এলএনজি সংকট কাটছে না, কার্গো আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা

 

সরাসরি কেনা চার কার্গোর একটিও আসেনি, জরুরি দরপত্রেও মিলেছে মাত্র দুইটির দর

দেশে গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে আগস্ট মাসের জন্য চারটি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত এসব কার্গোর একটিও দেশে পৌঁছায়নি। কবে আসবে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এ অবস্থায় গ্যাসের সরবরাহ আবার কমতে শুরু করেছে। নতুন কার্গো দ্রুত আনা না গেলে বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংকট সামাল দিতে সরকার জরুরি দরপত্রের মাধ্যমে আরও পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য দুটি কার্গোর দর পাওয়া গেছে। তবে বাকি তিনটির জন্য কোনো কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়নি। ফলে সেগুলোর জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করতে হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অবশ্য বলছেন, গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গো সময়মতো না আসায় নতুন করে দরপত্র ডেকে এলএনজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না।

সরাসরি কেনা কার্গো আটকে আছে

পেট্রোবাংলা ও এর আওতাধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাধারণত প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়। তবে টার্মিনালে ত্রুটির কারণে আগস্টে নয়টি কার্গো আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এর মধ্যে তিনটি কার্গো দরপত্রের মাধ্যমে, একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়, একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এবং চারটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে আনার কথা ছিল।

দরপত্রের মাধ্যমে কেনা তিনটি কার্গোর মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে দেশে এসে গ্যাস সরবরাহ করেছে। আরেকটি ২০ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকেও একটি কার্গো পাওয়া গেছে।

সৌদি আরামকোর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি এলএনজি কার্গো নিয়ে জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছিল। কিন্তু জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরের সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ ওই কার্গো গ্রহণ করেনি।

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা চার কার্গো নিয়ে। এসব কার্গোর সরবরাহের সময় এখনো নিশ্চিত নয়।

আরপিজিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরাসরি কেনা কার্গো সময়মতো না আসায় গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজ নিয়ে জটিলতা

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা চার কার্গোর মধ্যে দুটি সরবরাহ করার কথা ছিল হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির। গত রোববার প্রতিষ্ঠানটি একটি জাহাজের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়।

পরে যাচাই করে দেখা যায়, জাহাজটি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এ কারণে সরকার জাহাজটি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো জাহাজে করে এলএনজি আমদানি করা হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য জাহাজ বা আন্তর্জাতিক কোম্পানির লেনদেনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা বাকি কার্গোগুলোর সরবরাহের সময়ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো এখনো নিশ্চিত করেনি। তারা সময় পিছিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের অনুমতি চাইতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এতে সরাসরি ক্রয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সংকটের সময় দ্রুত গ্যাস পাওয়ার জন্যই দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।

বাজারদরের চেয়ে কম দামে কেনা নিয়ে প্রশ্ন

আগস্টের শুরুতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ছয়টি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে দুটি, ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুটি এবং হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে দুটি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্ল্যাককিউবের একটি কার্গো আগস্টে এবং আরেকটি সেপ্টেম্বরে আসার কথা। ম্যাক্সওয়েলের একটি কার্গো আগস্টে এবং অন্যটি অক্টোবরে সরবরাহের কথা ছিল। ঝেনইউর দুটি কার্গোই আগস্টে আসার কথা ছিল।

এই কার্গোগুলোর দাম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরপিজিসিএলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক মাস ধরে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ২০ ডলারের বেশি। গতকাল সোমবার দাম ছিল প্রায় ২২ ডলার।

কিন্তু সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্ল্যাককিউব প্রতি ইউনিটের দাম দিয়েছে ১৫ দশমিক ৫০ ডলার। ঝেনইউর দর ছিল আরও কম—১৪ দশমিক ৯৫ ডলার।

বাজারদরের তুলনায় এত কম দামে এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়ার পর কোম্পানি, কার্গোর উৎস এবং যে জাহাজে এলএনজি আনা হবে—এসব বিষয় আরও সতর্কভাবে যাচাই করা দরকার ছিল বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তাঁদের মতে, এখন যদি সরবরাহের সময় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর করা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তনের কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লাভবান হতে পারে। কারণ কম দামে চুক্তি করে পরে বেশি দামের বাজারে এলএনজি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ে এলএনজি সরবরাহ করতে না পারলে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকারীর জামানত থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার বিধান রয়েছে।

জরুরি দরপত্রেও পুরো সাড়া নেই

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলোর অনিশ্চয়তার মধ্যে গতকাল জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগস্টে সরবরাহের জন্য তিনটি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সরবরাহের জন্য দুটি—মোট পাঁচটি এলএনজি কার্গো কেনার প্রস্তাব চাওয়া হয়।

এর মধ্যে ২৩-২৪ আগস্ট সরবরাহের জন্য একটি এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য আরেকটি কার্গোর দর পাওয়া গেছে। দুটি ক্ষেত্রেই সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম। তাদের প্রস্তাবিত দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ২২ ডলার।

তবে বাকি তিনটি কার্গোর জন্য কোনো কোম্পানি দর দেয়নি। ফলে এসব কার্গো কেনার জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।

