Thursday, June 8জাতির কথা বলে
Shadow

ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স কাল

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন উপ-সহকারী মন্ত্রী ঢাকা আসছেন
কূটনৈতিক রিপোর্টার
ঢাকায় কাল থেকে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ ২৫টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিসহ হাইব্রিড ফর্মেটে বিভিন্ন দেশের দেড় শতাধিক প্রতিনিধি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। কোভিড পরবর্তী অবস্থা এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এবারের কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘পিস, প্রসপ্যারেটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফর আ রেসিলিয়েন্ট ফিউচার’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে গতকাল সেগুনবাগিচায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, সম্মেলনটি মূলত ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে আয়োজন করা হলেও এতে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। এ সম্মেলনে অংশ নিতে মরিশাসের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভারত, ভুটান, নেপাল, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিশেলস, শ্রীলঙ্কা, মাদাগাস্কারের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি ঢাকা আসছেন। কূটনৈতিক সূত্র আগেই জানিয়েছেন কেবলমাত্র সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার বাংলাদেশে আসছেন।

কূটনৈতিক সূত্র এ-ও নিশ্চিত করেছে মার্কিন সহকারী মন্ত্রী আফরিন আক্তার ঢাকার পথে রয়েছেন, বৃহস্পতিবার তিনি পৌঁছাবেন। তাদের সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে এরইমধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সম্মেলনের বাইরে তাদের কোনো কর্মসূচি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হচ্ছে না- এটা নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী মোমেন নিজেই।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্মেলনের সাইড লাইনে কোনো না কোনো ফর্মে সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভারত মহাসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনেতিক বাস্তবতার নিরিখে উক্ত সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মোমেন বলেন, এই সম্মেলনের আলোচনা থেকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো চলমান বৈশ্বিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মেরিটাইম এফেয়ার্স ইউনিটের সচিব মো. খোরশেদ আলম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মাশফি বিনতে সামসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ১২ ও ১৩ই মে ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কনফারেন্সটি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করা ছাড়াও সম্মেলনে আগত অতিথিদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নিবেন। এ পর্যন্ত সর্বমোট পাঁচটি সম্মেলন যথাক্রমে ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরে, ২০১৭ সালে শ্রীলংকায়, ২০১৮ সালে ভিয়েতনামে, ২০১৯ সালে মালদ্বীপে এবং ২০১১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ’৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে যখন কার্যক্রম শুরু করেন তখন তিনি সাগর ও সাগর অর্থনীতির ওপর বিশেষ জোর দেন। তার প্রগাঢ় বিচক্ষণতার মাধ্যমে তিনি আমাদের স্বাধীনতার পর পরই দেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বঙ্গোপসাগরের তাৎপর্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করেন, যা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সামুদ্রিক আইন। তদুপরি, তিনি সামুদ্রিক সীমানা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নেগোসিয়েশন সূচনা করার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেন, যাতে বাংলাদেশ তার জনগণের আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির জন্য টেকসইভাবে সমুদ্র সম্পদ অন্বেষণ করতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বলাই বাহুল্য যে, আমাদের সকল উন্নয়ন আকাক্সক্ষা আমাদের জাতির পিতার কাছ থেকে এসেছে। উন্নয়নে সমুদ্র অর্থনীতির প্রাসঙ্গিকতাও তিনিই প্রথম অনুধাবন করেছিলেন। সেই আলোকে, এই সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে সম্মেলনে আনুমানিক ২৫টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী/ মন্ত্রী/ প্রতিমন্ত্রী / উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া ডি-৮, সার্ক ও বিমসটেকের মহাসচিবসহ অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ আরও প্রায় ১৫০ জন বিদেশি অতিথি সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশে আগমন করবেন বলে আশা করছি। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ ছাড়াও অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ সম্মেলনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়া প্রথম দিনে (১২ই মে) চারটি প্রাক-সম্মেলন সেশন ও ১৩ই মে দিনব্যাপী মন্ত্রী পর্যায়ের ৪টি থিমেটিক সেশন হবে, যাতে আমন্ত্রিত মন্ত্রী ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া ১৩ তারিখ সকালে সকল মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *