আহত পেঙ্গুইনের ক্ষত সারাতে তামা-দস্তার অভিনব পোশাক

ডেস্ক রিপোর্ট :
মাছ ধরার জালে আটকে আহত হওয়া পেঙ্গুইনকে সুস্থ করে তোলা বেশ কঠিন। অনেক সময় জালে আটকে তাদের শরীরে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে অস্ত্রোপচারও করতে হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত শুকানো এবং সেলাই সুরক্ষিত রাখাও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

পেঙ্গুইনের শরীরের গঠন ও নমনীয়তার কারণে তারা অনেক সময় নিজেরাই অস্ত্রোপচারের জায়গায় পৌঁছে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে ক্ষতস্থানে ঠোঁট দিয়ে আঘাত করতে পারে। এতে সেলাই খুলে গিয়ে ক্ষত আবারও বড় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই সমস্যার সমাধানে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন চিলির গবেষকেরা। তাঁরা আহত পেঙ্গুইনের জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ এক ধরনের পোশাক। পোশাকটির কাপড়ের তন্তুর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে অতি ক্ষুদ্র তামা ও দস্তার কণা।

গবেষকদের আশা, এই বিশেষ পোশাক পেঙ্গুইনের অস্ত্রোপচারের ক্ষত ঢেকে রাখার পাশাপাশি ক্ষতস্থানে জীবাণুর সংক্রমণ কমাতে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

পেঙ্গুইনের জন্য বিশেষ পোশাক

চিলির কোকিম্বোতে অবস্থিত হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারে আহত পেঙ্গুইনের ওপর এই বিশেষ পোশাক পরীক্ষা করা হয়েছে।

পোশাকটি দেখতে সাধারণ কাপড়ের মতোই। বাইরে থেকে দেখলে এতে ধাতব কোনো অংশ চোখে পড়ে না। বরং লাল রঙের কাপড়ের তন্তুর মধ্যেই তামা ও দস্তার অতি ক্ষুদ্র কণা মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ পোশাকটির ওপর আলাদা করে তামা বা দস্তার কোনো ধাতব প্রলেপ দেওয়া হয়নি। কাপড়ের তন্তুর সঙ্গে ধাতব কণাগুলো মিশিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে পোশাকটি পেঙ্গুইনের শরীরে ব্যবহার করা যায়।

এই বিশেষ পোশাক তৈরির ধারণাটি এসেছে চার পায়ের প্রাণীর জন্য তৈরি তামার বডিস্যুট থেকে। পরে পেঙ্গুইনের শরীরের গঠন ও চলাফেরার কথা বিবেচনা করে পোশাকটিকে নতুনভাবে তৈরি করা হয়।

এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেছে হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টার, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য নর্থ এবং টেক্সটাইল উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বা ভেট।

কেন পেঙ্গুইনের ক্ষত ঢেকে রাখা কঠিন?

পেঙ্গুইনের শরীরের গঠন অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় কিছুটা আলাদা। বিশেষ করে তাদের ঘাড় বেশ নমনীয়। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে সহজেই পৌঁছাতে পারে তারা।

অস্ত্রোপচারের পর এই বিষয়টি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষতস্থানে সেলাই থাকলে পেঙ্গুইন নিজের ঠোঁট দিয়ে সেটি টেনে ধরতে পারে। কখনো সেলাই খুলে ফেলতেও পারে।

এতে অস্ত্রোপচারের পর নতুন করে ক্ষত তৈরি হতে পারে। আবার ক্ষত খুলে গেলে সেখানে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। ফলে প্রাণীটির সুস্থ হয়ে উঠতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও পশুচিকিৎসক টমাস পিনো জানিয়েছেন, পেঙ্গুইনের নমনীয় ঘাড়ের কারণে অস্ত্রোপচারের জায়গা রক্ষা করা বেশ কঠিন।

এই বাস্তব সমস্যার কথা মাথায় রেখেই বিশেষ পোশাক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তামা ও দস্তা কেন ব্যবহার করা হয়েছে?

