ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় কেন বাড়ছে তরুণদের, কী ক্ষতি হতে পারে?
ডেস্ক রিপোর্ট :
ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় বা ঘষাঘষির শব্দ অনেকের কাছেই পরিচিত। পাশে থাকা মানুষটি বিষয়টি শুনলেও যিনি দাঁত ঘষছেন, তিনি অনেক সময় কিছুই বুঝতে পারেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোয়ালে ব্যথা, দাঁতে শিরশির ভাব বা মাথাব্যথা হওয়ার পর বিষয়টি টের পাওয়া যায়।
শিশুদের মধ্যে ঘুমের সময় দাঁত ঘষার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও তরুণদের মধ্যেও এটি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে দাঁত চেপে ধরা বা ঘষাকে বলা হয় স্লিপ ব্রুক্সিজম।
এটি সবসময় গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবেই এমন হতে পারে। তবে নিয়মিত ও দীর্ঘদিন ধরে দাঁত ঘষার অভ্যাস থাকলে দাঁত ও চোয়ালের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
তাই ঘুমের মধ্যে নিয়মিত দাঁত ঘষার বিষয়টি একেবারে হালকাভাবে না দেখে এর সম্ভাব্য কারণ ও ক্ষতির দিকগুলো জানা জরুরি।
তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
বর্তমান সময়ে তরুণদের জীবনযাত্রায় নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পড়াশোনা, চাকরি, ক্যারিয়ার, সম্পর্ক, আর্থিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে অনেকের জীবনেই মানসিক চাপ বেড়েছে।
দিনের এই চাপ শুধু জেগে থাকা অবস্থাতেই প্রভাব ফেলে না। অনেক সময় এর প্রভাব ঘুমের মধ্যেও দেখা যেতে পারে। উদ্বেগ বা মানসিক চাপের কারণে কেউ কেউ অজান্তেই চোয়ালের পেশি শক্ত করে রাখেন বা দাঁত চেপে ধরেন। ঘুমের সময়ও সেই প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
ফলে ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষার শব্দ হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি খুব হালকা হয়, আবার কারও দাঁত ঘষার শব্দ এতটাই জোরে হয় যে পাশের মানুষের ঘুম ভেঙে যায়।
তবে শুধু মানসিক চাপকেই এর একমাত্র কারণ বলা ঠিক নয়। একজনের ক্ষেত্রে যে কারণে দাঁত ঘষা হচ্ছে, অন্যজনের ক্ষেত্রে তার কারণ ভিন্ন হতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগের ভূমিকা
তরুণদের মধ্যে ঘুমের সময় দাঁত ঘষার অন্যতম আলোচিত কারণ মানসিক চাপ। পরীক্ষার চিন্তা, চাকরির অনিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক সমস্যা কিংবা আর্থিক দুশ্চিন্তা—এসব কারণে শরীর ও মনের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
স্ট্রেসের সময় শরীর অনেকটা সতর্ক অবস্থায় থাকে। ফলে চোয়ালের পেশিতে টান তৈরি হতে পারে। দিনের বেলায় কেউ হয়তো দাঁত চেপে ধরার বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু ঘুমের মধ্যে একই কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে হতে পারে।
বিশেষ করে যারা নিয়মিত দুশ্চিন্তায় থাকেন, সহজে ঘুমাতে পারেন না কিংবা ঘুমের মধ্যে বারবার জেগে ওঠেন, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নজরে রাখা দরকার।
এ কারণে ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষা দেখা দিলে শুধু দাঁতের চিকিৎসা নয়, দৈনন্দিন মানসিক চাপ ও ঘুমের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
রাত জাগা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব
তরুণদের জীবনযাত্রায় মুঠোফোন, কম্পিউটার ও ট্যাবলেট এখন নিত্যদিনের অংশ। পড়াশোনা বা কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা, গেম খেলা কিংবা অনলাইনে বিভিন্ন কাজে অনেকেই রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন।
ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে ঘুমের স্বাভাবিক প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। অনিয়মিত সময়ে ঘুমানো এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াও ঘুমের মান খারাপ করতে পারে।
অস্থির বা খারাপ মানের ঘুমের সঙ্গে কিছু মানুষের দাঁত ঘষার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত দাঁত ঘষার সমস্যা থাকলে নিজের ঘুমের রুটিনও খেয়াল করা দরকার।
প্রতিদিন একই সময়ের কাছাকাছি ঘুমাতে যাওয়া, পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো এবং ঘুমানোর আগে মুঠোফোন বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার কমানোর অভ্যাস উপকারী হতে পারে।
বিশেষ করে বিছানায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করে শরীর ও মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা করা ভালো।
নাক ডাকা বা শ্বাসের সমস্যা থাকলে সতর্ক হোন
ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষার সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া।
এ অবস্থায় ঘুমের সময় শ্বাসনালি বারবার আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে সমস্যা হয় এবং বারবার ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে।
যদি কারও নিয়মিত জোরে নাক ডাকার অভ্যাস থাকে, ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করার মতো শব্দ হয়, কিছু সময়ের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে বলে অন্য কেউ লক্ষ্য করেন, অথবা সকালে ঘুম থেকে উঠে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে—তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এ ধরনের লক্ষণ থাকলে শুধু দাঁত ঘষার বিষয়টি নিয়ে দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি ঘুম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
