বাড়াবে ঠিকই, কিন্তু তাতে দেশটির সরকার অচল হয়ে যাবে—এমনটা বলা কঠিন। বরং ইরান নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
মুলরয়ের বক্তব্যও মূলত সেদিকেই ইঙ্গিত করে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের অর্থনীতি এবং আইআরজিসির অর্থায়নে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু সেই চাপ থেকে সরাসরি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
সামনে কী হতে পারে
নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকি বিবেচনা করে তাদের কার্যক্রম কমিয়ে দিতে পারে। এতে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ইরানও নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় বিকল্প পথ খুঁজবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও পাল্টা কৌশলের লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা যদি ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সাফল্য হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু যদি এর ফলে ইরান আরও কঠোর অবস্থান নেয় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি উল্টো আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
মাইকেল মুলরয়ের সতর্কবার্তার মূল কথা তাই পরিষ্কার—নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতি ও আইআরজিসিকে দুর্বল করার মতো শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে দ্রুত শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব নয়। বরং অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা, একই সঙ্গে পরিস্থিতিকে সরাসরি যুদ্ধে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকানো। আর এই ভারসাম্য কতটা সফলভাবে রাখা যায়, তার ওপরই আগামী দিনের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অনেক কিছু নির্ভর করবে।