কথা বলার অভ্যাস কমছে, ১৫ বছরে মানুষের দৈনিক কথাবার্তা কমেছে ২৮ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট

একসময় দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে দোকানদারের সঙ্গে দু-একটি কথা, রাস্তায় পরিচিত কারও সঙ্গে কুশল বিনিময়, বাসে বা ট্রেনে পাশের যাত্রীর সঙ্গে হালকা আলাপ—এসব ছিল দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রয়োজনীয় কাজটুকু সেরে মানুষ দ্রুত নিজের কাজে ফিরে যাচ্ছে। কোথাও লাইনে দাঁড়িয়েও কথা বলার বদলে হাতে থাকা মুঠোফোনের পর্দায় চোখ রাখছে।

ফলে মানুষের মুখোমুখি কথাবার্তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। শুধু দীর্ঘ আড্ডা নয়, প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট কথোপকথনও হারিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় মানুষের কথা বলার এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মানুষের দৈনিক কথা বলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই সময়ে বছরে গড়ে ৩৩৮টি শব্দ করে মানুষের কথাবার্তা কমেছে। ১৫ বছরের ব্যবধানে মানুষের দৈনিক কথা বলার পরিমাণ কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।

আগে একজন মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৯০০ শব্দ বলতেন। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১২ হাজার ৭০০ শব্দে।

অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২০০ শব্দ কম উচ্চারণ করছেন মানুষ।

গবেষকদের মতে, পরিবর্তনটি শুধু মানুষের ব্যক্তিগত অভ্যাসের বিষয় নয়। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ার কারণেও মানুষের স্বাভাবিক কথাবার্তার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিয়াস মেহল ও তাঁর গবেষক দল ২২টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মানুষের কথা বলার এই পরিবর্তনটি দেখতে পান।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘পার্সপেক্টিভস অন সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স’ জার্নালে।

গবেষকেরা মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মুখে উচ্চারিত শব্দের পরিমাণ কমেছে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটি বলছে না যে মানুষ একেবারেই কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। বরং মানুষের প্রতিদিনের কথোপকথনের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমেছে।

বিশেষ করে যেসব ছোট কথাবার্তা আগে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই হয়ে যেত, সেগুলো এখন অনেক কমে গেছে।

যেমন—দোকানে গিয়ে দোকানদারের সঙ্গে দু-একটি কথা বলা, ক্যাশ কাউন্টারে কর্মীর সঙ্গে কথা বলা, পথ জানতে কাউকে জিজ্ঞেস করা, প্রতিবেশীর সঙ্গে দেখা হলে কুশল বিনিময় করা কিংবা অপরিচিত কারও সঙ্গে হালকা আলাপ করা।

প্রযুক্তির কারণে এসব কথাবার্তার অনেকটাই এখন আর প্রয়োজন হয় না।

প্রযুক্তি কাজ সহজ করেছে, কথাবার্তা কমিয়েছে

মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য তৈরি হয়েছে নানা ধরনের প্রযুক্তি। এর ফলে অনেক কাজ দ্রুত এবং কম পরিশ্রমে করা সম্ভব হচ্ছে।

কিন্তু এর একটি অপ্রত্যাশিত প্রভাবও দেখা যাচ্ছে—মানুষের মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

আগে দোকানে গিয়ে পণ্য কিনতে হলে কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে হতো। এখন অনেক জায়গায় সেলফ-চেকআউট মেশিন ব্যবহার করা যায়।

আগে কাউকে রাস্তার ঠিকানা জিজ্ঞেস করতে হতো। এখন স্মার্টফোনের জিপিএস কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গন্তব্য দেখিয়ে দেয়।

আগে ব্যাংকে গিয়ে কর্মীর সঙ্গে কথা বলে অনেক কাজ করতে হতো। এখন মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই তা করা যায়।

আগে কোনো পণ্য কিনতে দোকানে গিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলতে হতো। এখন মোবাইল অ্যাপ খুলে পছন্দের পণ্য অর্ডার করা যায়।

অর্থাৎ প্রযুক্তি মানুষের প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অনেক জায়গা দখল করে নিয়েছে।

এর ফলে কাজের সময় বেঁচেছে, মানুষের ঝামেলা কমেছে। কিন্তু একই সঙ্গে ছোট ছোট সামাজিক কথাবার্তার সুযোগও কমেছে।

হারিয়ে যাচ্ছে ‘ছোট কথা’

মানুষের সামাজিক জীবনে ছোট কথাবার্তার গুরুত্ব অনেক।

কোনো দোকানে গিয়ে ‘কেমন আছেন?’ বলা, প্রতিবেশীর সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলা, লিফটে দাঁড়িয়ে অপরিচিত কারও সঙ্গে হালকা আলাপ—এসব কথার হয়তো কোনো বড় উদ্দেশ্য থাকে না।