তবে নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলেই যে দাঁত ঘষতে হবে, এমন নয়। আবার দাঁত ঘষলেই স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। বিষয়টি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
নাক বন্ধ থাকা ও মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস
দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো কারণে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হলেও ঘুমের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হতে পারে।
রাতে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারলে ঘুম বারবার হালকা হয়ে যেতে পারে। এতে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং কারও ক্ষেত্রে দাঁত ঘষার প্রবণতার সঙ্গেও সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে নাক বন্ধ থাকা বা মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়াকে দাঁত ঘষার সরাসরি ও একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিয়মিত এমন সমস্যা থাকলে মূল কারণটি খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ।
চা-কফি ও ক্যাফেইনের দিকেও নজর দিন
তরুণদের মধ্যে চা, কফি ও এনার্জি ড্রিংক খাওয়ার প্রবণতা অনেকেরই রয়েছে। এসব পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে।
দিনের শুরুতে বা প্রয়োজনের সময় পরিমিত ক্যাফেইন গ্রহণ অনেকের জন্য সমস্যা তৈরি না করলেও সন্ধ্যার পর বা ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কারও কারও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে বা রাতে দাঁত ঘষার প্রবণতা বেড়েছে, তারা কিছুদিন সন্ধ্যার পর চা-কফি, এনার্জি ড্রিংক বা ক্যাফেইনযুক্ত কোমল পানীয় কমিয়ে দেখতে পারেন।
তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব একই রকম নয়। তাই নিজের ঘুমের ধরন ও অভ্যাসের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দাঁত কিড়মিড় করলে আসলে কী হয়?
মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষা হলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দাঁত চেপে ধরা বা ঘষা হলে দাঁত ও চোয়ালের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
দাঁতের ওপরের শক্ত আবরণ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। ফলে দাঁত আগের তুলনায় সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। ঠান্ডা বা গরম খাবার খেলে শিরশির বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
দাঁতের ক্ষয় বেশি হলে দাঁতের স্বাভাবিক আকৃতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। অতিরিক্ত চাপের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাঁতে ফাটল তৈরি হওয়ার বা দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
শুধু দাঁত নয়, চোয়ালের পেশি ও জোড়াতেও চাপ পড়ে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে চোয়ালে ব্যথা, শক্ত হয়ে থাকা বা মুখ খুলতে অস্বস্তি হতে পারে।
কারও কারও সকালে মাথাব্যথাও হতে পারে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা বা চোয়ালের আশপাশে ব্যথা থাকলে রাতে দাঁত চেপে ধরার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
পাশের মানুষই অনেক সময় প্রথমে বুঝতে পারেন
স্লিপ ব্রুক্সিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যিনি দাঁত ঘষছেন, তিনি নিজে অনেক সময় তা বুঝতে পারেন না।
পাশে ঘুমানো ব্যক্তি দাঁত ঘষার শব্দ শুনে প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করতে পারেন। কেউ কেউ সকালে উঠে চোয়াল বা দাঁতে ব্যথা অনুভব করার পরও বুঝতে পারেন না যে রাতে দাঁত ঘষেছেন।
তাই পরিবারের কেউ বা সঙ্গী যদি নিয়মিত রাতে দাঁত ঘষার শব্দের কথা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা ভালো।
একবার-দুবার এমন শব্দ হওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিয়মিত ঘটলে বা এর সঙ্গে দাঁত ক্ষয়, দাঁতের সংবেদনশীলতা, চোয়ালে ব্যথা কিংবা সকালে মাথাব্যথার মতো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন
শিশুদের মধ্যে ঘুমের সময় দাঁত ঘষার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। দাঁত ওঠার সময় চোয়াল ও দাঁতের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও সাময়িকভাবে এমন হতে পারে।
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা কমে যায়। তাই শুধু দাঁত ঘষার শব্দ শুনেই বাবা-মায়ের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে যদি এটি নিয়মিত হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা দাঁতের ক্ষতির লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে শিশুকে দন্তচিকিৎসকের কাছে দেখানো ভালো।
শিশুর ঘুমের ধরন, নাক ডাকা, শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খেয়াল করা প্রয়োজন।
কীভাবে বুঝবেন বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার মতো?
ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষার শব্দ শুনলেই যে চিকিৎসা দরকার, এমন নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
যেমন—
- দাঁতের ওপরিভাগ অস্বাভাবিকভাবে ক্ষয়ে যাওয়া;
- দাঁত ঠান্ডা বা গরমে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়া;
- দাঁতে ব্যথা বা অস্বস্তি;
- চোয়ালে ব্যথা বা শক্ত হয়ে থাকার অনুভূতি;
- সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত মাথাব্যথা;
- মুখ খুলতে বা চিবাতে অস্বস্তি;
- দাঁতে ফাটল বা ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা;
- নিয়মিত ও জোরে দাঁত ঘষার শব্দ হওয়া;
- জোরে নাক ডাকা;
- ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করা;
- ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার ঘটনা;
- সকালে ঘুম থেকে উঠে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগা।
এসব লক্ষণের কোনোটি থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
দাঁত ঘষা বন্ধ করতে কী করা যায়?
ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষার একটি নির্দিষ্ট কারণ সবসময় পাওয়া যায় না। তাই শুধু দাঁত ঘষার শব্দ বন্ধ করার চেষ্টা না করে এর পেছনে থাকা সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
প্রথমেই নিজের জীবনযাপন ও ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক করুন। প্রতিদিন মোটামুটি একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমান। বিছানায় যাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার বা ট্যাবলেট ব্যবহার না করাই ভালো।
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। দিনের দুশ্চিন্তা ও কাজের চাপ ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, বিশ্রাম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের শান্ত কোনো কাজে সময় দেওয়া সহায়ক হতে পারে।
রাতে ক্যাফেইন কমান। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি, এনার্জি ড্রিংক বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা যেতে পারে।
ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন। ঘুমের সময় অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা অন্য কোনো বিরক্তিকর বিষয় কমিয়ে আনা ভালো।
তবে এসব অভ্যাস পরিবর্তন করেও যদি দাঁত ঘষার সমস্যা থেকে যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ কেন জরুরি?
দীর্ঘদিন দাঁত ঘষলে দাঁতের ক্ষয় কতটা হয়েছে তা একজন দন্তচিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। দাঁতের কোথাও ফাটল বা অতিরিক্ত ক্ষয় হয়েছে কি না, চোয়ালের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে কি না—এসবও দেখা যায়।
প্রয়োজনে দন্তচিকিৎসক দাঁত রক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে রাতে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের মাউথগার্ড বা দাঁতের সুরক্ষার উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
তবে নিজের ইচ্ছায় বাজার থেকে যেকোনো ধরনের মাউথগার্ড কিনে ব্যবহার করা ঠিক নয়। দাঁতের অবস্থা ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আর যদি দাঁত ঘষার সঙ্গে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা হাঁসফাঁস করার মতো লক্ষণ থাকে, তাহলে শুধু দাঁতের চিকিৎসা নয়, ঘুমের সমস্যারও মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দাঁত ঘষার সঙ্গে যদি দাঁতে তীব্র ব্যথা, দাঁত ভেঙে যাওয়া, চোয়ালে তীব্র ব্যথা বা মুখ খুলতে বড় ধরনের সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
একইভাবে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, দম আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি, অতিরিক্ত নাক ডাকা বা সকালে নিয়মিত প্রচণ্ড ক্লান্তি থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
কারণ, এসব লক্ষণের পেছনে ঘুমের কোনো সমস্যা থাকতে পারে, যার আলাদা চিকিৎসা প্রয়োজন।
সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষা অনেক সময় সাময়িক একটি বিষয় হতে পারে। আবার নিয়মিত হলে এটি দাঁত, চোয়াল ও ঘুমের স্বাভাবিকতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তরুণদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত জীবনযাপন, রাত জাগা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের মতো বিষয়গুলো নিজের ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে নাক ডাকা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা থাকলেও তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে দাঁত ঘষার একটিমাত্র কারণ আছে—এমনটি ভাবা ঠিক নয়। ব্যক্তিভেদে এর কারণ ও মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
তাই নিজের বা কাছের কারও মধ্যে নিয়মিত ঘুমের সময় দাঁত ঘষার প্রবণতা দেখা গেলে প্রথমে আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। দাঁতের ক্ষয়, চোয়ালে ব্যথা, সকালে মাথাব্যথা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার মতো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কারণ, ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করা শুধু একটি বিরক্তিকর শব্দ নয়; নিয়মিত হলে এটি দাঁতের ক্ষতি, চোয়ালের সমস্যা কিংবা ঘুমের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
