অর্থবছর বদলাতে ৫ সদস্যের কমিটি, এপ্রিল-মার্চ করার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা ঠিক করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। নতুন অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে শুরু করে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নির্ধারণ করবে এই কমিটি।
রোববার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সরকারের অর্থনৈতিক ও আইনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। এর ফলে অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক, আর্থিক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ তৈরি হবে।
কমিটিতে যারা আছেন
পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে।
কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের মতো বড় একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ অর্থবছর বদলালে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, ব্যাংকিং কার্যক্রম, হিসাবরক্ষণ এবং বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থাপনার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কী কাজ করবে কমিটি
সরকারি প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিটি অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে দেশের সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
অর্থবছর পরিবর্তনের কারণে সরকারের বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও হিসাবসংক্রান্ত ব্যবস্থায় যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, সেগুলোর বিষয়েও কর্মপন্থা ঠিক করবে কমিটি।
অর্থাৎ শুধু কাগজে-কলমে অর্থবছরের তারিখ পরিবর্তন করলেই হবে না। সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সফটওয়্যার, হিসাবব্যবস্থা, বাজেট প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
এসব বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করাই হবে কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ।
প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্যকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। অর্থাৎ কোনো বিশেষ বিষয়ে অতিরিক্ত দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির প্রয়োজন হলে তাকে কমিটিতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
১ এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবছর
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই এবং শেষ হয় পরবর্তী বছরের ৩০ জুন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই সময়সূচি বদলে যাবে।
অর্থাৎ আগামীতে অর্থবছর শুরু হবে এপ্রিল মাসে এবং শেষ হবে মার্চ মাসে।
এই পরিবর্তন দেশের সরকারি বাজেট ও আর্থিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তাই পরিবর্তনটি কীভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি সেই প্রস্তুতির কাজই করবে।
কেন অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো দেশের আবহাওয়া ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।
বাংলাদেশে সাধারণত জুলাই ও আগস্ট মাসে বর্ষার প্রভাব বেশি থাকে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
সড়ক নির্মাণ, সংস্কার, সেতু, কালভার্ট, ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বর্ষাকালে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বৃষ্টির কারণে অনেক সময় কাজের গতি কমে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। আবার বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ চলাকালে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়। কোথাও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, কোথাও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকা কিংবা কাদা-পানির কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ে।
সরকার মনে করছে, অর্থবছরের সময়কাল এপ্রিল থেকে মার্চ করা হলে বর্ষা আসার আগেই বছরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ বাড়বে।
বর্ষার আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের একটি বড় অংশ অবকাঠামো খাতের সঙ্গে যুক্ত। এসব প্রকল্পের অনেক কাজই সরাসরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষ করে সড়ক, মহাসড়ক, স্থানীয় রাস্তা, ড্রেন, সেতু ও বিভিন্ন নির্মাণকাজ শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলকভাবে সহজে করা যায়।
বর্তমান অর্থবছর জুলাই থেকে শুরু হওয়ায় অনেক সময় নতুন অর্থবছরের বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় বর্ষাকালের সঙ্গে মিলে যায়।
এর ফলে কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু বা বাস্তবায়নে সময় লাগে। বর্ষার কারণে কাজের গতি কমে গেলে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়তে পারে।
এতে একদিকে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সময় বাড়ে, অন্যদিকে প্রকল্পের কাজ শেষ করতেও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়।
এপ্রিল থেকে মার্চ অর্থবছর করা হলে এপ্রিল, মে ও জুন—এই সময়কে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। এরপর বর্ষা শুরু হলে বড় ধরনের নির্মাণকাজের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
সরকারের যুক্তি হলো, এভাবে অর্থবছরের সময়সূচির সঙ্গে দেশের মৌসুমি বাস্তবতার একটি ভালো সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব।
কাজের মানও বাড়তে পারে
বর্ষার সময় নির্মাণকাজ চললে শুধু কাজের গতি কমে না, অনেক ক্ষেত্রে কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উদাহরণ হিসেবে সড়ক নির্মাণের কথা বলা যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানি থাকলে রাস্তার নির্মাণকাজ যথাযথভাবে করা কঠিন হয়ে পড়ে।
একইভাবে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শুকনো আবহাওয়া না থাকলে কাজের মান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
এ কারণে সরকার মনে করছে, বর্ষার আগেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানও উন্নত হতে পারে।
তবে শুধু অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করলেই সব সমস্যা সমাধান হবে না। প্রকল্প গ্রহণ, দরপত্র, জমি অধিগ্রহণ, অর্থ ছাড় ও বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও দ্রুত করতে হবে।
বাজেট ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে
অর্থবছর পরিবর্তন হলে সরকারের বাজেট প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
বর্তমানে সরকার সাধারণত জুন মাসে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করে এবং ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হয়।
নতুন অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ হলে বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের সময়সূচিও নতুন করে সাজাতে হবে।
কোন সময়ে বাজেট প্রস্তাব তৈরি হবে, কখন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের চাহিদা দেবে, কখন বাজেট চূড়ান্ত হবে এবং কখন সংসদে তা উপস্থাপন করা হবে—এসব বিষয় নতুন সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
এ কারণে অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু একটি তারিখ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারের প্রায় পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনার সময়সূচি জড়িত।
হিসাব ও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য নানা ধরনের সফটওয়্যার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
অর্থবছরের সময়কাল বদলালে এসব ব্যবস্থায়ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব, বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি ক্রয়, বেতন-ভাতা, প্রকল্পের অর্থ ছাড় এবং আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির সময়সূচি নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকিং ও হিসাব ব্যবস্থার সঙ্গেও সরকারি আর্থিক কার্যক্রমের সমন্বয় করতে হবে।
কমিটির কার্যপরিধিতে তাই সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবিধান ও আইনেও পরিবর্তন প্রয়োজন
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।
সরকারের গঠিত কমিটি দেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
অর্থবছরের সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন আইন ও সরকারি বিধানে যেসব উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
এ জন্য কোন কোন আইন বা বিধিতে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করবে কমিটি।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জরুরি
অর্থবছর পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে সরকারের অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
বাংলাদেশ ব্যাংককে তার বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যাংকিং কার্যক্রম নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হতে পারে।
অর্থ বিভাগকে সরকারি বাজেট, ব্যয় ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব আদায়ের সময়সূচি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করতে হতে পারে।
অন্যদিকে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগকে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের বিষয়টি দেখতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এসব কাজের মধ্যে সমন্বয় করবে।
এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরিবর্তন বাস্তবায়নে বড় প্রস্তুতি দরকার
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন একটি বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তাই এটি বাস্তবায়নের আগে সরকারের সব আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করতে হবে।
একটি অর্থবছর শেষ হওয়ার সময় এবং নতুন অর্থবছর শুরুর সময় সরকারি হিসাব বন্ধ ও নতুন হিসাব খোলার কাজ হয়। সেই প্রক্রিয়া নতুন সময়সূচিতে কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।
একইভাবে চলমান প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, প্রকল্পের মেয়াদ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের সময়সূচিও নতুন অর্থবছরের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
চলমান প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। কারণ কোনো প্রকল্পের অনুমোদিত সময় যদি জুলাই-জুন অর্থবছর ধরে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তাহলে নতুন এপ্রিল-মার্চ ব্যবস্থায় সেটির হিসাব কীভাবে করা হবে, সেটিও ঠিক করতে হবে।
এসব বিষয় আগে থেকে পরিকল্পনা না করলে পরিবর্তনের সময় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর কমিটি
গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেই সিদ্ধান্তের পর এখন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির মাধ্যমে অর্থবছর পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।
এরপর এসব বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।
প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। অর্থাৎ বিশেষ কোনো বিষয়ে পরামর্শ বা কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা কর্মকর্তাকে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। তবে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, বর্ষার আগে অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ বাড়লে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য নির্মাণকাজের গতি বাড়তে পারে।
এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় কমতে পারে এবং বর্ষাকালে জনদুর্ভোগও কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে এর সুফল পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
শুধু অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করলেই কাজের গতি বাড়বে না। প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র, অর্থ ছাড় ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে হবে।
নতুন অর্থবছর ব্যবস্থার লক্ষ্য
সরকারের সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থবছরের সঙ্গে বাস্তব উন্নয়ন কার্যক্রমের সময়সূচির আরও ভালো সমন্বয় করা।
বাংলাদেশের জলবায়ু ও বর্ষাকেন্দ্রিক বাস্তবতায় এপ্রিল থেকে মার্চ অর্থবছর করলে শুষ্ক মৌসুমকে উন্নয়নকাজের জন্য বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে—এমনটাই মনে করছে সরকার।
এতে বর্ষার আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শেষ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যয়ের ব্যবস্থাপনাতেও নতুন একটি কাঠামো তৈরি হবে।
তবে এই পরিবর্তন সফল করতে হলে আগে থেকেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সামনে বড় দায়িত্ব কমিটির
নতুন পাঁচ সদস্যের কমিটির সামনে এখন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে।
প্রথমত, নতুন অর্থবছর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি চিহ্নিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বাজেট ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার সময়সূচি কীভাবে বদলানো হবে, তা ঠিক করতে হবে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে নতুন সময়সূচির সমন্বয় করতে হবে।
চতুর্থত, সরকারের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে।
সবশেষে পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন শুধু সরকারি হিসাবের একটি নতুন তারিখ নির্ধারণ নয়; এর সঙ্গে দেশের বাজেট, উন্নয়ন কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় ও সরকারি ব্যয়ের পুরো কাঠামো জড়িত।
তাই সরকার গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির সুপারিশ ও কর্মপন্থা বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে নতুন অর্থবছর ব্যবস্থা কতটা সহজ ও কার্যকরভাবে চালু করা যায়।
এখন দেখার বিষয়, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি কত দ্রুত শেষ করা যায় এবং এর মাধ্যমে বর্ষার আগেই উন্নয়নকাজ শেষ করার সরকারের লক্ষ্য কতটা বাস্তবে কার্যকর হয়।