ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও হয়রানি রোধে সত্যতা যাচাই ও সার্কুলার জারির নির্দেশ

রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়; নালিশি মামলায় বাদী ও

আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করারও নির্দেশনা।

আদালত প্রতিবেদক | জনতার কণ্ঠ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে যেকোনো নাগরিকের গ্রেপ্তার ও হয়রানি রোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে আদালতের এই নির্দেশনা প্রতিপালনে একটি বিশেষ সার্কুলার ইস্যু করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ সোমবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম এবং বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
মৌলিক অধিকার রক্ষা ও অসদাচরণের হুঁশিয়ারি:
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, “যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিধিবিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, নতুবা তা আইনের ব্যত্যয় হবে। ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়, যা রোধ করা সব শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।”
রিটকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা যদি সেন্ট্রাল ডেটা সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই না করেন এবং পরে সেই পরোয়ানা ভুয়া প্রমাণিত হয়, তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার এই অবহেলা ‘অসদাচরণ’ (Misconduct) হিসেবে গণ্য হবে।
মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়ি:
আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি দেশের সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের (জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজেএম এবং সিএমএম) কাছে এই নির্দেশনা পাঠান। নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য মামলার নথির সঙ্গে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ডের কপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট:
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে বিরোধী পক্ষকে হয়রানির বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০১৩ সালে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (HRPB)-এর পক্ষে এই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর আজ এই ঐতিহাসিক রায় দিলেন উচ্চ আদালত। আদালতে রিট পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।
image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted