ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড পতন, ১ ডলারে ২০ লাখ রিয়াল
ডেস্ক রিপোর্ট :
যুদ্ধ, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চাপে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরপতন থামছে না। দেশটির ইতিহাসে এবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য নেমে গেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
রবিবার ইরানের খোলাবাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে প্রায় ২০ লাখ রিয়াল পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ একটি ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ ইরানি রিয়াল।
কয়েক দিনের মধ্যেই রিয়ালের এই বড় ধরনের পতন হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে খোলাবাজারে ১ ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিয়াল। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়ে ২০ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে।
এতে ইরানের অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর পণ্য, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিয়ালের দরপতনের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের চাপ, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে ইরানের মুদ্রাবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানেই বড় পতন
ইরানের মুদ্রাবাজারে রিয়ালের দরপতন নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির মুদ্রা দুর্বল হয়ে আসছে। তবে এবার পতনের গতি ও মাত্রা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সপ্তাহের শুরুতে খোলাবাজারে ১ ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৬৫ হাজার রিয়াল। কয়েক দিনের মধ্যে সেই দাম বেড়ে প্রায় ২০ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য আরও কমেছে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগও এই দরপতনে ভূমিকা রাখছে।
ইরানের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিদেশি মুদ্রা ধরে রাখার প্রবণতা বাড়লে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়ে। কারণ মানুষ যখন মনে করে ভবিষ্যতে রিয়ালের মূল্য আরও কমতে পারে, তখন তারা রিয়ালের বদলে ডলার বা অন্য কোনো শক্তিশালী মুদ্রা কিনতে চায়।
এতে বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রিয়ালের মূল্য আরও কমে যায়।
কয়েক দশকের ব্যবধান
রিয়ালের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে কয়েক দশক আগের বিনিময় হারের তুলনা করলে পতনের মাত্রা আরও পরিষ্কার হয়।
১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি, ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার আগে, ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রার মূল্য ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ রিয়াল।
আজ সেই একই ১ ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২০ লাখ রিয়াল।
অর্থাৎ কয়েক দশকের ব্যবধানে ইরানি মুদ্রার মূল্য নাটকীয়ভাবে কমেছে।
অবশ্য সময়ের সঙ্গে ইরানের মুদ্রাব্যবস্থা, বিনিময় হার এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। তারপরও বর্তমান বাজারদর দেশটির মুদ্রার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।
নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ছে
ইরানের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন নানা বাধার মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে তেল রপ্তানি থেকে আয় করা, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ইরানকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইরানের অর্থনীতির জন্য তেল রপ্তানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় একটি অংশ আসে জ্বালানি রপ্তানি থেকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল বিক্রি ও সেই অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।
ফলে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে। একই সময়ে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেলে রিয়ালের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বড় কারণ
ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কেরও ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা কমার বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বাজারে যখন কোনো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা সাধারণত ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেন। ইরানেও এর প্রভাব পড়ছে।
অনেকেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করছেন। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং রিয়ালের মূল্য কমছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা
ইরানের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
এর প্রভাব সরাসরি ইরানের অর্থনীতিতেও পড়ে। কারণ যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্য, তেল রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হয়।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
রিয়ালের দরপতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
ইরানকে খাদ্য, ওষুধ, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে হয়। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য কমে গেলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির খরচ বেড়ে যায়।
আমদানিকারকদের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যুক্ত হয়। ফলে বাজারে খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু একই সময়ে তাদের আয় একই হারে না বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কারণে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। রিয়ালের নতুন করে বড় ধরনের দরপতন সেই অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্যবসায়ীদের জন্যও বাড়ছে অনিশ্চয়তা
রিয়ালের দরপতনের কারণে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ছেন।
আমদানিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পণ্যের মূল্য নির্ধারণ। আজ যে দামে ডলার কেনা যাচ্ছে, কয়েক দিন পর একই দামে ডলার পাওয়া নাও যেতে পারে।
ফলে আমদানিকারকদের পণ্যের দাম নির্ধারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যদি ভবিষ্যতে রিয়ালের মূল্য আরও কমবে বলে আশঙ্কা করেন, তাহলে তারা পণ্য মজুত করার প্রবণতা দেখাতে পারেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে, যদি উৎপাদনের জন্য আমদানি করা কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়।
ফলে রিয়ালের দরপতনের প্রভাব শুধু মুদ্রাবাজারে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ধীরে ধীরে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বাড়ছে
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরও অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা রিয়ালের দরপতনের গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বাজারে যখন মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন তারা নিজেদের সঞ্চয়কে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে রাখার চেষ্টা করে। ইরানে ডলার ও অন্যান্য বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বাড়ার পেছনেও এমন প্রবণতা কাজ করছে।
অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে একদিকে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে ডলারের দাম বাড়ছে এবং রিয়ালের মূল্য কমছে।
তেল রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরানের অর্থনীতির জন্য তেল রপ্তানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞা, পরিবহন ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে বাধার কারণে তেল রপ্তানি থেকে আয় করা অর্থ ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যা তৈরি হয়।
যদি ইরানের তেল রপ্তানি কমে যায় বা বিক্রি করা তেলের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট আরও বাড়তে পারে।
এতে রিয়ালের ওপর চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, পরিবহন পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপরও ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভরশীল।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়েও উদ্বেগ
রিয়ালের দরপতনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবেশাধিকার।
একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বৈদেশিক সম্পদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সীমিত।
ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরান সরকার বিভিন্ন সময় মুদ্রার দর নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু বাজারে মানুষের আস্থা কমে গেলে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ দিয়ে মুদ্রার পতন থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।
যুদ্ধের ভয়েও অর্থনীতি চাপে
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আশঙ্কাও ইরানের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
যুদ্ধ শুরু হলে কোনো দেশের অর্থনীতিতে সাধারণত উৎপাদন, বাণিজ্য, পরিবহন ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে তেল স্থাপনা, বন্দর, পরিবহন ব্যবস্থা বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়লে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
যুদ্ধের আশঙ্কা থাকলেও ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক হয়ে ওঠেন। অনেকে নগদ রিয়ালের বদলে ডলার বা অন্য সম্পদ ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
এতে স্থানীয় মুদ্রার ওপর আরও চাপ পড়ে।
সংকটের চক্র আরও গভীর হচ্ছে
রিয়ালের দরপতন, মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের আস্থার সংকট একে অপরকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রিয়ালের মূল্য কমলে আমদানি ব্যয় বাড়ে। আমদানি ব্যয় বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ে। পণ্যের দাম বাড়লে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে।
আবার মানুষ যখন মনে করে রিয়ালের মূল্য আরও কমবে, তখন তারা ডলার কিনতে শুরু করে। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রিয়ালের মূল্য আরও কমে।
এভাবে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ইরানের মুদ্রাবাজারে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা একসঙ্গে কাজ করছে।
সামনে আরও কঠিন সময়?
ইরানের রিয়ালের দরপতন কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনই বলা কঠিন।
যদি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে ইরানের তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বাজারে আস্থাও ফিরতে পারে।
কিন্তু যুদ্ধের আশঙ্কা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে রিয়ালের ওপর চাপ আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত
১ ডলারের বিনিময়ে ২০ লাখ রিয়াল—ইরানের জন্য এটি শুধু একটি মুদ্রাবাজারের সংখ্যা নয়। এটি দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংকটের গভীরতারও একটি বড় সংকেত।
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপ, বিদেশি মুদ্রার সংকট, তেল রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সীমিত প্রবেশাধিকার—সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে।
এর সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রিয়ালের মূল্য কমার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সঞ্চয়ের মূল্য কমছে, পণ্যের দাম বাড়ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
এখন ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মুদ্রাবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। কিন্তু যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপ অব্যাহত থাকলে সেই কাজ সহজ হবে না।
রিয়ালের রেকর্ড দরপতন তাই ইরানের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। সামনে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপথ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার শুরু হয় কি না—তার ওপর।
