ঘুমের ওষুধে সাময়িক স্বস্তি, দীর্ঘদিনে বাড়তে পারে বিপদ
ডেস্ক রিপোর্ট
রাতে বিছানায় যাওয়ার পর অনেকেরই সহজে ঘুম আসে না। কেউ দুশ্চিন্তায় ভোগেন, কেউ কাজের চাপ বা মানসিক অস্থিরতায় রাত জেগে থাকেন। আবার কারও জীবনযাত্রার অনিয়ম, অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, চা-কফি পান কিংবা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণেও ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে।
ঘুম না এলে অনেকেই সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করার পরিবর্তে দ্রুত সমাধান হিসেবে ঘুমের ওষুধের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। এতে সাময়িকভাবে ঘুম এলেও নিয়মিত বা দীর্ঘদিন নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধ সেবন করলে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সমস্যা হলে প্রথমে এর কারণ জানা জরুরি। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অনিয়মিত জীবনযাপন, কিছু শারীরিক অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। শুধু ঘুমের ওষুধ খেয়ে সমস্যাটি চাপা দিলে মূল কারণটি থেকে যেতে পারে।
কেন নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধ নয়
ঘুমের ওষুধ এক ধরনের নির্দিষ্ট চিকিৎসা-পদ্ধতির অংশ। কোন ওষুধ প্রয়োজন, কত মাত্রায় নিতে হবে এবং কতদিন ব্যবহার করা নিরাপদ—এসব বিষয় রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্য ওষুধ সেবনের ইতিহাস এবং ঘুমের সমস্যার কারণের ওপর নির্ভর করে।
তাই একজনের জন্য যে ওষুধ উপযোগী, অন্যজনের জন্য সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শ্বাসকষ্ট বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার সমস্যা আছে এমন ব্যক্তি এবং একসঙ্গে একাধিক ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
নিজে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া শুরু করলে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রা নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করলেও কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তৈরি হতে পারে নির্ভরতা
ঘুমের ওষুধের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো নির্ভরতা তৈরি হওয়া। সব ধরনের ঘুমের ওষুধ একই রকম নয় এবং সব ওষুধে আসক্তির ঝুঁকিও সমান নয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট ঘুমের ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার করলে শরীর ও মনের মধ্যে ওষুধটির ওপর নির্ভরতা তৈরি হতে পারে।
শুরুতে যে মাত্রায় ওষুধ খেয়ে ঘুম আসত, কিছুদিন পর একই মাত্রায় আগের মতো কাজ নাও করতে পারে। তখন কেউ কেউ নিজের ইচ্ছায় ডোজ বাড়িয়ে দেন। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
একপর্যায়ে এমন ধারণাও তৈরি হতে পারে যে, ওষুধ না খেলে ঘুম আসবেই না। তখন স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং ওষুধের ওপর মানসিক নির্ভরতা বাড়তে থাকে।
এই চক্র থেকে বের হওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঘুমের ওষুধ শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্ধারিত সময় ও মাত্রা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুম এলেই কি শরীর ভালোভাবে বিশ্রাম পায়?
অনেকে মনে করেন, ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই স্বাভাবিক ঘুমের সব উপকার পাওয়া যায়। বিষয়টি এতটা সরল নয়।
ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। শরীর ও মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধারের জন্য এসব পর্যায়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ঘুমের ওষুধ ঘুমের ধরন বা ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে ওষুধ খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লেও সেটি সবসময় স্বাভাবিক ঘুমের মতো সতেজতা এনে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন কিছু ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরদিন ঝিমঝিম ভাব, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা স্মৃতির ওপর প্রভাব পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে কোন ওষুধে কী ধরনের প্রভাব হবে, তা ওষুধের ধরন, মাত্রা, ব্যবহারের সময়কাল এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সকালে ঘুম ভাঙলেও ক্লান্তি কাটে না
ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের পর অনেকের সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পরও মাথা ভার লাগা, ঝিমঝিম ভাব, দুর্বলতা বা মনোযোগের ঘাটতি থাকতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা থাকলে দিনের স্বাভাবিক কাজেও প্রভাব পড়তে পারে। অফিস, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে গাড়ি চালানো, মেশিন পরিচালনা কিংবা এমন কোনো কাজ যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সতর্কতা প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাই কোনো ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের পর পরদিন শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি
ঘুমের ওষুধের কারণে অতিরিক্ত ঝিমুনি, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এর ফলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রাতে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাওয়ার সময় যদি মাথা ঘোরে বা শরীরের ভারসাম্য ঠিক না থাকে, তাহলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট লাগতে পারে।
এ কারণে বয়স্কদের ঘুমের সমস্যা হলে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ।
শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে
কিছু ঘুমের ওষুধ শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে ধীর করে এবং পেশি শিথিল করতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
যাদের আগে থেকেই ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ, কিছু ঘুমের ওষুধ এ ধরনের সমস্যাকে আরও গুরুতর করতে পারে।
ঘুমের মধ্যে জোরে নাক ডাকা, বারবার দম বন্ধ হয়ে আসা, হঠাৎ হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া—এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এ ধরনের সমস্যা থাকলে শুধু ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা না করে সমস্যার মূল কারণের চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
অ্যালকোহল বা অন্য ওষুধের সঙ্গে বিপদ বাড়তে পারে
ঘুমের ওষুধের সঙ্গে অন্য কিছু ওষুধ বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত ঘুম, মাথা ঘোরা, শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা কিংবা অন্যান্য গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