তবু এসব কথাই মানুষের সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করে।

কেউ হয়তো কয়েক মিনিটের জন্য কথা বলছেন। কিন্তু সেই কথোপকথনের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে পরিচয়, বন্ধুত্ব কিংবা পারস্পরিক আস্থা।

গবেষণার ফলাফল থেকে যে বিষয়টি বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে তা হলো, এই ছোট কথোপকথনগুলো একসঙ্গে কমে যাওয়ায় মানুষের সামাজিক যোগাযোগের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

একটি বড় আড্ডা কমে যাওয়ার বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। কিন্তু প্রতিদিনের শত শত ছোট কথাবার্তা কখন কমে গেল, তা মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না।

মুঠোফোন কি তাহলে সব কথার বিকল্প?

অনেকের প্রশ্ন হতে পারে, মানুষ যদি মুখে কম কথা বলে, তাহলে তো মুঠোফোনে বার্তা পাঠাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করছে, চ্যাট করছে। তাহলে কথা বলা কমল কীভাবে?

গবেষকেরা বলছেন, লিখিত যোগাযোগ আর মুখোমুখি কথোপকথন এক বিষয় নয়।

টেক্সট মেসেজে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। দ্রুত যোগাযোগও করা যায়। কিন্তু কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, হাসি, আবেগ, বিরতি, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া—এসব সবসময় লিখিত বার্তায় একইভাবে প্রকাশ পায় না।

একজন মানুষ যখন সামনে বসে কথা বলেন, তখন শুধু শব্দ নয়, তাঁর কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের ভাষাও যোগাযোগের অংশ হয়ে ওঠে।

একটি ছোট হাসি, মৃদু কণ্ঠ, সহানুভূতির স্বর কিংবা হঠাৎ হেসে ওঠা—এসবের সামাজিক মূল্য রয়েছে।

লিখিত বার্তায় এসবের কিছুটা প্রকাশ করা গেলেও মুখোমুখি যোগাযোগের পুরো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না।

তরুণদের মধ্যে প্রবণতা বেশি

গবেষণায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কথা বলার পরিমাণ কমার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

এটি খুব একটা বিস্ময়কর নয়। কারণ তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের বড় একটি অংশ এখন স্মার্টফোন, অ্যাপ ও অনলাইন যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত।

বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার বদলে চ্যাট করা, দোকানে গিয়ে কথা বলার বদলে অনলাইনে পণ্য কেনা, কাউকে ফোন করার বদলে ছোট একটি বার্তা পাঠানো—এসব এখন স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের সুযোগ বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই যোগাযোগের ধরন বদলে দিয়েছে।

মানুষ হয়তো একসঙ্গে অনেক বেশি মানুষের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সবার সঙ্গে গভীর বা উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।

শুধু তরুণ নয়, বয়স্করাও বদলেছেন

কথা বলার অভ্যাস কমে যাওয়ার প্রবণতা শুধু তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বয়স্করাও এর বাইরে নন।

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

অনলাইন ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় সেবার কারণে আগে যেসব কাজ করতে অন্য মানুষের সাহায্য নিতে হতো, এখন অনেক কিছুই নিজেরাই করা সম্ভব।

ফলে প্রয়োজনীয় কথাবার্তার অনেক সুযোগ কমে গেছে।

অবশ্য বয়সভেদে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন আলাদা হতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবন যত বেশি স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, মুখোমুখি যোগাযোগের প্রয়োজন তত কমছে।

একাকিত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়

মানুষ সামাজিক প্রাণী। অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তার মানসিক ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাই মুখোমুখি যোগাযোগ কমে গেলে এর প্রভাব শুধু কথাবার্তার পরিমাণে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের সামাজিক যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যের সঙ্গে কথা বলা, নিজের কথা প্রকাশ করা এবং অন্যের কথা শোনা—এসবের মধ্য দিয়ে মানুষ সামাজিকভাবে সংযুক্ত থাকার অনুভূতি পায়।

যখন এই যোগাযোগ কমে যায়, তখন একাকিত্বের অনুভূতি বাড়তে পারে।

বর্তমান বিশ্বে একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেক মানুষ চারপাশে বহু মানুষ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে একা মনে করছেন।

এর পেছনে পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন, ব্যস্ত জীবন, নগরায়ণ, কর্মজীবনের চাপসহ অনেক কারণ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনও সেই তালিকায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।

প্রযুক্তি খারাপ নয়, ব্যবহারটাই গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণার ফলাফল দেখে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি দায়ী করার সুযোগ নেই।

প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে যোগাযোগ করা যায়। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, ব্যবসা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