বিশেষ পোশাকটিতে তামা ও দস্তা ব্যবহারের পেছনে রয়েছে তাদের কিছু পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

গবেষকদের মতে, তামা ও দস্তা ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ কিছু ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে প্রাণীর সুস্থ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ক্ষতকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি জীবাণুর ঝুঁকি কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

দস্তা শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় একটি খনিজ। গবেষকদের মতে, নতুন রক্তনালি তৈরির প্রক্রিয়াতেও এর ভূমিকা রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনরুদ্ধারে এটি সহায়ক হতে পারে।

তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মাত্র কয়েকটি পেঙ্গুইনের ওপর পোশাকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাই এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।

পাঁচটি পেঙ্গুইনের ওপর পরীক্ষা

এখন পর্যন্ত পাঁচটি পেঙ্গুইনের ওপর এই বিশেষ পোশাক পরীক্ষা করা হয়েছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব পেঙ্গুইনের মধ্যে চারটি মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে আহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়াকে সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সমুদ্রে মাছ ধরার সময় জাল বা অন্যান্য সরঞ্জামে আটকে গিয়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের আহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। পেঙ্গুইনও এর শিকার হচ্ছে।

কোনো পেঙ্গুইন জালে আটকে গেলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা বা গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে। কখনো সেই আঘাত এতটাই গুরুতর হয় যে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ করে প্রাণীটিকে আবার প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়াই সংরক্ষণকর্মীদের অন্যতম লক্ষ্য।

শুধু ক্ষত ঢেকে রাখাই নয়

বিশেষ পোশাকটির প্রধান উদ্দেশ্য শুধু পেঙ্গুইনের ক্ষত ঢেকে রাখা নয়। বরং একই সঙ্গে ক্ষতস্থানে সুরক্ষা তৈরি করা।

সাধারণ কোনো কাপড় ব্যবহার করলে সেটি হয়তো ক্ষত ঢেকে রাখতে পারে। কিন্তু তামা ও দস্তার কণা মেশানো কাপড়ের ক্ষেত্রে গবেষকেরা অতিরিক্ত কিছু সুবিধার সম্ভাবনা দেখছেন।

তাদের ধারণা, কাপড়ের তন্তুর সঙ্গে থাকা ধাতব কণাগুলো ক্ষতস্থানে কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে দস্তার উপস্থিতি ক্ষত সারানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে।

তবে এই ফলাফলকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ এখনই নেই। কারণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পেঙ্গুইনের সংখ্যা খুবই কম।

আরও বেশি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং তুলনামূলক গবেষণার মাধ্যমে পোশাকটির কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

কোকিম্বোতে পেঙ্গুইন পুনর্বাসন

চিলির কোকিম্বোর হুমবোল্ট কনজারভেশন সেন্টারে আহত পেঙ্গুইনদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজ করা হয়।

এখানে হুমবোল্ট ও ম্যাগেলানিক—দুই ধরনের পেঙ্গুইনই পুনর্বাসন করা হয়।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করা পেঙ্গুইনকে প্রথমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আঘাত থাকলে অস্ত্রোপচারও করতে হয়। এরপর তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর পেঙ্গুইনকে আবার তার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া।

এই প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষত দ্রুত সারানো এবং অস্ত্রোপচারের জায়গা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন পোশাকটি গবেষকদের কাছে আশাব্যঞ্জক একটি উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।

হুমবোল্ট পেঙ্গুইন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হুমবোল্ট পেঙ্গুইন বর্তমানে সংরক্ষণের দিক থেকে উদ্বেগের একটি প্রজাতি।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন বা আইইউসিএনের তালিকায় হুমবোল্ট পেঙ্গুইনকে ‘ভলনারেবল’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইনকে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে দুই প্রজাতির সংখ্যাই কমে যাওয়ার বিষয়টি সংরক্ষণবিদদের জন্য উদ্বেগের।

এই পরিস্থিতিতে আহত পেঙ্গুইনদের দ্রুত চিকিৎসা করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চিলিতে হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের বড় অংশের বাস

চিলি বিশ্বের অন্যতম বড় তামা উৎপাদনকারী দেশ। সেই দেশেই বিশ্বের অবশিষ্ট হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের একটি বড় অংশের বাস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের অবশিষ্ট হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের প্রায় ৮০ শতাংশ চিলিতে রয়েছে।

ফলে দেশটির জন্য এই প্রজাতির সংরক্ষণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক পরিবেশ, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং মানুষের কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় তাদের টিকে থাকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মাছ ধরার জালে আটকে আহত হওয়ার মতো ঘটনা পেঙ্গুইনের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। তাই উদ্ধার ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