এতে সময় আরও কিছুটা লাগবে। আর এই সময়ের মধ্যে নতুন কার্গো না এলে গ্যাস সরবরাহের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

যুদ্ধের প্রভাবেও কমেছে সরবরাহ

বাংলাদেশ সাধারণত দুটি প্রধান উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে। এর একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, অন্যটি খোলাবাজার।

কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই দুই দেশ থেকে নিয়মিত এলএনজি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। কখনো এক বা দুইটি কার্গো পাঠানো হচ্ছে, আবার কখনো সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।

এ ছাড়া সৌদি আরামকোর সঙ্গে সরকারের একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। সরকারি পর্যায়ের এই চুক্তির আওতায়ও এলএনজি আমদানি করা হয়।

অন্যদিকে, খোলাবাজার থেকে পেট্রোবাংলার তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে এলএনজি কেনা হয়। বর্তমান সরকার তালিকা হালনাগাদ করে ২৯টি কোম্পানিকে এলএনজি সরবরাহের জন্য চূড়ান্ত করেছে।

তবে বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, সরবরাহকারীর সংখ্যা বা তালিকা থাকলেই হবে না; নির্ধারিত সময়ে কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।

টার্মিনাল চালু হলেও কমছে সরবরাহ

এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল। কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে।

এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। টানা ২৫ দিনের সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হয়। একই সময়ে এক্সিলারেটের টার্মিনালও আংশিকভাবে চালু করা হয়।

এর ফলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের চাপ কিছুটা উন্নত হয়।

কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গত দুই দিন ধরে সরবরাহ আবার কমছে। নতুন কোনো জাহাজ দ্রুত না এলে এই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ আবার কমেছে

সরবরাহের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির অবনতি দেখা যাচ্ছে। গত শুক্রবার বিকেলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছিল দৈনিক ১৬৪ কোটি ঘনফুটে।

পরদিন শনিবার রাতে সরবরাহ বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুটে ওঠে। এতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ে। কিন্তু এরপর আবার সরবরাহ কমতে শুরু করে।

রোববার মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৪০ কোটি ঘনফুট। গতকাল সোমবার তা আরও কমে ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ঘনফুট।

অর্থাৎ টার্মিনালগুলো আংশিকভাবে চালু হলেও এলএনজির নতুন কার্গো না আসায় সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কিছু শিল্পে স্বস্তি, কোথাও এখনো সংকট

শনিবারের পর গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি শিল্পকারখানা রোববার থেকে আবার উৎপাদনে ফিরতে শুরু করে।

তবে সব এলাকায় পরিস্থিতি এক নয়। কোথাও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের কাছাকাছি হলেও কোথাও এখনো প্রয়োজনীয় চাপ পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, গ্যাসের সরবরাহ আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের কারখানার উৎপাদন মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর মতে, নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ এখন সন্তোষজনক। নরসিংদীতেও সরবরাহ বেড়েছে। তবে গাজীপুরের কিছু এলাকায় এখনো সমস্যা রয়েছে।

অন্যদিকে, সাভারের লিটল স্টার স্পিনিং মিলসে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তাঁদের কারখানায় দিনে গ্যাসের চাপ থাকে ৫ পিএসআই এবং রাতে ১০ পিএসআই। কিন্তু গতকাল প্রয়োজনীয় চাপ পাওয়া যায়নি।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। অনেক কারখানাকে কম সক্ষমতায় চালাতে হয়, আবার কোথাও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত সংকট মোকাবিলা করা। কিন্তু সরাসরি ক্রয়াদেশ পাওয়ার পরও কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে এলএনজি সরবরাহ করতে না পারলে সেই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, সংকটের সময় দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যই সরাসরি এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সরবরাহ যদি সময়মতো না আসে, তাহলে সরাসরি কেনার উদ্দেশ্যই পূরণ হয় না।

তাঁর মতে, যারা নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের সময় বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। চুক্তি অনুযায়ী জামানত বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের কালোতালিকাভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দ্রুত নতুন এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে বাজারদর কিছুটা বেশি হলেও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সামনে কী

বর্তমানে বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে দ্রুত নতুন এলএনজি কার্গো দেশে আসার ওপর। আগস্টে আসার কথা থাকা চারটি সরাসরি কেনা কার্গোর কোনোটি এখনো না আসায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

জরুরি দরপত্রে পাঁচটি কার্গোর মধ্যে মাত্র দুটি নিয়ে দর পাওয়া গেছে। অন্য তিনটির জন্য কোনো কোম্পানি প্রস্তাব দেয়নি। আবার সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলোর সরবরাহের সময়ও নিশ্চিত নয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টার্মিনাল-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতিকে এখনো স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।

দ্রুত নতুন কার্গো আনা না গেলে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তখন শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য গ্রাহকের ওপর আবারও গ্যাসের চাপ কমার প্রভাব পড়তে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন মূল বিষয় হলো—ঘোষণা অনুযায়ী কার্গো সময়মতো দেশে আসে কি না। কারণ গ্যাসের সংকটের মধ্যে সরবরাহের সামান্য ঘাটতিও শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সংকট কিছুটা কমলেও পুরোপুরি কাটেনি। বরং সরাসরি কেনা এলএনজি কার্গো নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।