সমস্যা তখনই তৈরি হতে পারে, যখন প্রযুক্তি মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগের জায়গা পুরোপুরি দখল করে নেয়।

একটি অ্যাপ মানুষের কাজ সহজ করতে পারে। কিন্তু সেই অ্যাপ ব্যবহারের কারণে যদি মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ একেবারেই না থাকে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগের একটি অংশ হারিয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রযুক্তির পাশাপাশি বাস্তব জীবনের যোগাযোগও ধরে রাখা জরুরি।

প্রয়োজন ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথাবার্তাও

মানুষের জীবনে এমন অনেক কথাবার্তা আছে, যার কোনো সরাসরি প্রয়োজন নেই।

দোকানদারের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলা, প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া, বাসে পাশে বসা যাত্রীর সঙ্গে দু-একটি কথা বলা কিংবা অফিসে সহকর্মীর সঙ্গে কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে আলাপ করা—এসবকে অনেক সময় আমরা সময়ের অপচয় মনে করি।

কিন্তু সামাজিক সম্পর্কের দিক থেকে এগুলো মোটেই অপ্রয়োজনীয় নয়।

এই ছোট ছোট কথাবার্তাই মানুষকে অন্য মানুষের সঙ্গে যুক্ত রাখে।

তাই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে এসব যোগাযোগের জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন।

কথার পরিমাণ কমা কি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে?

২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা যে পরিবর্তন দেখেছেন, তার পরের বছরগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেড়েছে।

স্মার্টফোন এখন আরও বেশি মানুষের হাতে। অনলাইন কেনাকাটা, ডিজিটাল পেমেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় সেবা ও বিভিন্ন অ্যাপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

তাই ভবিষ্যতে মানুষের মুখোমুখি কথাবার্তার ধরন কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

মানুষ হয়তো আগের মতো দোকানে গিয়ে কথা বলবে না। হয়তো রাস্তা জানতে অপরিচিত কাউকে জিজ্ঞেস করবে না। হয়তো অনেক কাজের জন্য মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

কিন্তু মানুষের সামাজিক জীবনে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন থেকেই যাবে।

যোগাযোগের ধরন বদলাচ্ছে

এই গবেষণার ফলাফলকে শুধু ‘মানুষ কথা বলা বন্ধ করে দিচ্ছে’—এভাবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না।

বরং বলা যায়, মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে যাচ্ছে।

আগে যেখানে মুখোমুখি কথা বলা ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, এখন সেখানে টেক্সট, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বড় জায়গা নিয়েছে।

কিন্তু যোগাযোগের মাধ্যম বদলালেও মানুষের সামাজিক ও আবেগগত চাহিদা একই আছে।

মানুষ এখনো অন্যের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করতে চায়। এখনো প্রয়োজন হয় সহানুভূতি, বন্ধুত্ব, স্বীকৃতি ও উষ্ণতার।

তাই ডিজিটাল যোগাযোগ বাড়লেও বাস্তব জীবনের কথোপকথনের গুরুত্ব কমে যায় না।

গবেষণার বার্তা কী

গবেষণায় মানুষের প্রতিদিনের কথাবার্তা কমে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, সেটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রযুক্তি আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধার বিনিময়ে আমরা যেন মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ হারিয়ে না ফেলি—এটাই বড় প্রশ্ন।

প্রতিদিনের জীবনে হয়তো খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন নেই। পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলা, প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া, বন্ধুকে ফোন করা কিংবা কোনো পরিচিত মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি বসে কিছুক্ষণ গল্প করা—এসবই সামাজিক সম্পর্ক ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কারণ সব কথার উদ্দেশ্য তথ্য দেওয়া নয়। কিছু কথার উদ্দেশ্য শুধু মানুষকে মানুষের কাছাকাছি রাখা।

প্রযুক্তির যুগে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ

মানুষের কথা বলার পরিমাণ ১৫ বছরে ২৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এটি আমাদের জীবনযাপনের পরিবর্তনেরও একটি চিত্র।

স্মার্টফোন, অ্যাপ, জিপিএস ও স্বয়ংক্রিয় সেবা আমাদের সময় বাঁচাচ্ছে। কিন্তু সেই সময়ের কিছুটা যদি আবার মানুষের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যবহার করা যায়, তাহলে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কও শক্তিশালী রাখা সম্ভব।

কারণ একটি ছোট কথোপকথন হয়তো জীবনের কোনো বড় সমস্যার সমাধান করে না। কিন্তু সেটি কাউকে হাসাতে পারে, একাকিত্ব কমাতে পারে, নতুন পরিচয় তৈরি করতে পারে কিংবা মনে করিয়ে দিতে পারে—এই ব্যস্ত পৃথিবীতে আমরা এখনো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।