কমছে পেঙ্গুইনের সংখ্যা

চিলির ইউনিভার্সিদাদ দে কনসেপসিওনের বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ হাজার।

বর্তমানে সেই সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে বলে গবেষকদের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পরিবেশের পরিবর্তন, খাদ্যের প্রাপ্যতা, মানুষের কর্মকাণ্ড এবং মাছ ধরার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তাই শুধু আহত পেঙ্গুইনের চিকিৎসা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি ঝুঁকি কমানোও জরুরি।

জালে আটকে আহত হওয়ার ঝুঁকি

সমুদ্রে মাছ ধরার জাল পেঙ্গুইনের জন্য একটি বড় ঝুঁকি হতে পারে। জালে আটকে গেলে তারা সাঁতার কাটতে পারে না এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা থাকে।

এতে শরীরে আঘাতের পাশাপাশি পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

কখনো উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত তৈরি হতে পারে। গুরুতর আঘাত হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।

অস্ত্রোপচারের পর আবার নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে—সেলাই খুলে যাওয়া বা ক্ষতস্থানে সংক্রমণ। নতুন পোশাকটি মূলত এই চিকিৎসা-পরবর্তী সমস্যার একটি অংশ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রাণী সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা

আহত বন্যপ্রাণীকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা সংরক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু প্রতিটি প্রাণীর শরীর ও আচরণ আলাদা হওয়ায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।

পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে নিজের ঠোঁট দিয়ে পৌঁছে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে। তাই তাদের জন্য তৈরি পোশাকও হতে হবে নিরাপদ, আরামদায়ক এবং শরীরের সঙ্গে মানানসই।

তামা ও দস্তার কণা মেশানো এই পোশাক সেই প্রয়োজন পূরণ করতে পারে কি না, সেটিই এখন গবেষকদের আগ্রহের বিষয়।

প্রাথমিক পরীক্ষার ফল আশাব্যঞ্জক হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি আহত পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও গবেষণা প্রয়োজন

পাঁচটি পেঙ্গুইনের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও খুব সীমিত।

কোনো নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি বা উপকরণের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সাধারণত আরও বেশি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।

এ ছাড়া পোশাকটি পেঙ্গুইনের জন্য কতটা আরামদায়ক, দীর্ঘ সময় পরলে কোনো সমস্যা হয় কি না, ক্ষত সারার সময় কমছে কি না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাস্তবে কতটা কমছে—এসব বিষয়ও পরীক্ষা করতে হবে।

তাই গবেষকদের পরবর্তী কাজ হবে পোশাকটির কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে যাচাই করা।

প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়াই শেষ লক্ষ্য

একটি আহত পেঙ্গুইনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর মূল লক্ষ্য শুধু তার ক্ষত সারানো নয়। বরং প্রাণীটিকে এমনভাবে সুস্থ করে তোলা, যাতে সে আবার স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে ফিরে যেতে পারে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকেন্দ্রে দীর্ঘদিন আটকে রাখা কোনো সংরক্ষণ কর্মসূচির চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। যতটা সম্ভব সুস্থ করে উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

এই দিক থেকে অস্ত্রোপচারের ক্ষত দ্রুত ও নিরাপদে সারানো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

যদি তামা ও দস্তার এই বিশেষ পোশাক সত্যিই ক্ষত সুরক্ষায় কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে আহত পেঙ্গুইন পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা

মাছ ধরার জালে আটকে আহত পেঙ্গুইনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহজ কাজ নয়। অস্ত্রোপচারের পর ক্ষতস্থানের সুরক্ষা এবং সেলাই ঠিক রাখা চিকিৎসকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

এই সমস্যা সমাধানে চিলির গবেষকদের তামা ও দস্তার কণা মেশানো বিশেষ পোশাকের উদ্যোগ নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।

এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি পেঙ্গুইনের ওপর পোশাকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। আরও গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই উদ্যোগ প্রাণী চিকিৎসা ও সংরক্ষণে নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

বিশেষ করে হুমবোল্ট পেঙ্গুইনের সংখ্যা যখন কমছে এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের আহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তখন উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে দ্রুত সুস্থ করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিটি কার্যকর উদ্যোগই গুরুত্বপূর্ণ।

এক টুকরো বিশেষ কাপড় হয়তো একেকটি আহত পেঙ্গুইনের জন্য হয়ে উঠতে পারে সুস্থ হয়ে আবার সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা।