কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলে কী ব্যবস্থা, পর্যালোচনার সুপারিশ

সার উৎপাদন বাড়ানো, পুরোনো কারখানা আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল নজরদারির সুপারিশ

ডেস্ক রিপোর্ট :

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহে বাধা দেওয়া বা বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা পর্যালোচনা করার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

একই সঙ্গে সার সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

বৈঠকে দেশের সার উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃষকদের কাছে সময়মতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার পৌঁছানো নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কি না, কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সার মজুত করে বাজারে সংকট তৈরি করছেন কি না—এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে উঠে আসে।

এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে কীভাবে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

কমিটির মতে, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিলারদের জবাবদিহির আওতায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল মনিটরিংয়ের সুপারিশ

সার সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াকে নজরদারির আওতায় আনতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সার কোথায় উৎপাদন হচ্ছে, কোথায় মজুত করা হচ্ছে এবং কোন এলাকার কৃষকদের কাছে কী পরিমাণ সার যাচ্ছে—এসব তথ্য দ্রুত জানা সম্ভব হবে।

ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মজুত কিংবা সরবরাহে অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

যমুনা কারখানায় দুই বছরে উৎপাদন মাত্র তিন দিন

বৈঠকে দেশের সার উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই বছরে গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় মাত্র তিন দিন সার উৎপাদন হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত থাকায় দেশের সার উৎপাদন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

বৈঠকে দেশের সার সংকট কমাতে এবং সার আমদানিতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

আশুগঞ্জ কারখানায় ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ

বৈঠকে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আশুগঞ্জ সার কারখানায় ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে একটি বড় সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে কৃষকের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি মনে করে, দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে সার আমদানিতে সরকারের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।

আমদানিনির্ভরতা কমানোর তাগিদ

বৈঠকে দেশের সার চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের কিছু সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় উৎপাদনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

এ কারণে যেসব কারখানা চালু রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বন্ধ কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটি দেশে সার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

পুরোনো কারখানা আধুনিকায়নের সুপারিশ

বৈঠকে পুরোনো সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

কমিটির পক্ষ থেকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এসব কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পুরোনো কারখানাগুলো আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা গেলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া যেসব সার কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বন্ধ কারখানা নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চায় কমিটি

বৈঠকে পে-অফকৃত সার কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সার কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।

দেশের সার উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান অবকাঠামোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে উঠে আসে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে দেশের সার উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার তাগিদ

বৈঠকে শুধু সার নয়, দেশের বীজ উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হয়।

বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

কৃষির উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের চাহিদা অনুযায়ী বীজ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির পরিকল্পনা জানতে চায় কমিটি

দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।

পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি মনে করে, ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিশেষ করে মানসম্মত বীজ, সার এবং কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিএডিসি ও বিসিআইসির কার্যক্রম পর্যালোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়।

সার উৎপাদন, মজুত ও বিতরণের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বিসিআইসি ও বিএডিসির রাসায়নিক সার উৎপাদন, মজুত এবং বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো জরুরি

কৃষি উৎপাদনের জন্য সার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। মৌসুমের সময় কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় সার না পৌঁছালে উৎপাদন কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে সার উৎপাদন থেকে শুরু করে মজুত ও বিতরণ—পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে হতে পারে। আবার সময়মতো সার না পেলে কৃষি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ কারণে সার ডিলারদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ডিলারদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ

সার বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষ করে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো এবং কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছানো সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উৎপাদন, মজুত ও বিতরণে সমন্বয় দরকার

বৈঠকে সার ব্যবস্থাপনার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দেশে পর্যাপ্ত সার উৎপাদন হলেও যদি তা সঠিকভাবে মজুত বা বিতরণ না করা হয়, তাহলে কোনো কোনো এলাকায় সংকট তৈরি হতে পারে।

আবার সার উৎপাদনে ঘাটতি থাকলে আমদানির ওপর চাপ বাড়ে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই কমিটি সার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চেয়েছে কমিটি

বৈঠকে সার ও কৃষি উপকরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

বিশেষ করে বন্ধ সার কারখানা পুনরায় চালু, পুরোনো কারখানা আধুনিকায়ন, দেশে সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিএডিসির মাধ্যমে বীজ উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

পরবর্তী বৈঠকে এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।

এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিসিআইসি, বিএডিসি এবং এসব প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

সার ব্যবস্থাপনায় নতুন নজরদারির উদ্যোগ

সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও অনিয়ম ঠেকাতে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালুর সুপারিশকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশে সার উৎপাদন বাড়ানো, বন্ধ কারখানা চালু করা, পুরোনো কারখানা আধুনিকায়ন এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সময়ে কৃষকদের কাছে পর্যাপ্ত সার পৌঁছানো জরুরি। এ জন্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম শনাক্ত করা, কৃত্রিম সংকটের কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথও আরও সুসংহত হবে।