অনেকে মনে করেন, ঘুমের ওষুধের পাশাপাশি সামান্য অ্যালকোহল নিলে আরও ভালো ঘুম হবে। ধারণাটি বিপজ্জনক হতে পারে। কিছু ওষুধের সঙ্গে অ্যালকোহলের প্রভাব একসঙ্গে বেড়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া একজন ব্যক্তি যদি ব্যথার ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ, উদ্বেগ বা মানসিক সমস্যার ওষুধসহ অন্য কোনো ওষুধ সেবন করেন, তাহলে ঘুমের ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসককে সব ওষুধের কথা জানানো উচিত।
লিভার-কিডনির বিষয়ে সতর্কতা
ঘুমের ওষুধের প্রভাব শরীর থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়ায় লিভার ও কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যাদের লিভার বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ শরীরে বেশি সময় থাকতে পারে।
ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় ঘুমঘুম ভাব বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তবে সব ঘুমের ওষুধ সরাসরি লিভার বা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে—এমন কথা বলা ঠিক নয়। কোন ওষুধ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে, তা ওষুধের ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
তাই আগে থেকেই লিভার, কিডনি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো জরুরি।
হঠাৎ বন্ধ করাও ঠিক নয়
দীর্ঘদিন ধরে কিছু ধরনের ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করলে শরীর ওষুধটির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে আগের চেয়ে বেশি ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা অন্যান্য প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন কোনো নির্দিষ্ট ঘুমের ওষুধ সেবন করে থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে একদিনে তা বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে ওষুধ বন্ধ করার পরিকল্পনা দিতে পারেন।
ঘুমের সমস্যা হলেই ওষুধ প্রয়োজন নেই
রাতে এক-দুই দিন ঘুম কম হওয়া মানেই ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন—এমন নয়। মানুষের ঘুমের প্রয়োজন ও ঘুমের ধরন বয়স ও ব্যক্তিভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
কাজের চাপ, ভ্রমণ, পরীক্ষার উদ্বেগ, পারিবারিক সমস্যা বা সাময়িক মানসিক চাপের কারণে কয়েক দিন ঘুমের সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা কমে যায়।
তবে যদি নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হয়, দিনের কাজকর্মে এর প্রভাব পড়ে বা কয়েক সপ্তাহ ধরে সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য যা করা যায়
ঘুমের সমস্যা কমাতে প্রথমেই দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া দরকার। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা ভালো।
দিনের বেলায় নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।
রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। একইভাবে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিছানায় যাওয়াও ভালো নয়।
মোবাইল ও ডিজিটাল স্ক্রিন কমাতে হবে
বর্তমানে ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
অনেকে বিছানায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও বা বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন। এতে ঘুমানোর সময় পিছিয়ে যায় এবং মস্তিষ্কও সক্রিয় থাকে।
তাই ঘুমানোর আগে কিছু সময় মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস করা যেতে পারে। শোবার ঘরকে শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখাও ঘুমের জন্য সহায়ক।
দিনের ঘুমের বিষয়েও সতর্কতা
দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমালে অনেকের রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর অভ্যাস রাতে ঘুমের স্বাভাবিক সময়কে পিছিয়ে দিতে পারে।
তাই রাতে নিয়মিত ঘুমের সমস্যা থাকলে দিনের ঘুমের অভ্যাসও খেয়াল করা দরকার।
তবে কারও যদি শারীরিক কারণে দিনের বেলায় বিশ্রাম প্রয়োজন হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
মানসিক চাপ কমানোও জরুরি
অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা তৈরি হয় মূলত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে। বিছানায় যাওয়ার পর সারাদিনের কাজ, অর্থনৈতিক সমস্যা, পারিবারিক বিষয় কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার আগে মানসিক চাপ কমানোর উপায় খুঁজে দেখা জরুরি।
হালকা বই পড়া, শান্ত পরিবেশে কিছু সময় কাটানো, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের শান্ত কোনো কাজে সময় দেওয়া অনেকের জন্য সহায়ক হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
ঘুমের সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঘুম না আসা, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া, রাতে বারবার জেগে ওঠা, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া কিংবা ঘুমের কারণে কাজকর্মে সমস্যা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
একই সঙ্গে রাতে অতিরিক্ত নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, হাঁপিয়ে ওঠা বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের সমস্যা কেন হচ্ছে তা খুঁজে দেখবেন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, কাউন্সেলিং, আচরণগত চিকিৎসা বা প্রয়োজন হলে ওষুধের পরামর্শ দিতে পারেন।
ঘুম শরীরের প্রয়োজন, ওষুধের বিকল্প নয়
ঘুম মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে দিনের কাজ, মনোযোগ, মেজাজ ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে ঘুমের সমস্যা হলেই ওষুধকে প্রথম সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া ঠিক নয়। ঘুমের ওষুধ কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে উপকারী হতে পারে। কিন্তু নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন এসব ওষুধ ব্যবহার করলে নির্ভরতা, অতিরিক্ত ঝিমুনি, স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যা, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই ঘুম না এলে প্রথমে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ করা, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
সবশেষে, ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হলে সেটি চিকিৎসকের পরামর্শেই নেওয়া উচিত। কতদিন খেতে হবে, কত মাত্রায় নিতে হবে এবং কখন বন্ধ করতে হবে—এসব সিদ্ধান্তও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া নিরাপদ।
সাময়িকভাবে ঘুম এনে দেওয়াই মূল লক্ষ্য নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপদ ও স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা।
